বুধবার, ১৭ Jul ২০১৯, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

শিক্ষকদের আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রয়োজন

শিক্ষকদের আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রয়োজন

শিক্ষকদের আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রয়োজন

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আজকাল ইসলাহী প্রশিক্ষণের খুব প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতোপূর্বে শিক্ষকদের থেকে এধরনের আচরণ আমরা পাইনি। বর্তমানে কিছু মাদ্রাসার শিক্ষকদের অনৈতিক কার্যকলাপ ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।
আগে মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষকদের ইসলাহী প্রশিক্ষণ হত। অনেক বড় বড় বুজুর্গদের নেগরানীতে শিক্ষকদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হত। আল্লাহর ভয়, আল্লাহর আজাবের ভয়, কবরের ভয়, জাহান্নামের ভয়, ইত্যাদী বিষয়ে মুরুব্বী আলেমদের মাধ্যমে উস্তাদদের তা’লীম দেওয়া হত।

বর্তমানে ইসলাহী প্রশিক্ষণ হয় না। কওমী মাদ্রাসাগুলোতে জায়গা বিশেষ এসব আয়োজন করা হয়, কিন্তু আলিয়া মাদ্রাসাগুলো ওসবের ধারে কাছে নেই।

এক সময় আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে অনেক বড় বড় বুজুর্গের আনাগোনা ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে আলিয়া মাদ্রাসাগুলো খুবই কঠিন সময় পার করছে।

আলিয়া মাদ্রাসা গুলো এখন নামে মাত্র মাদ্রাসা আছে। বাকী তাদের চালচলন কলেজ ভার্সিটির মত। সারা দেশের দু একটা প্রতিষ্ঠান ছাড়া, বাকী কোন আলীয়া মাদ্রাসাতে আমল আখলাক দুরুস্ত নেই।

কলেজ ভার্সিটির সুযোগ পেয়ে তারা এখন জমানার তালে মিশে গেছে। যে রকম ছাত্র ও রকম উস্তাদ। কেউ সুন্নতে নববীর অনুসারী নয়। সবই এখন হাল জমানার তালে তাল দিচ্ছেন।

সবচেয়ে বে খারাপ অবস্হা হয়েছে, সহ শিক্ষায়। ছেলে মেয়ে একত্রিত হয়ে তাদের শরয়ী পরিবেশ হুমকির মুখে।

আলীয়া মাদ্রাসাতে খাছ পর্দার বালাই নেই। কিছু ছাত্র উস্তাদের চালচলন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে হার মানিয়েছে।

কওমী মাদ্রাসা গুলো তাদের স্বকীয়তা ধরে রাখতে পারলেও তবে কিছু কিছু জায়গায় পরিবেশে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইসলাহী প্রশিক্ষন গুলো আগের মত নেই।

আগে যেমন দাওরায়ে হাদীস পাশ করার পর কোন কামেল শায়েখের সোহবাত কে খুব জরুরি মনে করা হত, কিন্তু বর্তমানে সেটাকে আর কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। যার কারণে কওমী মাদ্রাসা গুলোতেও আমল আখলাকের কমতি দেখা যাচ্ছে।
এজন্য শিক্ষক যেখানেরই হোক, তাঁকে অবশ্যই ইসলাহী আমলী প্রশিক্ষন দেওয়া খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

আমার মনে হয়,প্রত্যেক জেলায় জেলায় মারকাজ বানায়ে সেখানে উস্তাদগণ কে কোন বুজুর্গের মাধ্যমে ইসলাহী আমলী প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।

আশা করা যায় এসব প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের অনেক ফায়দা হবে। শিক্ষকদের দ্বারা অনৈতিক কাজ বন্ধ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com