সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

লেখালেখির আবেদন ফুরিয়ে যাবার নয়

লেখালেখির আবেদন ফুরিয়ে যাবার নয়

লেখালেখির আবেদন ফুরিয়ে যাবার নয়

জহির উদ্দিন বাবর। প্রায় দেড় যুগ ধরে লেখালেখি করছেন। মূলধারার গণমাধ্যমে বার্তা বিভাগে কাজ করছেন প্রায় দশ বছর ধরে। তাঁর জন্ম কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে। কওমি মাদরাসায় সর্বোচ্চ শ্রেণি দাওরায়ে হাদিস এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স করেছেন। পেশাদার সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা করেছেন এমআরটিতে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের সভাপতি। সম্পাদনা করছেন সাহিত্য সাময়িকী লেখকপত্র। তাঁর প্রকাশিত লিখিত ও অনূদিত বইয়ের সংখ্যা ৪০টির মতো। লেখালেখির কারণে অনেক সম্মাননাও পেয়েছেন। লেখালেখিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন আমার বার্তার সঙ্গে। লেখকের সঙ্গে কথা বলেছেন আমার বার্তার সহকারী সম্পাদক মাসউদুল কাদির।

প্রশ্ন : আসসালামু আলাইকুম।
উত্তর : ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

প্রশ্ন : কীভাবে লেখালেখিতে এলেন?
উত্তর : পরিবারে কেউ লেখক নেই। তবে বড় ভাই-বোনেরা সবাই শিক্ষিত। তাদের দেখাদেখি বইপত্র পড়ার একটা নেশা ছোটবেলাতেই গড়ে ওঠে। সেই নেশা থেকেই আস্তে আস্তে লেখার প্রতি ঝোঁক বাড়ে। এভাবেই দিনে দিনে লেখালেখির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যাই।

প্রশ্ন : অনুবাদ করছেন কেন? ঝোঁক নাকি সমাজের প্রয়োজনে?
উত্তর : অনুবাদ সাহিত্যের একটি স্বীকৃত ধারা। অনেক বড় বড় লেখকের পরিচিতির সঙ্গেও ‘অনুবাদক’ শব্দটি যুক্ত হয়। সাহিত্যের একটি অংশ মনে করেই টুকটাক অনুবাদের কাজ করি। অনুবাদের প্রতি বিশেষ কোনো ঝোঁক নেই, তবে সমাজের প্রয়োজন এবং সাহিত্যের একটি স্বীকৃত ধারা হিসেবে নিজেকে এটার একজন সেবক মনে করি।

প্রশ্ন : বর্তমানে অডিও-ভিডিও মানুষকে মাৎ করে রাখছে। পড়ালেখা না জানা লোকেরাও কনটেন্ট তৈরি করে জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় ইসলামকে তুলে ধরতে লেখালেখির গুরুত্ব কতখানি?
উত্তর : অডিও-ভিডিওর মতো বিকল্প মাধ্যমের যত প্রসারই ঘটুক লেখালেখির আবেদন কখনও ফুরিয়ে যাবে না। টেলিভিশন-রেডিওর প্রসারে বইয়ের আবেদন কিন্তু ফুরিয়ে যায়নি। অজস্র বই ও লেখা হাজার বছরও টিকে থাকার নজির স্থাপন করেছে। কোনো অডিও-ভিডিও এর সিকিভাগ সময়ও টিকে থাকবে বলে মনে হয় না। সুতরাং অডিও-ভিডিওর সঙ্গে লেখালেখির তুলনা করা ঠিক নয়।

প্রশ্ন : তরুণ লেখকরা এক ছাতার নিচে থাকতে আগ্রহী?
উত্তর : অবশ্যই আগ্রহী। শত বিভক্তির মধ্যেও তরুণরা এক ছাতার নিচে থাকতে পারে সেটা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম কী উদ্দেশ্যে গঠন করেছিলেন? সে লক্ষ্য পূরণে কতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছেন বলে মনে করেন?
উত্তর : ইসলামি ধারার তরুণ লেখকদের একটি ছাতার নিচে আনতেই মূলত ২০১২ সালে বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম থাকলেও তখন ইসলামি লেখকদের কোনো সংগঠন ছিল না। সেই শূন্যতাটুকু পূরণ করতেই আমরা কয়েকজন লেখক ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নিই। ফোরাম যে লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সেটা শতভাগ পূরণ না হলেও অধিকাংশ হয়েছে বলে আমার বিশ^াস।

প্রশ্ন : গত নয় বছরে সংগঠনটি লেখকদের গঠনে কেমন ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন? তৃণমূলে এর কোনো প্রভাব পড়েছে?
উত্তর : জি, গত নয় বছরে ফোরামের ব্যানারে লেখকদের গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বুনিয়াদি কর্মশালার মাধ্যমে তরুণ লেখকদের হাতে-কলমে লেখালেখির পাঠ দেওয়া হয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আমরা লেখকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এতে মফস্বলে থেকেও অনেকে লেখালেখিতে সরব।

প্রশ্ন : গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপনি তো আর সভাপতি হতে পারছেন না? তবে সাংগঠনিকভাবে আপনার অবস্থান কী হবে?
প্রশ্ন : সভাপতি হওয়া না হওয়া কোনো বিষয় নয়। চার বছর সাধারণ সম্পাদক এবং চার বছর সভাপতি ছিলাম। কোনো দিন পদের উষ্ণতা অনুভব করিনি। নিজেকে সবসময় ফোরামের একজন সদস্য হিসেবেই বিবেচনা করে আসছি। ভবিষ্যতেও ফোরামের সদস্য হিসেবেই থাকতে চাই।

প্রশ্ন : লেখক হওয়ার জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া কতটুকু জরুরি?
উত্তর : ব্যক্তিগতভাবে লেখক হওয়ার জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। সাংগঠনিক কার্যক্রম মূলত অনেককে নিয়ে একসঙ্গে চলার জন্য। যারা আত্মকেন্দ্রিক কিংবা নিভৃতচারী লেখক তারা সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া পছন্দ করবেন নাÑএটাই স্বাভাবিক। কারণ এতে তাদের লেখালেখির সাধনায় চিড় ধরে। কিছু লোক সংগঠনের জন্য নিজেকে যেমন উৎসর্গিত করবে, তেমনি কিছু লোক নীরবে-নিভৃতে লিখে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। দুই ধরনের লেখকেরই প্রয়োজন রয়েছে।

প্রশ্ন : মৌলিক লেখার প্রতি এখনও আগ্রহ বাড়ছে না কেন?
উত্তর : একদম আগ্রহ বাড়ছে না বললে ভুল হবে। মৌলিক লেখার প্রতি আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এখন ইসলামি ধারায় প্রচুর মৌলিক বইপত্র বের হচ্ছে। এই ধারা সামনে আরও শাণিত হবে। ইনশাআল্লাহ, একদিন এখানে আর শূন্যতা থাকবে না।

প্রশ্ন : বাজারে বইয়ের পাঠক আছে। কেনাবেচা হচ্ছে? কিন্তু ইসলামি মূলধারার লেখকদের বই নিয়ে পাঠকদের অতটা আগ্রহ নেই বলে অনেকে বলেন? এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
উত্তর: পাঠকের বিভিন্ন ধরন আছে। একদম সাহিত্যকেন্দ্রিক পড়াশোনা যারা করেন তারা হয়ত ইসলামি ধারার লেখকদের বইপত্র তেমন পড়েন না। কিন্তু ইসলামি ধারার লেখকদের একটি বড় পাঠক গোষ্ঠী রয়েছে। সেটা আপনি বাংলাবাজারে ইসলামি টাওয়ারে গেলেই দেখতে পারবেন। সাধারণ বইপত্র যেখানে শুধু ফেব্রুয়ারির বইমেলাকেন্দ্রিক সেখানে ইসলামি ধারার বইপত্র সারা বছরই সমান হারে বিক্রি হয়। সাধারণ শিক্ষিতদের মধ্যেও এখন ইসলামকে জানার আগ্রহ বাড়ছে। তারাও ইসলামি বইপত্র প্রচুর কিনছেন। ইসলামি বইকেন্দ্রিক এই বাজারটি আরও প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন, যদিও ২০/৩০ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগামী এক দশকে পরিবর্তনের এই ধারা হয়তো কাক্সিক্ষত জায়গাটিতে গিয়ে পৌঁছবে।

প্রশ্ন : ভালো থাকবেন। সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
উত্তর : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com