মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১১:০৮ অপরাহ্ন

‘স্বপ্ন দেখি জাতীয় দলের হয়েও বিশ্বকাপ জিতবো’

‘স্বপ্ন দেখি জাতীয় দলের হয়েও বিশ্বকাপ জিতবো’

‘স্বপ্ন দেখি জাতীয় দলের হয়েও বিশ্বকাপ জিতবো’

‘আত্মবিশ্বাস আমাকে অনেক এগিয়ে রাখে’- যুব বিশ্বকাপজয়ী তারকা পারভেজ হোসেন ইমনের এমন ক্ষ্যাপাটে মনোবল তাকে ব্যাখ্যা করতে যথেষ্ট। মাঠে ভয়ডরহীন ক্রিকেট, প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে গুড়িয়ে দেওয়া, প্রতিকূল অবস্থায়ও লড়াই করার মানসিকতা ইমনকে করেছে অন্য সবার থেকে আলাদা।

পচেফস্ট্রুমে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে আরেক ওপেনার তানজিদ হোসেনকে নিয়ে ইমনের উড়ন্ত সূচনা। এরপরে ইনজুরিতে পড়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়া, দল যখন খাদের কিনারায় তখন মাঠে নেমে অধিনায়ক আকবরকে সঙ্গ দেওয়া। ২২ গজে ৪৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলা। বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ইমনের এমন নিবেদন হয়ে আছে দৃষ্টান্ত।

চট্টগ্রামের ছেলে ইমনের সঙ্গে কথা গণমাধ্যমের সঙ্গে। যেখানে উঠে এসেছে তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের গল্প, বিশ্বকাপ সফর, করোনার বর্তমান সময়, জাতীয় দলের হয়ে দেখা স্বপ্নের গল্প।

প্রশ্ন: কেমন আছেন?

পারভেজ: আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

প্রশ্ন: করোনার এই সময়কালে কোথায় আছেন?

পারভেজ: পরিবারের সাথে চট্টগ্রামের বাসায় আছি। আপাতত কিছুই করার নেই বলে পরিবারকে সময় দিচ্ছি।

প্রশ্ন: ক্রিকেটীয় দিক থেকে সময়গুলোকে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন?

পারভেজ: আসলে এই মুহূর্তে ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি কেবল। ওয়ার্ক আউট আর রানিং করছি। আমার বাসায় ট্রেডমিল আছে, সেখানে রানিংয়ের কাজ করছি। এছাড়াও আমাদের ‘পাগলা’ (ফিটনেস ট্রেনার) রিচার্ড স্টনিয়ের ভিডিও কলে ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছেন ফিটনেস ধরে রাখতে। সে কাজগুলো করছি। এই মুহূর্তে ব্যাট-বল একদমই ছুঁয়ে দেখা হচ্ছে না। চাইলেও সেই সুযোগ মিলছে না।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে আসি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ফিফটিতে দারুণ শুরু। তবে এরপরেই যেন খেই হারিয়ে ফেলা। অবশেষে সেই স্বপ্নের ফাইনাল। পুরো সফরে নিজের উপর কখনো চাপ অনুভব করছিলেন?
পারভেজ: না, আর আমার উপর কোনো চাপও ছিল না। আমি পুরোটা সময় আমার স্বাভাবিক খেলাটাই খেলে গেছি।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আপনার। নামের পাশে একটি ফিফটি। ফাইনালের সেই ইনিংস। কী বলবেন?

পারভেজ: আসলে বিশ্বকাপের মধ্যে ফাইনালের সেই ইনিংসটি আমার কাছে বিশেষ কিছু ছিল।

প্রশ্ন: সে ম্যাচে তো ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছেড়েছিলন। পরে আবার দলের বিপর্যয়ের (১০২/৬) মুখে নামলেন। ওই সময় নিজের মধ্যে কী কাজ করছিল?

পারভেজ: ইনজুরির সমস্যা থাকলেও আসলে আমি ওই মুহূর্তে নিজেকে স্বাভাবিক রেখেছিলাম। আমার মাথায় কেবল ঘুরছিলো, আমার যত কষ্টই হোক না কেন; আমার যতটা সম্ভব ততটা আমি করে যাবো। আর মাঠে আকবর ভাই ছিলেন, উনাকে সাপোর্ট দেওয়ার চিন্তা ছিল মাথায়।

প্রশ্ন: ৪৭ রান করে ফিরে গেলেন। আর কিছু সময় থাকলে খেলা শেষ করে ফিরতে পারতেন। আক্ষেপ কী আছে?

পারভেজ: সত্যি বলতে, যখন আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরছিলাম। তখন নিজের মধ্যে আক্ষেপ কাজ করছিল। ফাইনালের মতো মঞ্চে শেষ করে আসার সুযোগ হারালাম। তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কোনো আক্ষেপই আর কাজ করেনি।
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে এমন অবস্থায় থাকলে, শেষ পর্যন্ত মাঠে দেখা যাবে তো পারভেজ হোসেন ইমনকে?

পারভেজ: আসলে খেলা শেষ করে আসার যে বিষয়, এটা নিয়ে অনেক আগে থেকে আমি অনুশীলন এবং কাজ করার চেষ্টা করছি। তবে বিশ্বকাপের পরে তো আসলে করোনার জন্য কিছুই করার কোনো সুযোগ পাচ্ছি না। তবে আমি এক্ষেত্রে উন্নতি করতে চাই।

প্রশ্ন: আপনার ক্রিকেটে আসার শুরু কীভাবে?

পারভেজ: আসলে এলাকায় ক্রিকেট খেলতে খেলতে আমার শুরু। এলাকায় টেপ টেনিসের ক্রিকেট খেলতাম অনেক। তখন আমার এক ফ্রেন্ড আমাকে বলতে থাকে, ‘দেখ, তুই ক্রিকেট বলে অনুশীলন করা শুরু কর।’ সে সময় ক্রিকেট বলের অনুশীলন শুরু করি। এরপর ২০১৩ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হলাম। আর সেখান থেকে ক্রিকেটে পথচলা শুরু।

প্রশ্ন : এই পুরো সফরে বিশেষ করে কাদের অবদান সবচেয়ে বেশি?

পারভেজ: আসলে আমার সার্কেল খুব ছোট ছিল। আমাকে ওইভাবে কেউ কখনো কিছু বলেনি। তবে ফ্যামিলি অনেক সাপোর্ট করেছে। আর আমার একজন কোচের কথা বলতে হয়, আসাদুল হক। উনি আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। যা আমার ক্যারিয়ারের জন্য অনেক বেশি কাজে দিয়েছে।

প্রশ্ন : কোন ক্রিকেটারকে দেখে প্রথম ক্রিকেট প্রেম জেগেছিল?

পারভেজ: তামিম ইকবাল খান ভাই। উনি আমার আইডল।

প্রশ্ন : তামিমকে দেখেই কী ওপেনিংয়ে খেলা?

পারভেজ: আসলে আমি কিন্তু মিডল অর্ডারেও খেলতাম। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে আসার পর একদিন কোচ বললেন, ‘তুমি ওপেনিংয়ে খেলো। দেখো কি হয়, তবে আমার মনে হয় ভালো কিছু হতে পারে।’ সে থেকে ওপেনিংয়ে খেলে যাচ্ছি।
প্রশ্ন : পারভেজ হোসেন ইমনের চোখে নিজের ব্যাটিংয়ে দুর্বলতা বা শক্তির জায়গা কী?

পারভেজ: নিজের ব্যাটিংয়ের বিশ্লেষণ… আমি কখনো এভাবে ভাবিনি। তবে নিজের শক্তমত্তার বিষয়ে বলতে পারি, আমি যেটা পারি, সেই সামর্থ্যরে মধ্যে সর্বোচ্চটুকু এক্সিকিউট করতে চাই। বাড়তি কিছু করতে চাই না। তবে আমার কিছু শটে এখনও দুর্বলতা আছে। সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। তবে এখনো তো করোনার কারণে কিছুই হচ্ছে না।

আর একটা বিষয় কি, আমি আমাকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। মাঠে নেমে দুর্বলতা বা এসব নিয়ে ভাবিও না, মাথায়ও আসে না। বলতে পারেন আত্মবিশ্বাস আমাকে অনেক এগিয়ে রাখে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিবের চোখে জাতীয় দলের হয়েও বিশ্বকাপ জিতবেন আপনারা। জাতীয় দলের হয়ে সেই বিশ্বকাপ স্বপ্ন কী তাড়া করে?

পারভেজ: অবশ্যই, স্বপ্ন দেখার তো কোনো বাধা নাই। আর আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। বিশ্বকাপ নিয়ে স্বপ্ন তো অবশ্যই দেখি। আমি স্বপ্ন দেখি আমরা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতবো। সবাই তো আর একসাথে একই সময়ে জাতীয় দলে খেলতে পারবো না। তবে আমি স্বপ্ন দেখি, যদি ইনশাল্লাহ আমরা জাতীয় দলে খেলি। তাহলে আমরা জাতীয় দলের জার্সিতে আবার চ্যাম্পিয়ন হবো।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপ জেতা ক্রিকেটার পারভেজ হোসেনকে নিয়ে ভক্তদের মাতামাতি কোন পর্যায়ে?

পারভেজ: সত্যি বলতে, আমি এখনো অত বড় তারকা হয়ে উঠতে পারিনি। তবে বিশ্বকাপ খেলে আসার পর কিছুদিন আমাকে এই ভক্তদের আবদার মেটাতে হয়েছিল। তবে এরপর তো দেশের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে এখন খুব স্বাভাবিক আছি।

প্রশ্ন : আর পরিবারের মানুষ কতটা গর্বিত?

পারভেজ : অনেক… অনেক… অনেক। আসলে ফ্যামিলি অনেক কষ্ট করেছে। এখন তাঁর প্রতিদান পাচ্ছে। ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিদান পাবে। তারা আমায় নিয়ে অনেক গর্বিত।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com