শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩১ অপরাহ্ন

শিক্ষকের দায়, অভিভাবক দায় মুক্ত?

শিক্ষকের দায়, অভিভাবক দায় মুক্ত?

অরিত্রী। ছবি: সংগৃহীত

শীলনবাংলা ডটকম : সব দায় কেবল শিক্ষকের নয় বরং অভিভাবকেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে দাবি করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি কলামে সাংবাদিক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল লিখেছেন, শিক্ষকরা নিশ্চয়ই মেয়েটিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার জন্য এসব করেননি। নকল ধরে কোনো ব্যবস্থা না নিলে কি অন্য ছাত্রীদের নকলে উৎসাহিত করা হতো না!

অভিভাবক ও অভিভাবিকাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি লিখেছেন, এখন যদি প্রশ্ন করা হয় মেয়েটির হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিলো কে? এ বয়সী একটি মেয়ের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেয়ার সময় কি মেয়েটি নাবালিকা তা খেয়াল ছিল না।

বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি কলামে সাংবাদিক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল এ বক্তব্য তুলে ধরেন।
একতরফা স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য দায়ি নয় উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, মেয়েটির আত্মহত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে অভিভাবকরাও এর দায় এড়াতে পারেন না। আমার শিক্ষক আত্মীয়টি জানান, আজকাল প্রায়ই জুনিয়র ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখা যায়। কাউন্সিলিংয়ের অংশ হিসেবে আলাপকালে জানতে পারি, বাবা-মায়ের বনিবনা নেই। পড়াশোনার টেবিলে ডেকে বসানোর সময়ও তাদের হাতে নেই।

এসব কারণে ছোট ছোট শিশুরা মানসিকভাবে হীনম্মন্যতায় ভুগছে। বর্তমানে অনেক শিক্ষকও কোচিং বাণিজ্যে জড়িত। তবে কোচিংব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠার নেপথ্যে অভিভাবকরা অনেকটাই দায়ী। তাদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা কার ছেলে বা মেয়ে বেশি নম্বর পাবে। এ সুযোগটিই নেন শিক্ষকরা। কারণ শিক্ষকরা ভিন্ন গ্রহের মানুষ নন। এ সমাজেরই মানুষ।

তিনি লিখেছেন, কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে আরও কড়া আইন করা হোক। ঢালাওভাবে শুধু শিক্ষকদের ওপর দায় চাপালে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিক্ষকদের জন্য ১১ দফা আচরণ বিধি রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আচরণ বিধি প্রণীত হয়নি। সময় হয়েছে তাদের জন্যও আচরণবিধি তৈরি করার। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় না করে শুধু শিক্ষকদের ওপর দায় চাপালে শিক্ষাব্যবস্থার আরও অবনতি হবে।

সমাজ বিশ্লেষকগণ মনে করেন, শিশুদেরকে আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। শিশুর স্বাস্থ্য, মেধা, শক্তিমত্তা, দক্ষতা, মানসিক সন্তুষ্টি এবং অপরের সাথে মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। শিশুকে আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল রূপে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা যায়। বিভিন্ন উপায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা হতে পারে।

শিশু বখে যাওয়ারও সম্ভাবনা কম থাকে। আত্মহত্যার মতো দুর্ঘটনা থেকেও বেঁচে যেতে পারে শিশু।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com