শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:২৪ অপরাহ্ন

শুধু শরীয়া শাসনের নাম ইসলামি রাষ্ট্র নয়

শুধু শরীয়া শাসনের নাম ইসলামি রাষ্ট্র নয়

শুধু শরীয়া শাসনের নাম ইসলামি রাষ্ট্র নয়

সগীর আহমদ চৌধুরী : গায়ে লম্বা জামা, মাথায় টুপি-পাগড়ির মতো পোশাক-পরিচ্ছেদ, দুআ-যিকর ও তিলাওয়াত করা এবং নিষ্ঠার সাথে ইবাদত-বন্দেগিকে আমরা ধার্মিকতা বলে জানি, একটা মানুষকে ধর্মপ্রাণ হিসেবে বোঝানো হলে এসবে গুণান্বিত বলে মনে করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এসব দীনের একটা পার্ট মাত্র, পূর্ণাঙ্গ দীন নয়। এর সঙ্গে পরিবার-পড়শির হক আদায়, মুআমালাত-মুআশারাতে নৈতিকতা অবলম্বন, আখলাকি সৌন্দর্য ও সমাজের কল্যাণ কামনাও দীনের অংশ। অর্থাৎ শুধু ব্যক্তিগত ধর্মচর্চা দীন নয়, এর সাথে সমাজচিন্তা আবশ্যক, অপরিহার্য।

অনুরূপভাবে ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ বলতেই আমাদের হৃদয়ের আলপনায় শরীয়া শাসনের কল্পনা ভেসে ওঠে। স্পষ্ট কথা হচ্ছে, শুধু শরীয়া শাসনের নাম ইসলামি রাষ্ট্র নয়, উম্মাহর কল্যাণ হচ্ছে এর অপরিহার্য অংশ। নতুবা সউদি আরব ও ব্রুনাইয়েও শরীয়া আইন বলবৎ আছে। কিন্তু ওরা ভোগ-বিলাসিতায় ডুবে আছে, জনগণ অলস সময় কাটাচ্ছে, দক্ষ জনশক্তি নেই তাদের, বৈজ্ঞানিক কোনো গবেষণা নেই, প্রযুক্তিগত নিজস্ব আবিষ্কার নেই। শুধু শরীয়া শরীয়া করে মাতম করার নাম ইসলামি রাষ্ট্র নয়, দেশটা কতোটা এগুলো, অন্যান্য জাতির মোকাবেলায় মুসলিম জাতি হিসেবে কতোটা শক্তিশালী হলো এমনই একটা অন্যতম প্রধান লক্ষ্য যে রাষ্ট্রের সেটিই ইসলামি রাষ্ট্র।

বস্তুত শরীয়া ও উম্মাহর কল্যাণ ইসলামি রাষ্ট্রের লক্ষ্য এ দুটো। বরং আমি প্রাধ্যন্য দেই উম্মাহকেন্দ্রিক চিন্তাধারাকে। যে রাষ্ট্রে স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থা হবে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা থাকবে, শিক্ষাব্যবস্থায় যথাযথ ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থাকবে, নতুন প্রজন্ম চরিত্রবান হবে, যাবতীয় ধর্মীয় অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে, দেশের শতভাগ মানুষ শিক্ষিত হবে, স্বাস্থ্য-বাসস্থান ও কর্মের সুযোগ থাকবে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত আবিষ্কারে জোর তাগাদ থাকবে, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকবে এবং অন্যান্য জাতির মোকাবেলায় সামরিক বাহিনীকে আধুনিক সমরাস্ত্র দ্বারা শক্তিশালী করা হবে।

কামনা করি, মুসলিম দেশগুলো আগে শক্তিশালী হোক, শরীয়া কায়েমের নামে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে ধ্বংস হয়ে না যাক। লিবিয়া-সিরিয়া ধ্বংস হয়ে গেল, কতোই না সাজানো-গোছানো ছিল দেশদুটো। চর্তুদিকে ধ্বংসস্তুপ ছাড়া এখন কি আছে দেশদুটোতে? দেশদুটো কবে মাথা তুলে দাঁড়াবে? কবে ঘুরে দাঁড়ে অন্যান্য জাতির মোকাবেলায়? অতো দিনে অন্যান্য জাতি কি বসে থাকবে? পঞ্চশ কদম এগিয়ে থাকবে না এদের থেকে? মুসলিম দেশসমূহে এধরনের সংঘাতের সূচনা হলে কাদের লাভ? যাদের লাভ এসবের পেছনে কালো হাত তাদেরই। শয়তান আমাদের কাছে নেক সুরতে আসে, মস্তিস্কে বিষ-বীজ ঢুকিয়ে দেয়, কিন্তু এই আযাযীলের পেছনে যে আছে তার নাম হচ্ছে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর শত্রু, মুসলিম মিল্লাতের গণশত্রু।

লেখক : গবেষক ও রাজনীতিক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com