রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

ভয়ের জায়গা হচ্ছে কাকের মাংস কাক খায় না | ড. তুরিন

ভয়ের জায়গা হচ্ছে কাকের মাংস কাক খায় না | ড. তুরিন

ড. তুরিন আফরোজ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করছেন; একই সঙ্গে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের চেয়ারম্যান। শুধু আইনাঙ্গন নয়; পেশাগত জীবনে সাফল্যের কারণে ইতোমধ্যে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন দেশব্যাপী। ব্যারিস্টার তুরিন যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স), অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনি থেকে এলএলএম (ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ল’) এবং মনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ-ডি ডিগ্রী লাভ করেন। ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে নানান প্রশ্ন নিয়ে তাঁর মুখোমুখি হয়েছেন ল’ইয়ার্স ক্লাব সম্পাদক ড. বদরুল হাসান কচি। শীলনবাংলার পাঠকদের জন্য দেয়া হলো-

আপনি কি মনে করেন ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ে আদালত যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা রায়ের মুল বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট?

তুরিন আফরোজ : আমরা জানি যে কোন মামলার রায়ে আদালত অবশ্যই পর্যবেক্ষণ দিতে পারে তবে সে পর্যবেক্ষণের একটা সীমারেখা থাকে। আমরা দেখেছি, দেশ-বিদেশে বিভিন্ন রায়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। আর এটাই স্বাভাবিক। কোন মামলার মূল বিষয় থেকে বেরিয়ে অনেক দূরের কোন বিষয় নিয়ে যদি পর্যবেক্ষণ দেয় তখন কিন্তু আমরা আর বলতে পারি না যে মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে আর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের ৭৯৯ পৃষ্ঠার যে পূর্ণাঙ্গ রায় আমরা পেয়েছি তারমধ্যে বিশেষ করে প্রথম ৩৯৫ পৃষ্ঠা যা কি-না আমাদের মাননীয় প্রধান বিচারপতি লিখেছেন সেখানে এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা হয়েছে যার সাথে মামলার মূল বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না। অথচ বেঞ্চের অন্যান্য বিচারপতিবৃন্দ যা লিখেছেন সেটা কমবেশি বিষয় বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত।

অপ্রাসঙ্গিক বলছেন কোন বক্তব্যগুলোকে?

তুরিন আফরোজ: যেমন ধরুন, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, দুর্নীতি সর্বত্র বিরাজমান বা স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা নাজুক ইত্যাদি রায়ের ২২৮-২২৯ পৃষ্ঠায় উঠে এসেছে। যা ষোড়শ সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত নয়।

পর্যবেক্ষণে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক উল্লেখ করা হলেও তা কিসের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছেন সে ব্যাপারে কোন ব্যাখ্যা বা পরিসংখ্যান রায়ের কোথাও উল্লেখ নেই। এছাড়া মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অ্যামিকাস কিউরিদের কোন সুপারিশ ছিল কি-না অথবা এই বিষয়টি ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করতে কোনোভাবে প্রভাবিত করেছে কিংবা প্রভাবিত করতে পারতো তা স্পষ্ট করা হয়নি। এরপরও যদি আমরা ধরে নেই যে মামলার সাথে মানবাধিকার পরিস্থিতির ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাহলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটা ইনিস্টিটিউট হিসেবে উচ্চ আদালত কি পদক্ষেপ নিয়েছে সেই প্রশ্ন কিন্তু এসে যায়। রাষ্ট্রের অরগান ও দেশের সর্বোচ্চ আইনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টেরও এ ব্যাপারে দায়বদ্ধতা ছিল। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের স্বপ্রণোদিত কোনো পদক্ষেপ কিন্তু দেখা যায় নি। সেখানে আমরা কেবল কিছু স্বপ্রণোদিত রুল জারি করতে দেখেছি।

এবার দেশের সর্বত্র দুর্নীতি বিরাজমান ইস্যুতে আসা যাক। এই কথাটির ভিত্তি কি সেটাও কিন্তু রায়ের কোথাও উল্লেখ নেই। তবে হ্যাঁ, দুর্নীতির কথা যদি বলতে হয় তাহলে সবার আগে সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকাতে হয়। সম্প্রতি সাবেক এক বিচারপতির দুর্নীতি অনুসন্ধান বন্ধ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রীতিমত চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট! যেখানে মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, অভিযুক্ত বিচারপতি অনেকগুলো রায় দিয়েছেন এখন তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলতে দেশে গোলমালের সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি একজন বিচারপতি ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে! এখন কথা হল ব্যক্তি হিসেবে একজন বিচারপতি কিংবা বিচারিক কোন প্রতিষ্ঠান সংবিধান বা আইনের উর্ধ্বে নয়। আমি একদিকে প্রশাসনের দুর্নীতির কথা বলছি অথচ অন্যদিকে বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান বন্ধ করে দেবো সেটা কিন্তু পরস্পর বিরোধী।

রায়ের পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্যখাতে নাজুক অবস্থা বিষয়ক প্রধান বিচারপতি যে মন্তব্য করেছেন আমি ঠিক জানিনা তিনি কেন এবং কি তথ্যর উপর ভিত্তি করে এ কথা বলেছেন। তবে আমার কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে গত বছরের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর মার্গারেট চ্যান পৃথিবীর ২০০ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে সাংহাইতে বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় চমকপ্রদ অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা সাপেক্ষে যেখানে দেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রশংসা করেছেন সেখানে আমাদের প্রধান বিচারপতি মহোদয় বলছেন আমাদের স্বাস্থ্যখাতের নাজুক অবস্থা!

এতএব সব কিছু মিলিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষণে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, দুর্নীতি কিংবা স্বাস্থ্যখাত নিয়ে মন্তব্য করার আগে প্রধান বিচারপতি যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই বা গবেষণা করেছেন কি-না তা বুঝতে পারছি না। কারণ আমাদের কাছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে যা প্রমাণ করে উনার কথাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জাতীয় সংসদসহ সকল জন প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর বলা হয়েছে রায়ে; কি মন্তব্য করবেন এই প্রসঙ্গে?

তুরিন আফরোজ : কোন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর বা অকার্যকর বলার ক্ষেত্রে একটা মাপকাঠি ঠিক করা দরকার। কোন কোন বিষয়গুলো থাকলে একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর বা কি কি বৈশিষ্ট্য না থাকলে তাকে অকার্যকর বলা যেতে পারে সেটা রায়ের কোথাও উল্লেখ নেই। ফলে জাতীয় সংসদ অকার্যকর এটা জাস্ট সুইপিং কমান্ড। কোন তথ্যর উপর ভিত্তি না করে দায়সারাভাবে কথাটি বলা হয়েছে বলে আমি মনে করি। তবে এটা ইচ্ছেকৃত না অনিচ্ছাকৃত সে প্রসঙ্গে আমি যাচ্ছি না। তবে আচমকা এই মন্তব্যের কারণ রায়ে পরিষ্কার করা হয়নি। একইসঙ্গে তিনি বলছেন দেশের সব পাবলিক প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হয়ে গেছে। সকল পাবলিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কি সুপ্রিম কোর্টও পড়ে না? সেই অর্থে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ আদলতকে অকার্যকর বলা কি আদালত অবমাননার শামিল নয়? আদালত অবমাননা যে কেবল সাধারণ মানুষ কিংবা আদালতের বাহিরের মানুষ করতে পারে তা কিন্তু নয়। কোর্টের খোদ বিচারপতির মাধ্যমেও কিন্তু আদালত অবমাননা হতে পারে। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সুপ্রিম কোর্ট। ফলে সুপ্রিম কোর্টকে অকার্যকর বলা আইনের দৃষ্টিতে আদালত অবমাননার শামিল বলে আমি মনে করি।

হাইকোর্টে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে একটি রিট মামলা চলমান রয়েছে ঠিক সেই সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে মন্তব্য হাইকোর্টের চলমান মামলাকে প্রভাবিত করবে কিনা?

তুরিন আফরোজ : আদালতে বিচারাধীন মামলা নিয়ে মন্তব্য করা নিঃসন্দেহে আদালত অবমাননার শামিল। এখন হাইকোর্টে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে একটি রিট মামলা চলমান। এরমধ্যে আপিল বিভাগ যদি কোন রায়ে এ বিষয়ে কোন পর্যবেক্ষণ দেয় সেটা কিন্তু অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী অধস্তন আদলতকে মানতে হবে এমন একটি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। যদি সেটা নাও হয় তাহলে অনুচ্ছেদ ৯৪ এর সাব আর্টিকেল ৪ অনুযায়ী একজন বিচারপতির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারের পথে বাধা তৈরি করবে। কারণ তিনি জানেন সিন্দাবাদের ভূতের মত সর্বোচ্চ আদালত ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে কিছু একটা বলে রেখেছেন। মন্তব্য ভাল নাকি মন্দ সে প্রশ্ন তো পরে। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে অন্তত তিনজন বিচারপতি ৭০ অনুচ্ছেদ ব্যবচ্ছেদ করেছেন। ফলে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট যে বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হচ্ছে তিনি মেন্টালি প্রেসারে থাকবেন এবং অবশ্যই প্রভাবিত হবেন। এক্ষেত্রে কিন্তু আদালত অবমাননা হয়েছে বলে আমি মনে করি।

ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ে মূল সিদ্ধান্ত হল সংসদের কাছে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ব্যহত হবে। এই সিদ্ধান্তটি আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

তুরিন আফরোজ : আদালতের এমন সিদ্ধান্ত একটি প্যারাডক্স তৈরি করেছে। কথাটি আমি এইজন্য বলছি কারণ ১৯৭২ এর সংবিধানে বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতেই ন্যস্ত ছিল। কিন্তু তখন তো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ব্যহত হয়নি তাহলে এখন কেন হবে? ফলে আমাদের আদি সংবিধান অর্থাৎ বাহাত্তরের সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতিদের অভিশংশনের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকা অবস্থায় যেহেতু বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ব্যহত হয়নি সুতরাং এখনো ব্যহত হবার সুযোগ নেই। এ জন্যই বলেছি এখানে একটি প্যারাডক্সিক্যাল সিচুয়েশন সৃষ্টি হয়েছে।

তাতে বিচারপতিদের জবাবদিহিতার জায়গা ছোট হয়ে আসছে বলে মনে করেন কি?

তুরিন আফরোজ : যে কোন প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার জায়গা দু’রকমের হতে পারে। বিচার বিভাগও সেই পদ্ধতির বাহিরে নয়। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের ২৪৬ পৃষ্ঠায় প্রধান বিচারপতি নিজেই উল্লেখ করেছেন জবাবদিহিতা দুই ধরণের – ১. ইন্টারনাল এবং ২. এক্সটার্নাল। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন ইন্টারনাল মানে হল নিম্ন আদালতের বিচারকদের উচ্চ আদালতের কাছে জবাবদিহিতা এবং উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে জবাবদিহিতা। এক্সটার্নাল জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে তিনি সংসদকে বাদ দিয়ে সাধারণ জনগণ, মিডিয়া কিংবা সিভিল সোসাইটি রায় নিয়ে কি ধরণের আলোচনা করছেন সেটাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ জনগণ যখন মন্তব্য করবেন সেটা রায় পরবর্তী। রায়ের আগে কিংবা চলমান ক্ষেত্রে বিচারপতির জবাবদিহিতা কই? একজন দুষ্ট জাজকে বশীকরণে একজন সিভিল সোসাইটির মেম্বারের কাছে কি ক্ষমতা রয়েছে? এখন আমাদের আদি সংবিধান অনুযায়ী সংসদের কাছে যদি এক্সটার্নাল ক্ষমতা থাকে তাহলে একটা চেক অ্যান্ড ব্যাল্যান্সের সুযোগ থাকে।

অপরদিকে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু খুন হবার পর বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী সংবিধান না মেনেই মন্ত্রী হলেন। ১৯৭৫ সালের ৮ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাইদ মোহাম্মদ সায়েম অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন। এরপর ১৯৭৮ সালে হালিমা খাতুন বনাম বাংলাদেশ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি ফজলে মুনিম সংবিধানকে সামরিক ফরমানের নীচে স্থান দেন। ঠিক একই কাজ করা হয় রাষ্ট্র বনাম হাজী জয়নাল আবেদিন মামলায়। আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি রুহুল ইসলাম ১৯৮০ সালে এই কাজ করেন। একই বছর নাসির উদ্দিন বনাম বাংলাদেশ মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন রায় দেন যে সামরিক আদালতের সিদ্ধান্ত সংবিধানের আইনের উর্ধ্বে। শুধু তাই নয় ১৯৮৯ সালে আনোয়ার হোসেন চৌধুরী মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন ৭৫ পরবর্তী সকল অসাংবিধানিক কর্মকান্ড মূলত আমাদের সংবিধানের ইতিহাসেরই অংশ! তার মানে আমি লেজেটিভাইস করছি, আমি এটা জাস্টিফাই করছি সমস্ত ফরমানগুলোকে যা কিছু হয়েছে ইতিহাসের অংশ হিসেবে মেনে নিচ্ছি। যার জন্য প্রায় তিরিশ বছর লেগেছে একজন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে আসতে এবং এ সকল অসাংবিধানিক কাজকে অন্যায় বলবার জন্য।

এখন কথা হচ্ছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল যখন থেকে অপারেটিভ আছে তখন থেকে এই পর্যন্ত কয়টি পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করেছে? যেখানে বিচারপতিরা নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, তারা দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন, বিচারপতি জাল সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এখানে কি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে? ভয়ের জায়গা হচ্ছে কাকের মাংস কাক খায় না। ভবিষ্যতেও যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ক্ষমতা অপব্যবহার হবে না সেই ব্যাপারে রায়ে একটা অক্ষরও লেখা হয়নি। কিন্তু এই সিস্টেমটা নিয়েই রায়ে পর্যবেক্ষণ থাকা অত্যাবশ্যক ছিল।

সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সাবেক বিচারপতি কে উচ্চ আদালত আগাম জামিন দিয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে দুদককে চিঠি দিয়ে উক্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ফলে আগামীতে সংবিধান লঙ্ঘনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

ল’ইয়ার্স ক্লাব-এ সৌজন্যে

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com