বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

সেই হজবিরোধী লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অর্থলোপাট মামলার চার্জশিট

সেই হজবিরোধী লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অর্থলোপাট মামলার চার্জশিট

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

সেই হজবিরোধী লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অর্থলোপাট মামলার চার্জশিট

শীলনবাংলা রিপোর্ট :  সেই হজবিরোধী লতিফ সিদ্দিকী এবার নিজের বিরুদ্ধে এসেছে অর্থলোপাট মামলার চার্জশিট। তার ছত্রছায়ায়  লুট হয়েছে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এই লতিফ সিদ্দিকী পবিত্র ইসলাম ধর্মের হজের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। তিনি হজকে অর্থ ব্যয়ের একটি আনুষ্ঠানিকতা বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ইসলামের বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে দেশের ইসলামপ্রিয় তাওহিদী জনতা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। আন্দোলনের মুখে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়। এমনকি আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকেও তাকে অপসারণ করা হয়। গত জাতীয় একাদশ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবশ্য পরে তিনি তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন।

এদিকে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধনের অপরাধে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়। চার্জশিটভুক্ত অপর আসামির নাম বেগম জাহানারা রশিদ।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ছাড়া বেআইনিভাবে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের (বিজেসি) জমি বিক্রি করেন। এতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়।

অভিযোগে জানা যায়, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রী হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তিস্বার্থে ২০১০ সালের ১১ মে থেকে ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের (বিজেসি) আওতাধীন সরকারি সম্পত্তি বিক্রির জন্য নীতিমালা ভঙ্গ করে উন্মুক্ত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন।

তার একক সিদ্ধান্তে কমপক্ষে ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি আসামি বেগম জাহানারা রশিদের কাছে বেআইনিভাবে ২৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক আরও জানতে পারে, বেগম জাহানারা রশিদ বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের সুরুজমল আগরওয়ালায় (রানী নগর ক্রয় কেন্দ্র) ২ দশমিক ৩৮ একর সরকারি সম্পত্তি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ গ্রহণের জন্য মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন।

মন্ত্রী তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় তিনি সহজেই সুবিধা পেয়ে যান। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই সম্পত্তি হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এক বছরে ভাড়ার অগ্রিম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিজেসির অনুক‚লে জমা দিয়ে ভাড়া চুক্তি সম্পাদনের শর্তে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক বছরে ভাড়ার অগ্রিম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ কিংবা ভাড়া চুক্তিপত্র সম্পাদন করেননি।

এ বিষয়ে দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর আদমদীঘি (বগুড়া) থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে তিনি দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়ার সুপারিশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com