সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

চলে গেলেন ইয়েমেনের গ্র্যান্ড মুফতি আল আমরানি

চলে গেলেন ইয়েমেনের গ্র্যান্ড মুফতি আল আমরানি

চলে গেলেন ইয়েমেনের গ্র্যান্ড মুফতি আল আমরানি

শীলন বাংলা ডটকম :: ইয়েমেনের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ কাজি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল আমরানি ইন্তেকাল করেছেন। গত সোমবার শতবর্ষী এ আলেম মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে ইয়েমেনের আওকাফ মন্ত্রণালয় গভীর শোক প্রকাশ করে। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ইয়েমেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি সবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে গভীর শোক জানিয়েছেন দেশ ও বিদেশের গুণী ব্যক্তিরা। ২০১৪ সাল থেকে যুদ্ধে বিধ্বস্ত ইয়েমেনে থাকলেও নিজেকে সব ধরনের সংঘাত ও সংঘর্ষ থেকে দূরে রাখেন।

শায়খ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল ইয়েমেনের রাজধানী সানআ শহরের জ্ঞানচর্চায় ঐতিহ্যবাহী পরিবারে সন্তান। ১৯২১ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ইয়েমেনের চরম কট্টরপন্থার মধ্যেও তিনি ছিলেন একজন উদার মনের গ্রহণযোগ্য আলেম। ইয়েমেন, ইরাক ও অন্যান্য দেশের সমকালীন বড় আলেমদের কাছে ইসলামী শরিয়ার শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

শায়খ আল আমরানির দৌহিত্র আবদুর রাজ্জাক জানান, শৈশবকালেই ইসলামী শরিয়াহ বিষয়ে তাঁর পিতা পড়াশোনার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। ইসলামী জ্ঞানচর্চায় তাঁর পরিবার অনন্য মর্যাদার অধিকারী। তাঁর দাদা বিখ্যাত ইসলামী স্কলার ইমাম মুহাম্মদ আল শাওকানির শিষ্য ছিলেন।

رحيل القاضي محمد بن إسماعيل العمراني وحد اليمن حزنا عليه (مواقع التواصل)মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল আমরানি

১৯৪২ সাল থেকে একাধারে ৪১ বছর তিনি হাদিসের প্রধান গ্রন্থগুলো পড়িয়েছেন। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সানআ শহরের আল ফালিহি মসজিদে পাঠদান করতেন। এরপর ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সালে অসুস্থ হওয়া পর্যন্ত জুবাইরি মসজিদে ২৯ বছর পড়িয়েছেন।

এই সময়ে তিনি সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ ও আইন বিভাগে কয়েক বছর পড়িয়েছেন। পরবর্তী সময়ে আল ইমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ বছর তূলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পাঠদান করেছেন।

শায়খ আল আমরানি ইয়েমেনের সরকারি বড় বড় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সদস্য ছিলেন। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের অফিসের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালের বিদ্রোহের পর প্রস্তাবিত সানা শহরের গভর্নরের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করেন। এ ছাড়া হাদিস ও শরিয়াহবিষয়ক পাঠদান অব্যাহত রাখতে তিনি অনেক সরকারি-বেসরকারি দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০১৪ সালে হুথিগোষ্ঠী ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। তখন তাঁকে গ্র্যান্ড মুফতির পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। ইয়েমেনের বিরাজমান যুদ্ধ-বিগ্রহ ও বিভক্তির বিষয়ে তিনি কোনো মতামত ব্যক্ত করেননি।

সূত্র : আলজাজিরা নেট

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com