সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৮ অপরাহ্ন

জীবন-বেলুনের অলৌকিক রহস্য | জিয়া হক

জীবন-বেলুনের অলৌকিক রহস্য | জিয়া হক

জীবন-বেলুনের অলৌকিক রহস্য | জিয়া হক

জীবন এক আশ্চর্য রঙিন বেলুন। উড়তে থাকে নীলাকাশে। নিত্য-নতুন নানা স্বপ্নে। নানা ভাবনায়। কখনো চুপে-নিশ্চুপে। কখনো বলে, না বলে।

ফুল-পাখির মতো জীবনেরও বসন্ত আছে। অনন্ত বসন্ত! ফুল-পাখি কি বুঝতে পারে? হয় তো পারে না। বসন্ত আসলে ফুল-পাখি হাসে। গান ধরে। কত রঙ-বেরঙের গান।

আর মানুষের জীবনে? বসন্ত এলে আগুনের মতো জ্বলে ওঠে। চেপে রাখা বড় দায়। সবার জীবনেই কি বসন্ত আসে? আসে তো। একেক জীবনে বসন্তের ধরন একেক রকম। একেক সময়।

বসন্ত উপভোগ করতে কপাল লাগে। সবার কপাল চার আঙুল হলেও কপালের লেখা মাপা কঠিন। মাপা যায় না।

আচ্ছা, যে ফুলটা প্রেয়সীর গলার মালা হয় আর যেটা বাগানেই ঝড়ে যায়; দুটোই সমান? এখানে ফুলের সফলতা কোথায়? ফুল কি জানতো কী আছে তার গন্ধভরা জীবনে! জানতো না।

এক সকালে একটা দোয়েল ডেকে উঠলো। মুখে একটা পোকা। জ্যান্ত পোকা। আমাদের জাররাহ বাবু হুট করেই দোয়েলের পিছু নিলো। পোকাটা দোয়েলের মুখ থেকে পড়ে গেল! বাবু অমনি পোকা দেখে ‘বাবা বাবা’ বলে ডাকলো। পোকাটাকে দেখে মনে হলো, আহত হয়েছে। লড়তে পারছে না।

এই পোকাটা কি জানে এসবের মানে কী? জানে না। জানা সম্ভবও না। জাররাহ বারবার প্রশ্ন করে। বাবা, পোকাতা কি মলে যাবে! (পোকাটা কি মরে যাবে)?
আমি আমার মতো করে ওকে জবাব দেই।

পিঁপড়ের সারি দেখে ছোটবেলায় বলতাম, পিঁপড়েরা বিয়েতে যাচ্ছে। আমাদের কেউ কেউ পিঁপড়ার সারি ভেঙে দিতো। পানি ঢেলে ভাসিয়ে দিতো। অমনি মরে যেত/ভেসে যেত অনেক পিঁপড়া!

এখানে তো পিঁপড়ার স্বপ্ন ছিল। আমাদের মতোই জীবনের সাথে মেলানো স্বপ্ন! কিন্তু কী হলো? সব ভেস্তে গেল! সব পিঁপড়ার স্বপ্ন চুপসে গেল বেলুনের মতো। এজন্যই সারাদিন পানি নিয়ে খেলতে থাকা জাররাহকে পিঁপড়ে মারতে বারণ করি।

আমাদের মারতে কেউ বারণ করে না কেন? মানে, আমরা মানুষ; মেরে ফেলছি অন্য মানুষকে। খুন করে ফেলছি অন্য মানুষের স্বপ্ন!

স্বপ্ন মাত্রই খুন হতে পারে। এটাই স্বাভাবিক এই জগতে। কিছু স্বপ্ন বড় হতে হতে জীবনের সাথে সাথে মরে যায়। কিছু কখনো বড় হয় না আর। কিছুর জন্মই হয় না। না জন্মানো কত স্বপ্ন হাওয়ায় মিলে যায় হাসনাহেনার গন্ধের মতো।

আহা রে, জীবনের বেলুনের কী খবর? আশ্চর্য বেলুন কি জানে কখন চুপসে যাবে! কখন ফুরিয়ে যাবে তার স্বপ্নের জগৎ। জানে না। জানে না বলেই জীবন-বেলুনের এত চাওয়া! এত হিসেব! এত পাওয়া! এত না পাওয়া!

জীবন-বেলুনের অলৌকিক রহস্য বুঝতে চেয়েই কেটে গেল হাজারটা দিন। আহা রে হাজারটা দিন কামলা খাটলেও কয়েক লাখ টাকা থাকতো। টাকা দিয়ে মজা কিনে খেতাম। মজা কিনে দিতাম সেই দোয়েলের পিছে ছোটা দুরন্ত জাররাহকে…

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com