রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

স্কুল খোলার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

স্কুল খোলার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভাবনা

স্কুল খোলার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

মাসউদুল কাদির ::
পিছিয়ে পড়ার গল্প নতুন করে বলার কিছু নেই। দেড় বছর স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পড়ালেখা একেবারে তলানিতে এসে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রের সবকিছুই অল্প অল্প করে খুললেও কোনোভাবেই খোলা হচ্ছিল স্কুল ও মাদরাসা। এতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। নতুন করে স্কুল ও মাদরাসা খোলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। সত্যিকথা বলতে গেলে, শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের যেমন কিছু সাফল্য আছে, তেমনি ব্যর্থতাও অনেক। শিক্ষা খাতে সরকারের উদ্যোগের শেষ নেই। খুব স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে, এরই মধ্যে প্রাথমিকে ভর্তির হার প্রায় শতভাগ।

জেন্ডার সমতা নিশ্চিত হয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে। সরকার এখন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করায় জোর দিয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে কয়েক বছর ধরে ঝরে পড়ার হার একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। এখনো ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি ঝরে পড়ছে। এটি দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাই তুলে ধরে। ঝরে পড়ার সঠিক কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত প্রতিকারের উদ্যোগ নিতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারি কারণে ২০২০ সালে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়নি পাবলিক পরীক্ষাগুলো। অনলাইনে বা টেলিভিশনে বিকল্প শিক্ষাদানের চেষ্টা হলেও তাতে সাফল্য এসেছে কমই। আর এসব কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা এখনো যেমন চূড়ান্ত হয়নি তেমনি কবে স্কুল কলেজ খুলবে তাও এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি সরকার।

শুক্রবার চাঁদপুরে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাসংক্রান্ত বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব মেডিকেল কলেজ খুলবে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রাথমিকে ২০১৯ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৭.৯ শতাংশ। ২০০৯ সালে মাধ্যমিকে ঝরে পড়ার হার ছিল ৫৫.৩১ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিকে ২০১৮ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৯.৬৩ শতাংশ, ২০১৭ সালে ১৯.৮৯ শতাংশ, ২০১৬ সালে ২০.০৮ শতাংশ, ২০১৫ সালে ২০.৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ২১.৩৭ শতাংশ। ২০০৯ সালে এই স্তরেও ঝরে পড়ার হার ছিল ৪২.১১ শতাংশ।
অবশ্যই করোনাকালের শিক্ষার পরিসংখ্যান সামনে উপস্থাপিত হলে এর ভয়ঙ্কর রূপ হয়তো আমরা দেখবো। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়া যত কমিয়ে রাখা যায় ততই মঙ্গল। কারণ, দেশের শিক্ষার মান ধরে রাখার চেষ্টায় সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত বলেও আমরা বিশ্বাস করি।

আমরা মনে করি, শিক্ষা যেন সর্বজনীন হয়, তা রাষ্ট্রকেই দেখতে হবে। করোনার অজুহাতে শিক্ষাকে দুর্বল করে ভাবার কিছু নেই। শিক্ষায় পিছিয়ে থাকলে এ জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষায় উন্নতি করতে পারলে এ দেশের তারুণ্য বিশ্ব জয়ের সামর্থ রাখে। সুতরাং করোনাকালেও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া বন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com