বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:১৪ অপরাহ্ন

শৈশবে ফিরে দেখি আমাদের শিশু মুখ

শৈশবে ফিরে দেখি আমাদের শিশু মুখ

শৈশবে ফিরে দেখি আমাদের শিশু মুখ

জিয়াসমিন আক্তার : সিঁড়ি দিয়ে নামছিলাম একটু মায়ের কাছে সময় কাটাবো। তিনতলায় নামতেই অনেকটা অন্ধকার ( সিকিউরিটি বাল্ব না থাকায়) একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটাকে আমি চিনি, সে আমারই ছেলের ক্লাসমেট আর আমার ক্লাসমেট ওর মা। সে তার বাসার মেইন দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে আর দরজা বন্ধ। আমি বুঝলাম কিছু একটা হয়েছে! কাছে গিয়ে বললাম-

– বাবা তুমি এখানে অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে আছ কেনো?

সে কোন কথা বলল না। আমি কাছে গিয়ে একহাতে তাকে জড়িয়ে নিয়ে ( উষ্ণতা দেয়ার জন্য)আবার জিগেস করলাম –

– বাবা কি হয়েছে?

এইবার সে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল-

– বাবা, মা বাসা থেকে বের করে দিয়েছে!

কী যন্ত্রণা বলেন! আমি তাকে আমার বুকের কাছে এনে একটু আদর করে বললাম-

– আচ্ছা, আসো আমি দেখছি

নক করতেই ওর বাবা দরজা খুলল। আমি কিছু বলার আগেই তিনি আমার উপস্থিতির কারণ টের পেয়ে বলা শুরু করলেন-

– তোকে আর বাসায় আসতে দেবনা, যা যেখানে খুশি। তোর মত বেয়াদব আর একটিও নেই, একটা কথাও শোনেনা…..

আমি তাকে থামিয়ে বললাম-

– কি বলেন, সে তো অনেক ভালো ছেলে। সবসময় আমার ছেলের থেকেও বেশি নম্বর পায় আর খুব ভদ্রও।
– আরে জানেননা আপা, একটুও পড়তে চায় না, বলছি হোমওয়ার্ক করো, সে টিভি দেখছেতো দেখছেই।

আমার ক্লাসমেট তার মাও সাথে একই অভিযোগ করল। আমি তাদের বললাম-

– আরে বাচ্চা মানুষ একটু দুষ্টুমি তো করবেই। আর বাবা তুমিতো কত ভালো ছেলে হেমওয়ার্ক করে নাও তারপর টিভি দেখবে কেমন!

এই বলে তাকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসলাম। এর চেয়ে বেশিকিছু আজকাল কাওকে বলিনা। হিতে বিপরীত হয়, ভালো করতে গেলে সবাই ভুল বোঝে। খুব ইচ্ছে ছিলো ঘরে ঢুকে বাবা মা কে বসিয়ে একটু বোঝাই। কিন্তু তারা ওয়েল এডুকেটেড এবং দুইজনই ভালো পর্যায়ে কর্মরত!

বিষয়টা হলো বড় হয়ে আমরা কেনো কেবল বড়ই হয়ে যাই,বুকের ভেতর আমাদের যে শৈশব সে তো মৃত নয়! ঐ শৈশব কে জাগিয়ে শিশু হয়ে কেনো আমাদের শিশুদের একটু বুঝতে চাইনা? আমাদের কথা সবসময় সে নাও শুনতে পারে বা নাও মানতে পারে। হয়ত এর পেছনে তার নিজস্ব কোন ব্যখ্যা আছে। কিন্তু রেগে গিয়ে এমন সব কথা বা এমন সব শাস্তি আমরা তার উপর তুলে দিচ্ছি যার ভর সইবার ক্ষমতা তার হয়েছে কিনা একবার ভেবেও দেখছি না!

যাকে যা কিছু বলবেন, যার সম্বন্ধে আশা করবেন বা মন্তব্য করবেন তার আগে তার অবস্থান, বয়স, পরিবেশ, পরিস্থিতি, লিঙ্গ, বৈচিত্র মনোভাব পর্যবেক্ষণ করেই তারপর আপনাকে উপস্থাপন করবেন।

বিশেষ করে আমাদের কোমল মনের শিশুদের সাথে অনেকবেশি যত্ননিয়ে, নিজের বড়ত্ব, পান্ডিত্য পরিত্যাগ করেই শিশুবান্ধব আচরণ প্রদর্শন করা জরুরি এবং তেমনটা অবশ্যকরণীয়!

বেড়ে উঠুক শিশু কচি গন্ধের নরম আদলে
সাদা গাঙচিল, সাদা বকসারি যেনো
উড়ন্ত ডানায় খোলা হাওয়ার নেশা লেগে থাকুক
কলি থেকে ফুল হয়ে ফুটুক, পাপড়ি মেলে, ধীরে….
হয়ে উঠুক আসলেই মানুষ, সহজ মানুষ!

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com