সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০২:৪০ অপরাহ্ন

কালোমানিকের গল্প | আমিনুল ইসলাম কাসেমী

কালোমানিকের গল্প | আমিনুল ইসলাম কাসেমী

কালোমানিকের গল্প

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

মানুষটি কালো। কেউ বলে কালোমানিক। কিন্তু শ্বেতশুভ্র বসনে আলো ছড়াতেন তিনি। চেহারায় এমন নৃরানী আভা ফুটে উঠত। যে আভায় আলোকিত হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। তাঁর চেহারার লাবণ্যতা হার মেনেছিল কৃষ্ঞ বর্ণের বদনখানি। তাকওয়া – পরহেজগারীতার যেন মুর্তপ্রতিক। সাধাসিধে চালচলন। চলাফেরায় নিরহংকারের ছাপ। আজীবন লুঙ্গি আর জুব্বাই ছিল যার শ্রেষ্ঠ পোষাক। কথাগুলো ছিল যাদুমাখা। যেটা বলেছেন সেটাই স্রোতাদের হৃদয়গ্রাহী হত। অতি সাধারণ কথায় বিগলিত হত ভক্তবৃন্দের হৃদয়। দুচোখ দিয়ে বের হত অবিরাম বারিধারা। গোটা ময়দানে কান্নার রোল পড়েযেত।

তিনি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফজলুল করীম রহঃ। পীর সাহেব চরমোনাই। বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর কোল ঘেঁসে দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণবঙ্গের প্রাচীণতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং খানকা। যেটার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সৈয়দ ইসহাক রহঃ। আর এটার সম্প্রসারণ করেছেন সৈয়দ ফজলুল করীম রহঃ। এই চরমোনাই এর খানকার প্রচার- প্রসার এমন ভাবে হয়েছে, যেটা বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এর সুনাম।

চরমোনাই এর সুনাম- সুখ্যাতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব সৈয়দ ফজলুল করীম সাহেব। তাঁর ইখলাস এবং দৃঢ়তায় এর জয়জয়াকার হয়েছে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া সহ দেশের আপামর জনতার হৃদয়ে প্রবেশ করেছে চরমোনাই এর খানকা এবং সংগঠন। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শিক্ষিত – জ্ঞানী – সাংবাদিক – বুদ্ধিজীবী সর্বস্তরের মানুষের কাছে চরমোনাই এর প্রশংসা শোনা যায়। তাছাড়া হরলাইনে কাজ করে যাচ্ছে। যার কারণে সবার মুখে মুখে চরমোনাই বন্দনা।
চরমোনাই এর সংগঠনের যাত্রা কিন্তু বেশীদিন নয়। সেই আশির দশকের শেষের দিকে। তারপরেও এত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে,যেটা কল্পনাতীত। এর কারণটা কী? কী কারণে চরমোনাই এত এগিয়ে গেল?

কারণ যদি খোঁজা হয়। খুঁজতে হবে সেই কালোমানিককে। শুনতে হবে তাঁর গল্প। যিনি প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ ছিলেন। যার রাজনৈতিক সমঝ আসলে তুলনাহীন। সেই নব্বই দশক থেকে সৈয়দ ফজলুল করীম সাহেব এর দৃঢ় অবস্হান। যেমন কবি নজরুল এর ভাষায় বলা যায়,
” আমি বেদুঈন,/ আমি চেঙ্গিস
আপনারে ছাড়া / করিনা কাহারে কুর্ণিশ ”

ঠিক সৈয়দ ফজলুল করীম এমনই এক ব্যক্তিত্ব। তিনি কাউকে কুর্ণিশ করেন নি। কারো সাথে আপোস নয়। বাতিল শক্তির সাথে কোন রফাদফা নয়। পুরো দেশের মানুষ একদিকে আর চরমোনাই এর পীর আরেকদিকে। যার কারণে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে বারবার। স্বজাতি ভাইদের গ্লানি সহ্য করতে হয়েছে। তবুও সৈয়দ ফজলুল করিম কুর্ণিশ করেননি কাউকে। কোন বাতিল শক্তির সাথে হাত মেলাননি কখনো।

প্রাথমিক পর্যায়ে বহু হোঁচট খেতে হয়েছে। নিজ বলয়ের মানুষগুলোই বিরোধীতা করেছে সবচেয়ে বেশী। এরপরেও ইস্পাতের মতো দৃঢ় থেকেছেন। কিঞ্চিত পরিমাণ সরে যাননি নিজ দর্শন থেকে।

বেশীদিন হয়নি কিন্তু। দেড় যুগ পরে কালোমানিকের কথা স্মরণ হচ্ছে সবার। এখন মনেপড়ছে তাঁর কথা। এখন যেন কালোমানিকটার গল্প শুনতে চায়। কালোমানিকের সেই দর্শন আঁকড়ে ধরতে চায়। এখন কিন্তু বুঝে আসছে সকলের। আসলে কালোমানিকটার দর্শন শ্রেয়।

দেরীতে হলেও বুঝে আসছে সবার। এখন গা ঝাড়া দিচ্ছেন। ময়লা- আবর্জনা আর গায়ে মাখবেন না। নিজ পায়ে দাঁড়াবেন। এখন নিজেই চারারোপণ করে বড় বানাবেন। সেই গাছ থেকে ফুলে- ফলে সুশোভিত হবে। তবুও আর পরগাছা হবেনা কারো।

কালোমানিক কিন্তু এমনই বয়ান দিয়েছিলেন সেই নব্বই দশকে। কিন্তু তখন কেউ গাছলাগাতে রাজি হয়নি । সবাই চাইল পরগাছা হয়ে ফল খাবেন। তবুও গাছ লাগাবেন না। পরগাছায় ফলদেয়না। আবার পরগাছা ফল খেতে পারেনা। কালোমানিকের সেই কথার বাস্তবতা বুঝে আসল ২০২১ সনের জুলাই মাসে।

জুলাইমাস বৃষ্টির মৌসুম। প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এমাসে। দেখাযাক, নতুন গাছ লাগালে অবশ্যই সেটা বড় হবে। ফুলে – ফলে ভরে যাবে। এক সময় গাছটা মজবুত হবে।

যেমন কালোমানিকের গাছ এখন বড় হয়েছে।সুদৃঢ়- সুঠাম হয়ে খাড়া হয়ে আছে। ওটাও এক সময় বিশাল হবে ইনশাআল্লাহ। সেই কামনা- বাসনা রইল।

আল্লাহ সকলের উপরে রহম করুন। আমিন।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com