রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মাওলানা আকরম খাঁ

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মাওলানা আকরম খাঁ

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মাওলানা আকরম খাঁ

মানজুম উমায়ের :: মানুষ আসে আর মানুষ যায়। কেউ রেখে যায় জীবনের দাগ। যে দাগ পেরিয়ে হাঁটে পরবর্তি যুগের মানুষেরা। এটা খুবই আশার কথা। মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ সংবাদপত্র ও সংবাদিকতা উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। বাংলা সাংবাদিকতার একজন কিংবদন্তী ছিলেন তিনি। বহুমূখী প্রতিভাধর এই সাংবাদিকের জন্ম ১৮৬৯ সালের ৭ জুন পশ্চিমবঙ্গের বশিরহাট মহকুমার হাকিমপুরে। ইন্তেকাল করেন একাত্তরের আগে ১৯৬৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায়।

১৯০০ সালে কলকাতা মাদ্রাসা থেকে এফ.এম. পাশ করার পর সাংবাদিকতাকেই তিনি পেশা হিসেবে নেন। সাংবাদিকতা ক্ষেত্রে তিনি নিজেই একটি ইনষ্টিটিউট। তাঁকে বলা হয় মুসলিম বাংলা সাংবাদিকতার জনক ও পথিকৃৎ।

মাসিক মোহাম্মদী থেকে দৈনিক মোহাম্মদী, মাসিক আল এসলাম, উর্দু দৈনিক জামানা, সাপ্তাহিক সেবক, দৈনিক সেবক, দৈনিক আজাদ পত্রিকা তাঁর কর্মপ্রচেষ্টার ফসল। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে এবং মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় এসব পত্রিকার ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। পশ্চাদপদ মুসলিম সমাজের উন্নতি অগ্রগতির চিন্তায় আকরম খাঁ ছিলেন সদা বিভোর।

সাপ্তাহিক মোহাম্মদী বাংলা, আসাম ও বার্মার মুসলমানদের ছিল জনপ্রিয় পত্রিকা। শহর, বন্দর ছাড়িয়ে মফঃস্বল এলাকায়ও এর চাহিদা ছিল তুঙ্গে। সাপ্তাহিক ও মাসিক মোহাম্মদী বহু তরুণকে সাংবাদিকতা পেশায় উদ্বুদ্ধ করে। যারা পরবর্তীকালে বড় সাংবাদিক, লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাজী নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, মুজীবুর রহমান খাঁ, মঈনউদ্দিন হুসায়ন প্রমুখ তাঁর দৈনিক মোহাম্মদীতে কাজ করতেন।

সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আকরম খাঁ’র শ্রেষ্ঠ কীর্তি দৈনিক আজাদ। ১৯৩৬ সালের ৩১ অক্টোরব কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। ১৯৩৬-৪০ সাল পর্যন্ত নিজে এবং ১৯৪০-৬২ পর্যন্ত আবুল কালাম শামসুদ্দীন দৈনিক আজাদের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

সাহিত্যিক হিসেবেও ছিলেন আলোচিত ও বরণীয়। তার অমূল্য রচনা ‘মোস্তফা চরিত’ এবং ‘মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস’। এছাড়া যীশু কি নিষ্পাপ, এসলাম মিশন, মোস্তফা চরিত্রের বৈশিষ্ট্য, উম্মুল কেতাব, বাইবেলের নির্দেশ ও প্রচলিত খৃষ্টান ধর্ম, মুক্তি ও ইসলাম, তফসীরুল কোরআন ১ম-৫ম খন্ড, মিশ্র ও স্বতন্ত্র নির্বাচন, সমস্যা ও সমাধান, এছলামের রাজ্য শাসন বিধান প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য রচনা।

রাজনৈতিক ময়দানেও ছিল আকরম খাঁ’র সক্রিয় পদচারণা। ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের একজন সমর্থক হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু। মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯২২ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট প্রণয়নে সহযোগিতা দেন। ১৯২৬ সালে বেঙ্গল কংগ্রেসের সভাপতি মনোনীত হন। ১৯২৭ সালে নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। ১৯৪৭-৫১ প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালের ১৮ আগস্ট প্রায় শত বছর বয়সে এই মহীরুহ পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

আকরম খাঁ ছিলেন বাংলার ইতিহাসের প্রাজ্ঞ মনীষীদের একজন। আবুল মনসুর আহমদ লিখেছেন, ‘মাওলানা আরকম খাঁ একটি ব্যক্তিমাত্র ছিলেন না। অন্যান্য অনেক নেতার মত তিনি শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানও ছিলেন না। তিনি ছিলেন একটি যুগের প্রতিনিধি-যুগের প্রতীক।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com