রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

শীলনের আয়োজন | ইহসান আদিব

শীলনের আয়োজন | ইহসান আদিব

শীলনের আয়োজন | ইহসান আদিব

তিনি এখন গল্প লিখেন না , গুণগুণ করে ছড়া কাটেন না । ডুবন্ত সূর্যের বধু সাঝ দেখেও তার কবিত্ব জাগে না । আমি এক শুকনো ডাটার মতো নেতিয়ে পড়া বৃদ্ধের কথা বলছি , জীবনের এই সন্ধ্যা সময়ে এসে হয়তো ভাবছেন, তার ও একটা সময় ছিল, যখন সবুজ ঘাসে গা এলিয়ে ফিকে আকাশের দিকে তাকালেই হৃদয়টা ভরে উঠত ভাবনায়, জোড়া ঠোট নড়ে উঠত, নিজের অজান্তেই পকেটে চলে যেত হাতটা । বের করে আনত কলম আর কাগজের ছেড়া টুকরো। তখন চাইলেই লিখতে পারতেন।

ডায়েরির পাতা ভরে দিতে পারতেন অজস্র মুক্ত কণায়, কৃষ্ণচূড়ার লাল টিপ আঁকা ঋতুরাজ বসন্ত আর কৃষকের ঘামে ঢাকা গ্রীষ্ম সবি তার কাছে সমান মনে হতো। পলতের মিটিমিটি আলোয় লেখা আর জানালার কাঁচ ভেদে টেবিলে পড়া চাঁদের কোমল আলোয় লেখা দুটি কবিতায় সমান কদর পেত পাঠক মহলে । কিন্তু এখন তিনি চাইলেই দু’কলম লিখতে পারেন না । পকেটে আগের মতো কলম আর কাগজের ছেঁড়া টুকরোটিও খুঁজে পাওয়া যায় না।

তারুণ্যের সেই তেজ , সেই গতি , সেই অধম্য স্পৃহা তারুণ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে । তার সাহিত্য প্রতিভা এখন যেন বুড়ো সূর্যের তেজহীন আলো । হয়তো প্রয়োজন ছিল সামান্য গঠনমূলক চর্চা ও তার ধারাবাহিকতার, মাঝ পথে কলম না থামিয়ে লেখা লেখি চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তিনি তা পারেন নি। তারুণ্য কে চিনেন নি বা দূর থেকে কেউ অঙ্গুলি ইশারায় চিনিয়ে দেয় নি। ফুল হয়ে ফুটতে দেয়নি তার মাঝে লুকিয়ে থাকা সাহিত্য প্রতিভার ঘুমন্ত কলিটি। ফলে তিনি সাহিত্তাঙ্গনে একটা সময় যুদ্ধ করেও যেন এক পরাজিত সৈনিক । এই মহলে এ ধরনের সৈনিকের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

আমারা যারা কিশোর-কিশোরী , তরুণ-তরুণী আলতো পরশে তাদের কৈশোর বা তারুণ্যকে সাহিত্য রঙ্গে রাঙ্গাতে শীলনের এই আয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com