রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ১১:১০ অপরাহ্ন

স্মার্টফোনে নষ্ট হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ইবাদতের রূহ

স্মার্টফোনে নষ্ট হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ইবাদতের রূহ

স্মার্টফোনে নষ্ট হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ইবাদতের রূহ

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : এক সময় ইন্টারনেট চালানোর ক্ষেত্রে আলেমগণ সতর্ক করেছিলেন। ডিস এন্টিনার বিরুদ্ধে আলেমগণ মানুষকে সজাগ করে ছিলেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে ইন্টারনেট, ডিস এন্টিনা, এখন আলেমগণ ব্যবহার করছেন। নেট চালানো আলেম- উলামার সংখ্যা এখন বহু। অধিকাংশ আলেম- উলামা নেটে কাজ করে থাকেন। আলেম সমাজের অনেকের কাছে এখন এন্ড্রয়েট সেট। যাকে বলে টাচ ফোন। স্মার্ট ফোন।

অনেক বুজুর্গ আলেমকে দেখি নেট চালাচ্ছেন। হাতে অনেক দামি মোবাইল সেট। ইমু, ওয়াটস আপ, ইমেইল, ফেসবুক ব্যবহার করেন।

সারাদেশের প্রায় আলেমের কাছে এখন এই টাচ মোবাইল, স্মার্ট ফোন। এখন আর হুজুরদের কারো কাছে, স্মার্ট ফোন থাকা আশ্চর্যের কিছু নেই। বরং কারো কাছে স্মার্টফোন না থাকাটা আশ্চর্য বিষয়!!

শহর থেকে নিয়ে গ্রাম। একদম গভীর গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মৌলভী সাহেবদের কাছে এখন দামী মোবাইল সেট।

মাদ্রাসার মুহাদ্দিস থেকে শুরু করে হেফজ খানা, মক্তবের হুজুরদের কাছে স্মার্টফোন। এমনিভাবে ছাত্রদের কাছে শোভা পায় দামি ফোন। এখন শুধু বড় ছাত্রদের কাছে নয়, বরং বহু হেফজ -মক্তবের ছাত্রদের কাছে স্মার্টফোন রয়েছে।

এই স্মার্টফোন ব্যবহারে মানুষের উপকার হচ্ছে অনেক। যোগাযোগ সুবিধা। বিভিন্ন খবরা-খবর আদান – প্রদান। মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু হয়ে যাচ্ছে।

যেহেতু ডিজিটাল যুগ। এখন দেশের প্রায় সব মানুষ ডিজিটালভাবেই চলছে, সরকারের বহু কাজ- কারবার ডিজিটালভাবে হচ্ছে। অফিসিয়ালী কাজ-কামও ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

আমাদের বিগত হাইয়াতুল উলয়ার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাঠানোর ক্ষেত্রেও আধুনিক পদ্ধতি, ইমেইল ব্যবহার করা হয়েছিল।

মানে এমন অবস্থা। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে, বাধ্য হয়ে ইন্টারনেট, ডিস এন্টিনা, ইমেইল, ওয়াটসআপ ব্যবহার করতে হচ্ছে। আপনার মনে চাইলেও ব্যবহার করা লাগছে। না চাইলেও ব্যবহার করতে হচ্ছে। একদম নিরূপায় হয়ে পড়েছে মানুষ।

আর এসব কারণে কিন্তু স্মার্টফোনের চাহিদা বেশী। যেহেতু স্মার্টফোনের মাধ্যমে সব কিছু ব্যবহার করা যায়, আবার এটা বহন করা খুব সহজ। পকেটের মধ্যে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায়। তাই এখন প্রায় সকলেই স্মার্টফোন কিনে ফেলেছেন।

কিছু আলেম তো প্রয়োজনের তাগিদে স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন। দেশের হালাতের কারণে তারা স্মার্ট ফোন নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কিছু আলেম- উলামা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করছেন, শখের বশে। একদম প্রয়োজন ছাড়া। আর এসব কিছু নওজোয়ান আলেম এবং কিছু শিক্ষার্থী শখের বশে দামি দামি সেট কিনে বিপদগামী হচ্ছেন। অনেকে পর্নোছবি, সিনেমা, নাটক, এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে স্মার্টফোনে নষ্ট হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ইবাদতের রূহ।

আগে সিনেমা দেখতে হলে নির্দিষ্ট সিনেমা হল, বা টেলিভিশন এর কাছে যেতে হত। কিন্তু এখন তো আর সিনেমা হলে বা টেলিভিশনের কাছে কাউকে যেতে হয় না। একটা এন্ড্রয়েট সেট থাকলে আর তাতে নেট থাকলে হয়ে গেল। সব কিছু মোবাইলে দেখা যাচ্ছে।

আমাদের সরল প্রাণ কিছু ভাই, কিছু শিক্ষার্থী জড়ায়ে পড়ছেন, ওসব সিনেমা নাটকের নেশায়। সাধারণ মানুষের মত আমাদের কিছু দ্বীনি ভাইকে বেশী আসক্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

আর এসব কারণে কিছু ভাইদের চারিত্রিক ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে আগের থেকে অনেক বেশী মানুষ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত হচ্ছেন।

বহু মাদ্রাসার শিক্ষকদের চারিত্রিক ত্রুটি হয়েছে এই ফোনের কারণে। মোবাইলে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি দেখে নিজেকে অনেক নিচুতে নামিয়ে ফেলেছেন। বিভিন্ন অঘটন ঘটছে, ওসব মোবাইলে পর্ণো ছবির প্রতি আসক্তির কারণে।

যখন আগে মোবাইল ছিল না, তখন কিন্তু এত অধঃপতন হয়নি আমাদের। কিন্তু এই স্মার্ট ফোন গড়ে সবার কাছে আসাতে অনেকে ব্যালেন্স করতে পারছেন না। নিজেকে সামলাতে পারছেন না।

এজন্য এই স্মার্ট ফোন,টাস ফোন ব্যবহারে সতর্ক হওয়া চাই। বিশেষ করে আমাদের উঠতি বয়সের আলেম এবং শিক্ষার্থীদের এ ফোন থেকে দুরে থাকতে পারলে ভাল হয়। প্রয়োজন হলে খুবই সতর্কতার সাথে এগোতে হবে। যাতে স্মার্ট ফোন আমাদের বিপদগামী করতে না পারে।

আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com