বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

শিক্ষক নির্বাচনে সতর্কতা জরুরি  

শিক্ষক নির্বাচনে সতর্কতা জরুরি  

শিক্ষক নির্বাচনে সতর্কতা জরুরি  

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : কারো কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার আগে তার সস্পর্কে আগে জানুন। কোন প্রতিষ্ঠানে আমরা পড়ি বা কোন প্রতিষ্ঠানে আমরা আমাদের সন্তানদের ভর্তি করি, তবে এই নিজে পড়া এবং সন্তানদের পড়ানোর আগে সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সস্পর্কে জানতে হবে। শিক্ষক গণ কেমন? তাদের আমল আখলাক কেমন? শিক্ষকগণের যোগ্যতা কেমন? সে ব্যাপারে যাচাই বাছাই করে নিতে হবে।

যেমন আমরা চিকিৎসার জন্য কোন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে খোঁজ খবর নিয়ে যাই। ডাক্তার ভাল না মন্দ সে ব্যাপারে যাচাই বাছাই করে থাকি।

ঠিক, কোন শিক্ষকের কাছ থেকে নিজে কিছু শিখতে চাইলে বা নিজের সন্তান কে কোন শিক্ষকের কাছে পড়াইতে চাইলে, সর্ব প্রথম সে শিক্ষক সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে হবে।

যাচাই বাছাই ছাড়া কোন শিক্ষকের কাছে যাওয়া ঠিক নয়। কেননা, শিক্ষক যদি চরিত্রহীন হয়, অযোগ্য হয়, তাহলে সেই শিক্ষকের কাছ থেকে আমরা কিছু শিখতে পারব না। আমাদের সন্তানেরা ওসব শিক্ষক থেকে কোন কিছু হাসিল করতে পারবে না। বরং ঐ বদ স্বভাবের শিক্ষকের বদ আছর পড়বে ছাত্রের উপর।

এজন্য কারো কাছ থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ করার আগে তার সম্পর্কে জানতে হবে। সেই শিক্ষক সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে হবে। তিনি ভাল না মন্দ। তার আমল আখলাক কেমন, তার চরিত্র কেমন, তার চিন্তা চেতনা কেমন, তার যোগ্যতা কেমন, মোটামুটি সব বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া জরুরি।

হাদীসের অন্যতম কিতাব মুসলিম শরীফের মুকাদ্দামার মধ্যে রয়েছে, তোমরা ভাল করে দেখ, যার কাছ থেকে তুমি দ্বীনি জ্ঞান হাসিল করবে। ( মুসলিম)

 

এখানে বড় একটা ফ্যাক্ট। আজকাল আমরা কিন্তু শিক্ষক সম্পর্কে কোন খোঁজ খবর রাখিনা। কারো সম্পর্কে না জেনে তার কাছ থেকে দীক্ষা নিতে যাই। পরিশেষে বিষয়টা অন্য দিকে গড়াতে থাকে।

দেখুন! শিক্ষক যদি নাস্তিক হয়, তাহলে তার কাছ থেকে কি শিখবে? ঐ নাস্তিক্যবাদী ধ্যান ধারণা ছাত্রদের আছর করবে।

শিক্ষক যদি লম্পট হয়, তাহলে ঐ বদ আছর ছাত্রের উপর পড়বে।

শিক্ষকের আকিদা বিস্বাস যদি সহী না হয়, তাহলে তার ছাত্ররা গোমরাহীর দিকে ধাবিত হবে।

একারণে খুবই জরুরি জেনে শুনে ভাল শিক্ষকের কাছে যাওয়া। নিজ সন্তানকে ভাল উস্তাদ দেখে ভর্তি করানো। উস্তাদের আখলাক, চরিত্র, ধ্যান ধারণা সম্পর্কে অবগত হয়ে সেখানে সন্তানদের পাঠানো।

বাজারের চটকদার সাইনবোর্ড দেখে সে দিকে দৌড়ানো ঠিক নয়। প্রয়োজন আগে খোঁজ খবর নেওয়া।

আজকাল পীর ধরার ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুলো লক্ষ্য করা যেতে পারে। পীর ধরা মানে উস্তাদ ধরা। কিছু শেখার জন্য মানুষ পীরের কাছে যায়।

এখন পীরের ধ্যান ধারণা যদি সহী না হয়। পীরের আকিদা বিশ্বাস যদি গলত হয়। পীরের চরিত্র, আমল আখলাক যদি ভাল না হয়, তাহলে ঐ পীরের কাছে গেলে কি কোন ফায়দা হবে?

ফায়দা তো হবেই না, বরং ঐ সকল পীরের দ্বারা জাতি গোমরাহ হয়ে যাবে।

বহু পীর আজ সমাজে বিদ্যমান। যাদের আকিদা বিস্বাস সহী নেই। যারা অযোগ্য। এসব পীরেরা সাধারণ মানুষকে জ্ঞান দিচ্ছে।

বলুন তো, যে অযোগ্য, যার কোন যোগ্যতা নেই, সে কি শিখাবে মানুষকে?

শেষকথা হলো, উস্তাদ ধরার আগে ভাল করে খোঁজ নেওয়া চাই। পীর ধরার আগে ঐ পীর সম্পর্কে জানা চাই। সব কিছু জেনে বুঝে তারপরে তার কাছ থেকে দীক্ষা নেওয়া।

আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com