সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

হেফাজত নেতৃত্বের কাছে আবেদন | শেখ ফজলুল করীম মারুফ

হেফাজত নেতৃত্বের কাছে আবেদন | শেখ ফজলুল করীম মারুফ

হেফাজত নেতৃত্বের কাছে আবেদন

শেখ ফজলুল করীম মারুফ

হজরত উসমান রাঃ এর শাহাদাতের পরে হজরত হাসান রাঃ স্বপ্ন দেখেছিলেন যে, রক্তের নহর জারি হয়ে গেছে। আদতেও তাই হয়েছিলো। শাইখুল ইসলাম শাহ আহমাদ শফি রাহিমাহুল্লাহ এর শাহাদাতের পরেও কওমী আঙ্গিনায় ফেতনা ও বিপদের ঝড় ওঠার আশংকা সম্ভবত সত্যে পরিনত হতে যাচ্ছে। #শাহাদাত শব্দটাকে বুঝেই ব্যবহার করেছি। কারণ সেই তিন দিনের ঘটনা প্রবাহ বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে যা শুনেছি তাতে এই শব্দ ব্যবহারে আমি নিশ্চিত।

হেফাজতের মধ্যে নানা অনিয়ম, স্বার্থের লড়াই ও মানুষের ইমানী চেতনাকে বিক্রি করার একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছিলো। সেই চক্রে ২০১৩ এর আগে-পরে যারা হেফাজতের নেতৃত্বে ছিলো তাদের সবাই কম-বেশি জড়িত ছিলো।

সেই চক্রের সবচেয়ে নির্মম শিকার হয়েছে দল হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আর ব্যক্তি হিসেবে শায়খে চরমোনাই হাফিজাহুল্লাহ।

তারপরেও আমরা শাইখুল ইসলামকে শারীরিকভাবে আঘাত করা দুরে থাক তাঁর শানে বেয়াদবীমূলক কথা পর্যন্ত বলি নাই। (দুইজন বিচ্ছিন্নভাবে হয়তো বলেছে কিন্তু সেটা না দলীয় অবস্থান ছিলো, না তারা আমাদের দায়িত্বশীল ছিলো। কোন কোন দায়িত্বশীলের বিরুদ্ধে দল কঠিন সিদ্ধান্তও নিয়েছে)।
অথচ হেফাজতের মধ্যেই থাকা স্বার্থান্বেষীরা তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করে এবং তাঁর চিকিৎসাকে বিলম্বিত করে তাঁকে শাহাদাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

হেফাজতের মধ্যে থাকা অনিয়মকে যে পন্থায় “সমাধান” করা হয়েছে তা সব বিবেচনাতেই একটি ঘৃণ্য পন্থা। আর কওমী মাদ্রাসার ইতিহাসে কলংকের সূচনাকারী একটি পন্থা।

দুর্ভাগ্যের ব্যপার হলো, এই ঘটনাকে কেউ কেউ বিপ্লব বলে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করছে এবং হেফাজতে ইসলামও তাদের প্রতিষ্ঠাতা আমীরের শাহাদাতের বিচারের দাবী পরিত্যাগ করেছে।
হেফাজতের ভেতরে থাকা অনিয়ম, অনিয়ম দূ্রীকরণে প্রথাবিরুদ্ধ সহিংস পন্থা অবলম্বন, আমীরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া, সেটাকে মহিমান্বিত করার অপচেষ্টা এবং তার বিরুদ্ধে বিচারের দাবী তোলাকে পর্যন্ত অপরাধ গন্য করার এই যে প্রবনতা তা কওমী ধারাকে ধ্বংশ করে দিতে পারে।

হেফাজতে ইসলামের নতুন আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী একজন বিদগ্ধ আলেমে দ্বীন। দীর্ঘদিন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করার কারণে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও বেশ। যার নজীর তিনি সরকারের সাথে হেফাজতের সম্পর্ক নির্ধারণে ইতিমধ্যেই রেখেছেন।
তাঁর প্রতি বিনীত আবেদন করবো, আপনি দুরাচারদের বলয়কে উপেক্ষা করুন। ফেসবুকের বেনামী অপশক্তিকে উপেক্ষা করুন। হেফাজতে ইসলামকে আপনি রাজনীতি মুক্ত করে সকলকে সাথে নিন। এবং আপনার উস্তাদ, শাইখ ও নেতা শাহ আহমদ শফি রাহিমাহুল্লাহ এর সাথে ঘটা অন্যায়ের বিচার দাবী করুন। যারা যারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে আপনার আশপাশ থেকে সরিয়ে দিন।

অন্যথায় এরা একদিন আপনার বিরুদ্ধেও একই রকম বিদ্রোহ করবে। আপনাকেও একইভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে। যার লক্ষন কিন্তু প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। আল্লাহ কওমী অঙ্গনকে হেফাজত করুন।

বি.দ্র.
১. এগুলো একান্তই আমার কথা। আর আমাকে যারা জানেন তারা এটাও জানেন যে, মতামত প্রকাশে আমি বরাবরই স্বাধীন। এমনকি তা আমার দলের বিরুদ্ধে গেলেও।

২. মুর্তি ইস্যু নিয়ে বাম-আওয়ামী বলয়ের এই নর্দন-কুর্দনের মাঝে এই আলাপ তোলার কারণ হলো, এই নর্দন-কুর্দনের সাথে আমি শহীদ শাইখুল ইসলামের সাথে করা অন্যায়ের সম্পর্ক আছে বলে মনে করি। বর্তমান পরিস্থিতিকে আমি সেই অন্যায়ের ফল বলে মনে করি।

৩. শায়খে চরমোনাইকেও বাম-আওয়ামীরা টার্গেট করেছে। যদিও হেফাজত কাণ্ডে তিনিও একজন মাজলুম। আসলে ঝড় উঠলে কেউই রক্ষা পায় না। তাই ঝড় থামাতেই শাইখুল ইসলামের সাথে করা অন্যায়ের প্রতিকার চাইছি।
লেখক : শিক্ষক ও রাজনীতিক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com