শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ১০:১৭ অপরাহ্ন

প্রাণের মদীনা জিয়ারতের তাৎপর্য

প্রাণের মদীনা জিয়ারতের তাৎপর্য

মুফ্তি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

প্রিয় পাঠক! প্রিয়নবীর প্রিয় শহর মদীনা মুনাওয়ারার জিয়ারত প্রত্যেক মুমিনের বাসনা। প্রকৃত মুমিনের হৃদয় সর্বদা মদীনার জিয়ারতে ব্যাকুল থাকে; যে পবিত্র ভূমি নবীকুল শিরমনি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুকে ধারণ করে চিরধন্য; যার কোলে ঘুমিয়ে আছেন ইসলামের অতন্ত্র প্রহরী হাজারো সাহাবায়ে কেরাম। যে পবিত্র শহরে অবিরত ছড়ায় বেহেশতি সুবাশ, যেখানে প্রিয়নবীর পবিত্র রওজার সাথে আছে একখন্ড জান্নাতের বাগান। এ বরকতময় নগরী সম্পর্কে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, হে আল্লাহ! আপনি মক্কায় যেভাবে বরকত দান করেছেন, তার দ্বিগুণ বরকত মদীনায় দান করুন। (বুখারি : ১৭৬৪)

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেন, যে কেউ মদীনাবাসীর সাথে ষড়যন্ত্র বা প্রতারণা করবে, সে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে যেভাবে লবণ পানির মধ্যে মিশে নিশ্চিহ্ন যায়। (বুখারি: ১৭৫৬)
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র ইরশাদ করেন, আমার মিম্বার ও রওজার মাঝখানের অংশটুকু জান্নাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচা। (বুখারি: ১১৯৫)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র আরো ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যার পক্ষে সম্ভব হয়, সে যেন মদীনায় মৃত্যুবরণ করে। কেননা যে ব্যক্তি মদীনায় মৃত্যুবরণ করবে, কেয়ামতের দিন আমি তাঁর জন্য সুপারিশ করবো। (তিরমিজি : ৩৯১৭)

হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার মসজিদ তথা মসজিদে নববীতে লাগাতার চল্লিশ ওয়াক্ত নামায এমনভাবে আদায় করে যে, এর মধ্যে এক ওয়াক্ত নামাযও ছোটেনি, তাকে মুনাফেকি ও জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। (মুসনাদে আহ্মদ: ১২৫৮৩)

মদীনার নাম শোনামাত্রই হৃদয়ের আয়নায় ভেসে ওঠে সবুজ গম্বুজের ছবি; যার ছায়ায় শায়িত আছেন আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। রওজায়ে রাসূল জিয়ারতের মাধ্যমে নবীপ্রেমিক উম্মতের তৃষ্ণার্ত আত্মা সতেজ হয়। জিয়ারতে মদীনা ব্যতীত শুধুমাত্র বাইতুল্লাহর জিয়ারতে মুমিন কখনো তৃপ্ত হতে পারে না।

হযরত ইব্নে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে আমার ওফাতের পর আমার (রওজা) জিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করল। (সুনানে দারাকুতনি: ২৬৯৪)

তাই প্রত্যেক বাইতুল্লাহর মুসাফিরের উচিৎ অত্যন্ত আদব, ভক্তি, বিনয় ও মহব্বত নিয়ে সোনার মদীনায় হাজির হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা শরীফও জিয়ারত করা এবং তাঁর শানে অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা।

সালামের শব্দগুলো হলো:
আস্সলাতু ওয়াস্সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ।
আস্সলাতু ওয়াস্সালামু আলাইকা ইয়া নাবীয়াল্লাহ।
আস্সলাতু ওয়াস্সালামু আলাইকা ইয়া হাবীবাল্লাহ।
আস্সলাতু ওয়াস্সালামু আলাইকা ইয়া শাফিয়াল মুযনিবীন।
আস্সলাতু ওয়াস্সালামু আলাইকা ইয়া রাহ্মাতাল লিল আলামিন।

সম্মানিত পাঠক! প্রত্যেক খোদাপ্রেমিক মুমিন বান্দাই জিয়ারতে মক্কা ও জিয়ারতে মদীনার স¦প্ন লালন করে, সর্বদা তৃষ্ণার্ত থাকে জিয়ারতের পিপাসায়। প্রকৃত প্রেমিক বান্দা কখনো বাইতুল্লাহ ও মদীনার জিয়ারতে তৃপ্ত হয় না। বরং প্রতিবার জিয়ারতে পিপাসা আরো প্রবলভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ফিরে এসে প্রতিটি মুহূর্তে সে দগ্ধ হতে থাকে মক্কা ও মদীনার বিরহ বেদনায়।

তাই মহান প্রভুর দরবারে আমাদের এই মিনতি, হে আল্লাহ! আপনার সকল প্রেমিক বান্দাদের দয়ার চাদরে আবৃত করে হজ ও উমরার মাধ্যমে বার বার জিয়ারতে বাইতুল্লাহ ও জিয়ারতে মদীনার তাওফিক দান করুন। আমিন।।

লেখক : খতিব, মাসজিদুল কুরআন জামে মসজিদ কাজলা ঢাকা ও প্রিন্সিপাল, মারকাযুল ঊলূম আজিজিয়া মাদ্রাসা ঢাকা
helaluddinhabibi87@gmail.com

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com