সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

বাঙালির মহাকাব্য দাবায়ে রাখতে পারবা না

বাঙালির মহাকাব্য দাবায়ে রাখতে পারবা না

বাঙালির মহাকাব্য দাবায়ে রাখতে পারবা না

মুহম্মদ শফিকুর রহমান, এম পি

বাঙালির মহাকাব্য কি? এই প্রশ্নের উত্তরে কেউ বলবেন- মহাকবি কালিদাসের ‘শকুন্তলা’, কেউ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাথ বধ’, কেউ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’, কেউ মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদসিন্ধু’, বাঙালি হাজার বছরে বলবে আমাদের মহাকাব্য “দাবায়ে রাখতে পারবা না” তিনটি মাত্র শব্দ কিন্তু এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সুদুরপ্রসারী। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসের মহানায়ক বাঙালির জাতি-রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই মহাকাব্য সেদিনের সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র মানুষকে মুহূর্তে সশস্ত্র করে পাকিস্তানি ঔপানবৈশবাদী মিলিটারি জান্তার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং সমস্ত দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারেনি। আজও স্বাধীনতা-বিরোধী দেশি-বিদেশি শক্তির চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র পদদলিত করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবেই। প্রমত্তা পদ্মার ওপর আত্ন-অহংকারের সেতু থেকে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এক-দুই, ঢাকার মেট্রোরেল থেকে চট্রগ্রামের কর্নফুলি টানেল, গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ইত্যাদি এগিয়ে যাবার মহাসড়ক রচনা করেছে।

ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ। ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)। ঐতিহাসিক ১৯৭১ খ্রিঃ। স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তিপাগল ১০ লাখ বা ০১ মিলিয়ন জনতা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা কৃষক-শ্রমিকের কন্ঠের সাথে ছাত্রসমাজের কন্ঠ এক হয়ে স্লোগান ওঠে- ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘আপোশ না সংগ্রাম- সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই চলবেই’, ‘পিন্ডি না ঢাকা- ঢাকা ঢাকা’, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা- তোমার আমার ঠিকানা’, ‘৬ দফা ১১ দফা- এবার কেবল এক দফা’, ‘পরিষদ না রাজপথ- রাজপথ রাজপথ’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ- বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘জিন্নাহ মিয়ার পাকিস্তান- আজিমপুরের গোরস্থান’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল’ ইত্যাদি। তবে ৭ ই মার্চ সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। বক্তৃতা মঞ্চের ১৫/২০ মিটার দক্ষিণ পাশে দাঁড়িয়ে আমরা ঐসব স্লোগান দিচ্ছিলাম। লাখো জনতার হাতে লাঠি আর গগনবিদারী স্লোগান এমন এক আবহ তৈরি করেছিল সেই উত্তাল জনসমুদ্রের কথা ভাবলে আজও শরীরে শিহরণ জাগে। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম হিসেবে দাবি করতে পারি। সেদিন রেসকোর্সে পশ্চিমমুখ করে মঞ্চ বসানো হয়েছিল। ৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ের পর এই ভাষণ। আগেই ঘোষণা ছিল ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেবেন। জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিকেল তিনটা বিশ মিনিটে সভামঞ্চে আসেন এবং তার স্বভাব সুলভ আহ্বান- “ভায়েরা আমার”বলে ভাষণ শুরু করেন এবং ১৯ মিনিটে ১০৯৫ শব্দের সম্পূর্ণ অলিখিত ভাষণ এই বলে শেষ করেন-

“রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব,
এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
এবারের সংগ্রাম আমাদের
মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা”।

বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ যা বিগত আড়াই হাজার বছরের কালজয়ী রাজনৈতিক ভাষণের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। অথচ এই ভাষণকেও বিতর্কিত করার চক্রান্ত হয়েছে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির মত। তবে দুঃখজনকভাবে গ্রন্থ রচনা করে এই বিকৃতিতে অংশ নেন দুজন অত্যন্ত সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব বিচারপতি হাবিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর কমান্ডার এ আর ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার। তাদের বক্তব্য ছিল বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলে ভাষণ সমাপ্ত করেন। তখন অনেকেই প্রতিবাদ করেছিলেন। আমি এক জার্নালিস্টিক কলাম লিখেছিলাম তাতে ঐ দু’জন সম্পর্কে আমার বক্তব্য ছিল: বিচারপতি হাবিবুর রহমান হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন পরে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিও হন। ভদ্রলোক ওই জনসমুদ্রে ছিলেন কিনা জানিনা। আগেই বলেছি বক্তৃতা মঞ্চে মাত্র ১৫/২০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিয়েছি প্রথম থেকে শেষ শব্দটি পর্যন্ত বক্তৃতা শুনেছি। আমরা শুনলাম বঙ্গবন্ধুর ‘জয় বাংলা’ বলে বক্তৃতা শেষ করেছেন। বিচারপতি সাহেব কোথা থেকে শুনলেন ‘জয় পাকিস্তান’ উচ্চারণ করতে। অবশ্য অবাক হইনা এজন্য যে এই প্রধান বিচারপতি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাঝে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের সহযোগিতার কারণে নাগরিকত্ব হারানো গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এ আর ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার সাহেব তো আওয়ামীলীগের এমপি মন্ত্রী ও হয়েছিলেন। একাত্তরের ৭ ই মার্চ ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। তিনি কি করে শুনলেন বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছিলেন। আমরা মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে শুনলাম না তিনি শুনলেন। ইতিহাসবিদ গবেষক বঙ্গবন্ধু প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুনের একটি উক্তির কথা মনে পড়ে, স্বাধীন বাংলাদেশেও অন্তত ৩০ শতাংশ মানুষের বুকের ভেতর একটি করে পাকিস্তানি পতাকা রয়েছে। পরে শুনেছি বিচারপতি সাহেব ভুল স্বীকার করে তার ঐ বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ কে খন্দকার সাহেব করেছেন কিনা চোখে পড়েনি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে পাকিস্তানের ২৩ বছরের শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বর্ণনা। রাজনৈতিক ও সামরিক রূপরেখা প্রদান স্বাধীনতার ঘোষণা যা ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করেন এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্য গেরিলা যুদ্ধের ডাক।

বঙ্গবন্ধু শুরু করেন এভাবে যে, আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি কিন্তু দুঃখের বিষয় বিনিময়ে পাকিস্তানিরা আমাদের বুকে গুলি চালিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করেছে। বিগত সাধারণ নির্বাচনে জনগণ আমাকে এবং আওয়ামীলীগকে ভোট দেন। ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে আমরা শাসনতন্ত্র তৈরি করব এবং দেশকে রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক ভাবে গড়ে তুলবো। দুঃখের সাথে বলতে হয় ২৩ বছরের ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের বাংলার মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হবার করুন ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি, ৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেও গদিতে বসতে পারিনি, ৫৮ সালে আইয়ুব মার্শাল ল’ জারী করে ১০ বছর গোলাম করে রাখে। ১৯৭০ সালে আইয়ুব এর পতন হলে ইয়াহিয়া ক্ষমতায় বসে বললেন দেশে গণতন্ত্র দেবেন, শাসনতন্ত্র দেবেন। আমরা মেনে নিলাম। পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তাকে বললাম জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দিতে। পিপিপি নেতা ভুট্রো বললেন পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা এখানে এলে এসেম্বলি কসাইখানা হবে। তারপর অধিবেশন বন্ধ করে দেওয়া হল। দোষ দেওয়া হল আমাকে বাংলার মানুষকে। এমনকি ইয়াহিয়া বেতারে ঘোষণা দিলেন “Mujib is a traitor, this time he will not go unpunished”. অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলাম। জনগণ সাড়াদিল। ইতিহাসের নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন হল। গরিবের রোজগারের পথ রিক্সা, গরুর গাড়ি, ট্রেন, লঞ্চ ছাড়া আর সব বন্ধ করে দেয়া হল এবং নির্দেশ দেয়া হল ২৮ তারিখের মধ্যে বেতন ভাতা দিয়ে দিতে। ২৫ তারিখ এসেম্বলি কল করেছে। শহিদের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ১০ তারিখ রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সএ যাবে না। এসেম্বলিতে যেতে হলে চারটি দাবি পূরণ করতে হবে: সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে সামরিক বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে প্রতিটি হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে হবে জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে এরপরই স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধু গেরিলা যুদ্ধের রুপরেখা দেন: প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা কর আমি যদি হুকুম দেওয়ার নাও পারি তোমরা সব কিছু বন্ধ করে দেবে আমরা ভাতে মারব আমরা পানিতে মারব আর আমার বুকে গুলি চালানোর চেষ্টা করোনা, ভাল হবে না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না যে পর্যন্ত দেশের মুক্তি না হবে সে পর্যন্ত খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হল। কেউ দেবে না। ২ ঘন্টা ব্যাংক খোলা থাকবে শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষের মাইনে পত্র নেবার জন্য। পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের এক পয়সাও চালান হতে পারবে না
টেলিফোন টেলিগ্রাম পূর্ব বাংলায় চলবে এবং বিদেশের সাথে দেয়া নেয়া চলবে না।

এরপরই বঙ্গবন্ধু একটি বাক্য উচ্চারণ করেন যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয় বাঙালিরা ‘বুঝে শুনে’ কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ‘সংগ্রাম পরিষদ’ গড়ে তোলো এবং যার যা আছে তাই নিয়ে ‘প্রস্তুত থাকো’। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।তৃতীয় অধ্যায় এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এই ঘোষণা ছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে- আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। আমি এদেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি বাঙালিরা বুঝেশুনে কাজ করবেন
পাড়ায় মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো সবাই প্রস্তুত থাকো যদি ‘হুকুম দেবার নাও পারি’ বা ‘বুঝে শুনে’ বা ‘সংগ্রাম পরিষদ’ এই কথাগুলো প্রত্যেকটি দ্যর্থবোধক এবং সিগনিফিকেন্ট। সুদুরপ্রসারী। বঙ্গবন্ধুর এই বক্তৃতার পর একটি গ্রুপ বলতে শুরু করল কেন সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন না। সরাসরি ঘোষণা দিল অর্থাৎ যা ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে দিলেন, তাহলে পাকিরা এত গণহত্যার সুযোগ পেত না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু দুনিয়ার বিপ্লবের ইতিহাস জানতেন। ইম্যাচুর বা হঠকারী ঘোষণা যে সফল হয়না তা তিনি জানতেন। তার সামনে বায়াপ্রার দৃষ্টান্ত যেমন রয়েছে তেমনি ভারতবর্ষের মহান বিপ্লবী নেতাজি সুভাষ বোসের “Give me blood i will give you independence” বলে হারিয়ে যাবার উদাহরণ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেদিন এমনভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন তাতে সব কিছুই বললেন। আবার তাকে অভিযুক্ত করা গেল না।অর্থাৎ সাপও মরল লাঠিও ভাংলোনা। বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলার সুযোগ রইল না। বললেন এসেম্বলি কল করেছেন তার আগে আমার দাবি মানতে হবে বলে মার্শাল ল প্রত্যাহার, জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর সহ চারটি দাবি দিলেন। এতে করে বঙ্গবন্ধু চ্যাম্পিয়ন অব ডেমোক্রসি এবং মহান বিপ্লবী বলে বিশ্বে পরিচিত হলেন। বিশ্বে মিডিয়াও অবাক হল, কোন দোষ চাপাতে পারলনা। ২৫ মার্চ রাতে যখন নিরস্ত্র মানুষের ওপর পাকি সামরিক জান্তা ট্যাংক-কামান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল গণহত্যা শুরু করল তখন স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন-
“This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to racist the army of occupation to the last”.
“Your fight must go on until the last soldier of the Pakistani occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved”.

লক্ষ্য করার বিষয় হল এই ঘোষণার প্রতিটি শব্দ প্রতিটি বাক্য বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে চোখ থাকতে হবে। রাজনৈতিক জ্ঞান থাকতে হবে।স্বাধীনতাবিরোধী চোখ দিয়ে দেখলে হবে না।ঘোষণার আগেই বঙ্গবন্ধু জাতিকে তৈরি করেন, দলকে সংগঠিত করেন, দলের নেতাদের সবাইকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন কোথায় যেতে হবে, কার কার সাথে দেখা করতে হবে। এক্ষেত্রে ভারতের মহীয়সী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নাম সবার আগে আসে। নিজে ৩২ নং বাড়ি থেকে সরেননি। বিএনপি সহ বেশকিছু দল একে বঙ্গবন্ধুর সারেন্ডার (?) বলে প্রপাগান্ডা করছে আজও। বঙ্গবন্ধু এত বড়ো মাপের নেতা ছিলেন যে মিলিটারির চামচাদের তাঁকে বোঝার ক্ষমতা স্বাভাবিক ভাবেই নেই। যে কারণে বঙ্গবন্ধুর উপর ৫০ বছর পরেও হাজার হাজার প্রবন্ধ লেখা হয়েছে হাজার হাজার গ্রন্থ রচিত হয়েছে, তারপরও এখনো অনেক কিছু লেখা বাকী। শেষ হবেনা কোনদিন। শতবর্ষ পরেও মানুষ লিখবে। শুরুতেই আমি বলেছি বাঙালির মহাকাব্য হল ‘দাবায়ে রাখতে পারবানা’ ।পারেওনি। আজ তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর্থসামাজিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এমন এক উচ্চতায় উঠে এসেছে যা বিশ্বের বিস্ময়। অনেক দেশের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। পিতা দিলেন স্বাধীনতা, কন্যা দিলেন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত বাংলাদেশ। জয়তু বঙ্গবন্ধু, জয়তু শেখ হাসিনা। পিআইডি নিবন্ধ
লেখক : সংসদ সদস্য, সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেসক্লাব
০২.০৩.২০২২

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com