শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

মানুষের জীবন হোক কল্যাণময়

মানুষের জীবন হোক কল্যাণময়

মহিমান্বিত শবে বরাত

মানুষের জীবন হোক কল্যাণময়

একটি পবিত্র রাতের মৌলিক বিষয় হলো মানুষ সে রাতে পবিত্রতা অর্জন করবে। তাতেই দুনিয়ার মঙ্গল। মানুষ পবিত্র হয়ে উঠলে দেশই উপকৃত হয়। মানুষ ভালো হলে অন্য মানুষের জন্যও উপকার। এ জন্য ধর্ম মানুষের হৃদয়ের পবিত্রতা অর্জনে সহায়ক হয়। সত্যানুসন্ধানী মানুষের বিবেক জাগানিয়া শবে বরাত ধুয়ে মুছে সব পরিষ্কার করে দেবে বলেই আমাদের বিশ^াস। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত রাত পবিত্র শবে বরাত। আল্লাহ মানবজাতির জন্য তাঁর অসীম রহমতের দরজা খুলে দেন এ রাতে। ক্ষমাপ্রার্থনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করার সুযোগ ঘটে এ পবিত্র রাতে। বছর ঘুরে এ পবিত্র রাত আসে সৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে।

মুসলমানদের কাছে শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাতটি ‘লাইলাতুল বারাআত’। এর অর্থ মুক্তির বা নিষ্কৃতির রজনী। ইসলাম ধর্মে এ রাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি রজনীর একটি হিসেবে বিবেচিত। এ রাতে আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্য মানবজাতির রিজিক ও ভাগ্য নির্ধারণ করেন এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সব পাপ ক্ষমা করে দেন। এ রাতে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন; যাঁরা রিজিক অনুসন্ধানকারী তাঁরা প্রার্থনা করবেন রিজিকের জন্য। বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করবেন বিপদগ্রস্ত মানুষ। নিজের সারা জীবনের দোষ-ত্রুটি, পাপ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার এ রাত তাই মানুষের নৈতিক চরিত্র গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি সব ক্ষেত্রে অন্যায় পরিহার ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে সহায়তা করে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ রাতে নফল ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকতে মুসলমানদের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন রহমত ও দয়ার ভান্ডার। তাই মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এটি উৎসবের রাতও বটে। ধর্মীয় দিকের পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে এ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় মুসলিম সম্প্রদায়। তারা সাধ্যমতো ভালো খাবার তৈরি করে এবং প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে তা বিতরণের মাধ্যমে এর আনন্দটুকু ভাগ করে নেয়। ভালো খাবারদাবারের এ আয়োজন লোক দেখানো বিষয়ে পরিণত হলে তা হবে এ পবিত্র রাতের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এসব করার চেয়ে বরং এ রাতে গরিব-দুঃখীদের দান-খয়রাত করা এবং যারা সব সময় ভালো কিছু খেতে পারে না, তাদের জন্য সে ব্যবস্থা করাই হওয়া উচিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দায়িত্ব।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পবিত্র এ রাতে পটকা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ। এর বিরুদ্ধে প্রশাসনও তৎপর। তবে বিচ্ছিন্নভাবে এখনো কেউ কেউ তা করার চেষ্টা করে। এ রাতে পটকা বা আতশবাজি পোড়ানো একদিকে যেমন রাতটির পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য ক্ষুণ্ন করে, তেমনি যাঁরা রাতব্যাপী প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন, তাঁদের ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যাঘাত ঘটায়। শিশু-কিশোরেরা যাতে এ ধরনের কাজ করতে না পারে, সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও সজাগ থাকা প্রয়োজন। নিজের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি দেশ ও বিশ্বমানবতার মঙ্গলের জন্যও সব মুসলমান সর্বশক্তিমান আল্লাহর করুণা প্রার্থনা করবেন। পবিত্র এ রাতের কল্যাণে সুন্দর ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক আমাদের সবার জীবন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com