শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

সৃজনশীল লেখালেখির শূন্যতা পূরণ করবে মরু প্যাসেঞ্জার : জহির উদ্দিন বাবর

সৃজনশীল লেখালেখির শূন্যতা পূরণ করবে মরু প্যাসেঞ্জার : জহির উদ্দিন বাবর

সৃজনশীল লেখালেখির শূন্যতা পূরণ করবে মরু প্যাসেঞ্জার : জহির উদ্দিন বাবর

মাসউদুল কাদির রচিত মরু প্যাসেঞ্জার বইটি নিয়ে আজকের এই ঘরোয়া আয়োজন। প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা জানাই লেখককে। আমাদের বন্ধু মাসউদুল কাদিরকে। তিনি এধরনের একটি আয়োজন করেছেন। আমাদেরকে একসঙ্গে বসার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ ধরনের বই নিয়ে আলোচনার জন্য এবং একটি চমৎকার বই নিয়ে আলোচনার জন্য এভাবে ঘরোয়া আয়োজন না করে একটু বড় পরিসরে করা হলে মনে হয় ভালো হতো। বইয়ের যিনি প্রকাশক আজ তিনি এখানে উপস্থিত নেই।

তিনি থাকলে আমরা একটু ভালো করে বলতে পারতাম। আমাদের জাতীয় প্রেস ক্লাব বা অন্য কোনো হলে এ আয়োজন হতে পারতো। যা হোক, আয়োজন এখানে হয়েছে, আমরা যারা এসেছি সত্যিই আমরা মুগ্ধ। বিশেষ করে বইটির একটি গল্প পাঠ করা হয়েছে। গল্পের ওপর অনেকে আলোচনা করেছেন। গল্পটিতে কয়েকটি ম্যাসেজ আছে। আসলে আমাদের ইসলামী ধারার যারা লেখালেখি করেন, অনেকেই লেখালেখি করছেন এবং প্রচুর বই পুস্তক বের হচ্ছে। কিন্তু আমরা যে শূন্যতাটা অনুভব করছি, আমাদের ধারায় সৃজনশীলতার অভাব।

বিশেষ করে সৃজনশীল যে সাহিত্য, সেখানে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সাহিত্য-লেখালেখি নেই। আমরা অনুবাদনির্ভর সাহিত্যই বেশি রচনা করছি। এখন বাংলাবাজার থেকে যেসব বইপত্র বের হচ্ছে বেশিরভাগই অনুবাদনির্ভর। এখন মৌলিকও অনেক বই বের হচ্ছে। বিশেষ করে সৃজনশীল যে ধারাটি, গল্প, উপন্যাস, থ্রিলার— এটাতে আমাদের একটা শূন্যতা রয়ে গেছে। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে যারা সৃজনশীল ধারায় লেখালেখি করেন, মাসউদুল কাদির তাদের মধ্যে অন্যতম এবং শক্তিশালী একজন লেখক। আমরা বরাবরই তার গদ্যে মুগ্ধ। তিনি সুন্দর লেখেন, ঝরঝরে লেখেন এবং সময়ের ভাষায় লেখেন। সবশ্রেণির পাঠক তার এই লেখা দ্বারা উপকৃত হয়। আমরাও তার লেখা দ্বারা উপকৃত হয়ে আসছি।

লেখকের প্রতি আমার একটা নিবেদন থাকবে, আমরা সবশেষ ২০১১ সালে দেখেছি মাসউদুল কাদির লিখিত একসঙ্গে তিনটি বই তখন প্রকাশিত হয়েছিল। সোনালী তাবিজ, দৃষ্টি থামে সবুজ গ্রামে, এন্টি ভাইরাস। পল্টনের ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে বইয়ের ওপর একটা অনুষ্ঠানও হয়েছিল। এরপর আমরা মাসউদুল কাদিরের হাতে এ ধরনের সৃজনশীল ধারার সাহিত্যের ওপর ওই সৃষ্টিটা পাইনি। কেন পাইনি, সেটা লেখক ভালো বলতে পারবেন। অনেক দিন পরে হলেও আমাদেরকে একটি সুন্দর বই উপহার দিয়েছেন, মাসউদুল কাদিরকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই এবং তার প্রতি আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আগামী দিনে আমাদেরকে এ ধরনের সুন্দর সুন্দর বই উপহার দেবেন।

বিশেষ করে আমাদের অঙ্গনে সৃজনশীল ধারার যে শূন্যতাটা রয়েছে, সৃজনশীল লেখালেখির- সেই শূন্যতাটা তিনি পূরণ করবেন।

ইনশাআল্লাহ এই বই নিয়ে আরও একটু বড় পরিসরে কোথাও বসবো, আলোচনা করবো, লেখককে নিয়ে বসবো, প্রকাশককে নিয়ে বসবো। সে পর্যন্ত আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com