মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

মানবিক দৃষ্টান্ত : এমন ইউএনওবান্ধব বাংলাদেশ কাম্য

মানবিক দৃষ্টান্ত : এমন ইউএনওবান্ধব বাংলাদেশ কাম্য

মানবিক দৃষ্টান্ত : এমন ইউএনওবান্ধব বাংলাদেশ কাম্য

নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে একটি সোনার বাংলাদেশ প্রত্যাশা ছিলো প্রতিটি মুক্তিপাগল মানুষের। কিন্তু দুর্নীতি, ঘুষ, অপরাধ, কিশোরগ্যাংসহ মাদক অভয়ারণ্যে দেশ যখন সয়লাব তখন পিরোজপুরের কাউখালী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানবতার অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। খবরে জানা যায়, পিরোজপুরের কাউখালীতে করোনায় মৃত রেখা আক্তার (৪৫) নামে এক নারীর লাশ দাফনে পরিবার ও স্বজনরা কেউ এগিয়ে আসেননি। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক নারী উন্নয়নকর্মী মিলে লাশের গোসল করিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

শুক্রবার (৯ জুলাই ২০২১) গভীর রাতে উপজেলার উজিয়ালখান গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে ওই নারীর লাশ দাফন করা হয়। মৃত গৃহবধূ ওই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের স্ত্রী। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১০ দিন অসুস্থ ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউখালীর উজিয়ালখান গ্রামের এক নারী শুক্রবার (৯ জুলাই ২০২১) দুপুরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। করোনার ভয়ে স্বজনরাও লাশ ফেলে রেখে গা-ঢাকা দেন। অপরদিকে সংক্রমণের ভয়ে প্রতিবেশীরাও কেউ এগিয়ে আসেননি। মুসলিম পরিবারে এমন ঘটনা বড় আতঙ্কের। দেশে এমন ঘটনা বিরল। কারণ, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সমাজবদ্ধ জীবন চর্চা করে। লাশ রেখে পালিয়ে যাওয়া আশা করা যায় না। ঘটনার বাস্তবতা বুঝে কাউখালী উপজেলা ইউএনও নিজেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশ পড়ে রয়েছে বাড়িতে। এই খবর নাড়া দেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখাকে। শুক্রবার (৯ জুলাই ২০২১) রাত ১০টার দিকে লাশের গোসল করাতে উদ্যোগী হন তিনি। তাকে সহযোগিতা করেন স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন কর্মী মাহাফুজা মিলি এবং শামীমা আক্তার। রাত ১২টার দিকে কাউখালী উজিয়ালখান গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে ওই নারীর লাশ দাফন করা হয়।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, ‘মৃতদেহ দাফন বা সৎকার করতে তিন-চার ঘণ্টা সময় লেগে যায়। তিন ঘণ্টা পর ওই মৃতদেহে করোনাভাইরাসের কার্যকারিতা থাকে না।’ এ কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ মারা গেলে তাকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে ধর্মীয় রীতি মেনে সৎকার কিংবা পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা যাবে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে দাফন ও সৎকার নিয়ে প্রথমদিকে ভয় থাকলেও ক্রমে তা কেটে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ‘নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেহটি ব্যাগ বা পলিথিনে মুড়ে স্থানান্তর করা যায়।’

বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের ভালোবাসা বুঝে প্রশাসনের দায়িত্বশীলগণ কাজ করবেন-এমনটাই প্রত্যাশা সবার। কাউখালী উপজেলার ইউএনও’র অসামান্য এই চৈতন্যবোধ সব দায়িত্বশীলদের হৃদয় ছুঁয়ে যাক- আশা আমাদের।

-মাসউদুল কাদির

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com