সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ১২:১৬ অপরাহ্ন

ইবাদতের উপকারিতা

ইবাদতের উপকারিতা

আবদুর রশীদ :: মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির মধ্যে মানবজাতি হল শ্রেষ্ঠ। আর আল্লাহ তায়ালা সূরা জারিয়াতের ৫৬ নং আয়াতে বলেছেন, মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। তাই বান্দা একমাত্র তাঁর ইবাদত করবে এটাই হুকুম। আল্লাহ তায়ালা কেবল ইবাদতকে নির্দিষ্ট করেননি; বরং ইবাদতের মাঝেও রেখেছেন বান্দার জন্য অনেক উপকারিতা।

ইবাদত হল আল্লাহর হুকুম যা পালন করা হয় কেবল তাঁর আনুগত্যের জন্য। অপরদিকে ইবাদতের ফলে শারিরীক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিকভাবে যা উপকারিতা রয়েছে তা প্রকৃত অর্থে ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং সেগুলো হল একপ্রকার ইবাদতের বোনাস হিসেবে গণ্য। সুতরাং, উক্ত দুটো বিষয়কে এক মনে করা ভুল হবে।

বিষয়টা আরেকটু বোঝার চেষ্টা করি- বর্তমান বিজ্ঞান নামায আদায়ের ফলে বিভিন্ন শারীরিক উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন। নামাযের ফলে নিয়মিত শরীর চর্চা হয়। তাই বলে যে, আপনি ডাইবেটিসে আক্রান্ত হবেন না বিষয় কিন্তু মোটেও এমনটি নয়।

রোজা রাখার ফলে শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয় এবং সুস্থ থাকতে অত্যন্ত সহায়ক হয়ে থাকে। কিন্তু রোজা রাখার ফলে যে, আপনি রোগাক্রান্ত হবেন না বিষয় কিন্তু এমনও নয়।
পর্দা করা ফরজ এবং পর্দা করার ফলে সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা অনেকটায় নিশ্চিত হয়। কিন্তু, পর্দা করার ফলে যে নারী ধর্ষণের শিকার হবে না বিষয়টা তা নয়।

একবার মদিনায় এক ভদ্রমহিলা মসজিদে নামাজের জন্য আসার পথে এক লোক তাঁর উপর চড়াও হয় এবং তাঁকে ধর্ষণ করে। লোকটি নিজের কুকর্ম শেষে পালিয়ে যায়। মহিলা এরপরে উপস্থিত লোকজনকে বলেন যে একটি লোক আমার সাথে এমন আচরণ করা হয়েছে। তাঁরা একজন লোককে সন্দেহ করে ধরে নিয়ে আসে। মহিলা সাথে সাথে লোকটিকে শনাক্ত করে বলেন, হ্যাঁ, এটিই সেই লোক।

লোকটিকে নবীর দরবারে হাজির করা হয়। লোকটিকে জিজ্ঞেস করা হলে লোকটি নিজের দোষ অস্বীকার করে। এদিকে মহিলা নিজের বক্তব্যে অনড়। জটিল পরিস্থিতি। এমন সময়ে এক লোক এগিয়ে এসে বলেন, কাজটি আমি করেছি। ঐ লোকটি নির্দোষ। আমায় শাস্তি দিন। আল্লাহর রাসূল (সা.) তখন মহিলাকে বললেন, ‘তুমি যেতে পার।’ যে লোকটিকে ধরে এনে ভুল মোকদ্দমা চালানো হছিল, সেই লোকটিকেও যেতে বলা হলো। অতঃপর, যে অপরাধী তাঁকে পাথর মেরে মৃত্যুদ- নিশ্চিত করার হুকুম দিলেন। একই সাথে বলে দিলেন, লোকটি নিজের কুকর্মে এতটাই অনুতপ্ত যে যদি সে পুরো মদিনাবাসীর জন্যও আল্লাহর দরবারে তওবা করতো, তাহলেও আল্লাহ পুরো শহরকে মাফ করে দিতেন। (আবু দাউদ, হাদিস নং- ৪৩৬৬)

অতএব, উক্ত হাদিস থেকে বোঝা যায় পর্দা করলেও যে ধর্ষণের শিকার হবে না তা নয়। কিন্তু, পর্দা করার ফলে অনেকটায় সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং দেহের হেফাজত হবে। মনে রাখতে হবে যে, ইবাদত করা হয় একমাত্র আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য। এর বিভিন্ন উপকারিতা আল্লাহর আনুগত্যের সাথে সম্পৃক্ত নয়।

তাই, ইবাদত এবং ইবাদতের উপকারিতা এক মনে করা উচিত নয়। দুটো বিষয় আলাদা। আল্লাহর হুকুম হল তাঁর নির্দেশ মান্য করা এবং এটাই ইবাদত। অপরদিকে ইবাদত করার ফলে বিভিন্ন সাইন্টিফিক উপকারিতা হল ইবাদতের এক প্রকার বোনাস। অজ্ঞতার দরুন দুটো বিষয়কে একটি ফরমুলায় প্রয়োগ করা হলে দ্বীনের মধ্যে দ্বন্দের সৃষ্টি হবে। আর ইসলামের শত্রুগণ ইসলামের উপর আঘাত করতে আরো বেশি উঠে পড়ে লাগবে। সুতরাং, দ্বীনের বিষয়ে গভীর পা-িত্ব অর্জন করা জরুরি। বিশেষ করে মৌলিক বিষয়গুলো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক বোঝার তৌফিক দান করুক। আমিন!
লেখক : শিক্ষার্থী, সরকারি সিটি কলেজ চট্টগ্রাম

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com