সোমবার, ০৭ Jun ২০২১, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

নকীবের সাহিত্যসভায় ফররুখকে স্মরণ

নকীবের সাহিত্যসভায় ফররুখকে স্মরণ

নকীবের সাহিত্যসভায় ফররুখকে স্মরণ

মাসউদুল কাদির :: কবি ফররুখ আহমদ-এর দরবারে দাঁড়াবার সুযোগ পেতাম। কবি যদিও ১৯৭৪ এ ইহজগত ত্যাগ করেন। নব্বইয়ে আমরা খুব ছোট। প্রতিদিন শাহজাহানপুর রেলওয়ে স্কুল মাঠে খেলতে যাই। হিলফুল ফুজুল জামে মসজিদের পাশে একটা টিওবওয়েল ছিল। এ কলে আমরা হাত পা ধুতে যেতাম। একদিন হঠাৎ দেখি কবির নাম লেখা। ভালো করে তাকিয়ে দেখি, কবি কবি ফররুখ আহমদ-এর কবরস্তান। তার কিছু কবিতা আমার তখনো মুখস্ত ছিলো। বন্ধুদের বল্লাম। এরা বিষয়টিকে পাত্তাই দিলো না। পথেঘাটে কত মানুষের কবর থাকে। এ নিয়ে এত মাতামাতির কী আছে। ভবিষ্যতে আমিও কিছু লেখালেখির সুযোগ পাবো-এমন কোনো ধারণা আমার তখন ছিলো না।

যা হোক, যখন কবির মাযারের পাশে গিয়েছি তখনই পড়তাম, আসসালামুআলাইকুম ইয়া আহলার কুবুর…।

শুক্রবার সকালে জাতীয় শিশু কিশোর পত্রিকা মাসিক নকীবের আয়োজনে ভাই মুনতাছির ও কবি জিয়াউল আশরাফ-এর পরিচালনায় আবার ফররুখ হয়ে উঠেছিলেন আলোচনার মানুষ।
কবি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মলাভ করেছেন। অভিজাত পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। তাঁর পিতা খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। ফররুখ আহমদ ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ (১৯৩৯) পাস করে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

কবিকে যতই পড়েছি মনে হয়েছে তিনি মানুষ জাগাতেই এসেছিলেন পৃথিবীতে। যেমন বলেছেন, তবু তুমি জাগলে না। তার কবিতা এখনও মানুষকে জাগিয়ে তুলতে সহযোগিতা করছে। নিচে
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের উল্লেখ করে দিলাম। সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪), সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২), নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১), মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩), হাতেমতায়ী (১৯৬৬), হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১) ইত্যাদি। পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৭০), ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি তাঁর শিশুতোষ রচনা। সাহিত্যে বিশেষ অবদানে জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার প্রাইড অব পারফরমেন্স (১৯৬১), আদমজী পুরস্কার (১৯৬৬), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৬), মরণোত্তর একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮০) লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সত্তর দশকের ছড়াশিল্পী আশরাফুল মান্নান, কবি জিয়াউল আশরাফ, মুফতী আবুল ফাতাহ কাসেমীপ্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com