বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

সবরে  জান্নাত | মাওলানা আমিনুল ইসলাম

সবরে  জান্নাত | মাওলানা আমিনুল ইসলাম

সবরে  জান্নাত | মাওলানা আমিনুল ইসলাম

আজকাল আমাদের মাঝে ধৈর্য বলতে কিছু নেই।সব কাজেই আমরা অধৈর্যের পরিচয় দিয়ে থাকি।রাস্তা-ঘাট,অফিস-আদালত,দোকান-পাট,ব্যবসা বাণিজ্য যেখানেই যাবেন,সকলেই যেন অস্হির!!! সবাই খুবই ব্যস্ত!কোন কাজে একটু সবর করার সময় নেই।

গাড়ীতে উঠে দেখবেন,এক শ্রেণীর মানুষ মহা ব্যস্ত।ড্রাইভার কে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে! এই ড্রাইভার! জোরে চালাও!বেচারা ড্রাইভার যতই জোরে চালায় কিন্তু তাতে তাদের মনটা খুশি হয় না।

অফিস আদালতে যাবেন, সেখানে কারো দেরী সয়না।নিজের কাজটা কিভাবে তাড়াতাড়ি করা যায়,সেই ধান্ধায় আমরা থাকি।কখনও অফিসের ষ্টাফ একটু দেরী করলে,তাকে শাসন করতে আর দেরী নেই। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি!

মোট কথা,আমাদের ধৈর্যের বাঁধ যেন অনেক আগেই ভেঙ্গে গেছে!এখন আর সবরের বয়ান শোনার সময় নেই। অথচ ধৈর্য একটা মহৎ গুন।আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন।দুনিয়াতে সব কাজ সবরের মাধ্যমে আদায় হয়ে থাকে। বে-সবরের মাধ্যমে কোন কাজ আদায় হয়না।

 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যধারণ করতে বলেছেন এবং ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করতে বলেছেন।ইরশাদ হয়েছেঃ“অর্থাৎ হে বিস্বাসীগণ!তোমরা ধৈর্যধারণ কর এবং ধৈর্যধারণে প্রতিযোগিতা কর। (সুরা আল ইমরান-২০০) যে ব্যক্তি সবর করবে, ধৈর্যধারণ করবে,আল্লাহ তায়ালা তাদের শুভ সংবাদ

দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের অন্য জায়গায় ইরশাদ হয়েছেঃ“আর তুমি ধৈযর্শীলদের শুভ সংবাদ দাও (সুরা বাকার-১৫৫)

যারা ধৈর্যধারণ করবে আল্লাহ তায়ালা তাদের অপরিমিত পুরস্কার দিবেন। অর্থাৎ তাদের পুরস্কারের কোন শেষ নেই।পবিত্র কুরআনের অন্য জায়গায় ইরশাদ হয়েছেঃ“অর্থাৎ ধৈর্যশীলদের তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে”(সুরা যুমার-১০)

হাদীস শরীফে সবরের ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে।নিম্নে একটা হাদীস আমি পেশ করছিঃ আত্বা ইবনে আবী রাবাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা ইবনে আব্বাস (রাঃ)আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে একটা জান্নাতী মহিলা দেখাব না!আমি বললাম, হ্যা! তিনি বললেন, এই কৃষ্ঞকায় মহিলাটি নবী করীম (সাঃ) এর নিকটে এসে বলল যে, আমার মৃগী রোগ আছে,আর সে কারণে আমার দেহ থেকে কাপড় সরে যায়। সুতরাং আপনি আমার জন্য দুআ করুন। তিনি বললেন“তুমি যদি চাও তাহলে সবর কর; এর বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে।আর যদি চাও তাহলে আমি তোমার রোগ নিরাময়ের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করব। স্ত্রীলোকটি বলল,আমি সবর করব। অতঃপর সে বলল, (রোগ উঠার সময়) আমার দেহ থেকে কাপড় সরে যায়, সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন আমার দেহ থেকে কাপড় সরে না যায়।

ফলে নবী করী (সাঃ)তার জন্য দুআ করলেন।(সহী বুখারী,তিরমিজি,মুসনাদে আহমাদ)

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com