সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ইসলামের নির্দেশনা

সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ইসলামের নির্দেশনা

সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ইসলামের নির্দেশনা

আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী

যুগে যুগে দিকভ্রান্ত পথহারা মানুষদের সঠিক পথের দিশা দিতে সফলতার একমাত্র ঠিকানা ইসলামের আগমন ঘটেছে। ইসলাম একটি সার্বজনীন জীবনাদর্শ। ইসলাম তার অনুসারীদের যেমন মৌলিক সব অধিকার নিশ্চিত করে, তেমনি মুসলিম দেশে বসবাসরত অমুসলিমদের অধিকার প্রদানেও ইসলাম কুন্ঠাবোধ করে না। সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রদানে ইসলামের নির্দেশনাগুলো অসাধারণ ও কালজয়ী। এতে ইসলামের অনন্য উদার মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে।

ইসলাম মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও যাবতীয় মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে। ইসলামের নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা সনদের মাধ্যমে শুধু মুসলমানদের অধিকারই প্রতিষ্ঠা করেননি, বরং মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সব গোত্র ও ধর্মের মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছেন। মদিনা সনদ আজও চিন্তাশীল বিবেকবান সব মানুষের কাছে মানবাধিকার প্রতিষ্টার একটি শ্রেষ্ঠ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের যে অধিকার সংরক্ষণ করেছেন তার ছিটেফোঁটাও কোনো ধর্ম ও মতবাদ আজ পর্যন্ত দেখাতে পারেনি। ইতিহাসের জ্বলন্ত বাস্তবতা যে, মহানবী (সা.) একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে সংখ্যালঘু অমুসলিমদের অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানদের মতোই। ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম-অমুসলিম সবার দায়িত্বও সমান। যদিও ধর্ম, আকিদা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ইসলাম একটি সুষম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এটা সর্বজনীন জীবনবিধান। ইসলাম সবাইকে স্বাধীন মত প্রকাশ ও ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণে যেমন কাউকে বাধ্য করার সুযোগ নেই, তেমনি অন্য ধর্মমত গ্রহণেও ইসলামে বাধা নেই। মানুষ ইচ্ছা করলে ইসলাম ধর্ম কবুল করতে পারে, নাও করতে পারে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, দ্বীনের বিষয়ে কোনো জবরদস্তি নেই। সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে। যে তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করবে সে এমন এক হাতল ধরবে যা কখনো ভাঙবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬)

ধর্মীয় স্বাধীনতার এমন দৃষ্টান্ত আর কোথাও পাওয়া যায় না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদানে সবসময়ই উদার দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন । সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্কে ইসলামের সুস্পষ্ট ঘোষণা, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র যবানে উচ্চারিত হয়েছে
“জেনে রেখো, যে মুসলমান কোনো চুক্তিবদ্ধ (অর্থাৎ অমুসলিম) নাগরিকের ওপর জুলুম করবে, কিংবা তার অধিকার হরণ করবে, কিংবা তার ওপর সামর্থ্যের চেয়ে বেশি বোঝা চাপিয়ে দেবে, কিংবা তার কোনো জিনিস জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেবে, সেই মুসলমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগে আমি আল্লাহর আদালতে অমুসলিম নাগরিকের পক্ষে দাঁড়াব।” (আবু দাউদ)
ইসলামী সমাজে সংখ্যালঘুরা মুসলমানের মতোই সামাজিক অধিকার ভোগ করে থাকে। সমাজে তাদের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। সমাজে সংখ্যালঘুদের সামাজিক অধিকার পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইসলামের নির্দেশনা অসাধারণ ও কালজয়ী। আল্লাহ তাআলা অমুসলিমদের সঙ্গে সুবিচারপূর্ণ আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,
“যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও ইনসাফ করতে আল্লাহ নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন।’ (সুরা : মুমতাহিনা, আয়াত : ৮)

সংখ্যালঘু অমুসলিমদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য ইসলামী রাষ্ট্র সর্বদা সতর্ক। মদিনায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের প্রতি যেসব দায়িত্ব পালন করা হয়, তা হলো : ক. শত্রুর হাত থেকে অমুসলিমদের রক্ষা, খ. তাদের ধন-সম্পদ ও প্রাণের নিরাপত্তা দান, গ. তাদের কাছ থেকে উশর আদায় না করা এবং ঘ. তাদের এলাকায় অভিযান পরিচালনা না করা। ঙ. তাদের উপাসনালয় রক্ষা করা।
নাগরিকদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইসলাম নির্দেশিত পথ ও পন্থা অনুসরণের বিকল্প নেই।
লেখক : খতীব, আউচপাড়া জামে মসজিদ টঙ্গী গাজীপুর

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com