বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীর পথপ্রদর্শক এবং…

শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীর পথপ্রদর্শক এবং…

শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীর পথপ্রদর্শক এবং…

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, যে প্রতিষ্ঠান হোক, সেখানকার শিক্ষকগণ হলেন ছাত্র ছাত্রীর অভিভাবক। শিক্ষকগণ ছাত্র ছাত্রীর আশ্রয়স্হল। শিক্ষকগণ পথ প্রদর্শক।

বাড়িতে সন্তানের অভিভাবক থাকেন, মাতা- পিতা। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে তখন সেই সন্তানের অভিভাবক হন শিক্ষকমণ্ডলী।

মাতা পিতা সন্তান লালন পালন করেন, সেটা তার বাড়িতে। কিন্তু শিক্ষককের কাছে গিয়ে ওসব সন্তানেরা জ্ঞান লাভ করেন। এবং সেই জ্ঞানে মানুষের মত মানুষ বনে যায়। অন্ধকার থেকে আলোর সন্ধান পায়।

শিক্ষকের সংস্পর্শে থেকে একজন ছাত্র আলোকিত মানুষ হয়ে ওঠে।

তবে ছাত্র/ ছাত্রীর জন্য শিক্ষকমণ্ডলী তাদের আশ্রয়স্হল তখন হবে,যখন শিক্ষকগণের সাথে শিক্ষার্থীদের নিবিড় সম্পর্ক থাকবে। শিক্ষকদের সাথে ছাত্র/ ছাত্রীর সম্পর্ক না থাকলে, তাহলে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের আশ্রয়স্হল হতে পারেনা। এবং শিক্ষকদের থেকে ছাত্ররা কোন কিছু হাসিল করতে পারেনা।

এজন্য ছাত্র/ ছাত্রীদের সাথে উস্তাদের ভাল সম্পর্ক থাকা চাই। যে সস্পর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তরক্কী হবে। জ্ঞানের প্রসারতা লাভ করবে।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে উস্তাদ- ছাত্রের মাঝে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। এখন আর ছাত্র/ ছাত্রীর জন্য উস্তাদ গণ আশ্রয়স্হল নয়। বরং কোথাও কোথাও এখন ছাত্র / ছাত্রীগণ উস্তাদদের সাথে সম্পর্ক রাখাটা বিপদজনক মনে করছে।

উস্তাদদের প্রতি অনীহা। শিক্ষকদের উপর থেকে আস্হা হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীগণ।

যে শিক্ষকমণ্ডলী সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু কিছু শিক্ষকের উল্টা- পাল্টার কারণে এখন আর শ্রদ্ধা থাকছে না।

কিছু শিক্ষকের অনৈতিক কার্যকলাপ এবং শরীয়তের খেলাপ কর্মকাণ্ডে বিষিয়ে তুলেছে সবাইকে। ঢালাওভাবে সকল শিক্ষককে নয়। কিছু কিছু শিক্ষকের অপরাধ সত্যি দুঃখজনক।

শিক্ষক বলতেই আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র।সন্মানের বস্তু তিনি। কিন্তু কিছু শিক্ষকের আচরণে আজ পুরো শিক্ষক সমাজ প্রশ্ন বিদ্ধ।

এজন্য পুরো শিক্ষক সমাজ দায়ী নয়। শিক্ষক সমাজকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তবে দু চারজন যারা অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত, সে সব শিক্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত।

সস্প্রতি ফেনী জেলার সোনাগাজী মাদ্রাসার এক অধ্যক্ষ/ শিক্ষকের অনৈতিক কার্যকলাপ বরদাশত করার মত নয়। তিনি একজন শিক্ষক নামের কলঙ্ক। তার দুশ্চরিত্রে মাদ্রাসার সরল প্রাণ ছাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে ছিল।

সেই লম্পট শিক্ষকের প্ররোচনায় একজন ছাত্রীকে পুড়িয়ে মারা হল। যে ঘটনা সারাদেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। দেশ বাসি সকলেই ব্যথা পেয়েছে যে ঘটনায়।

এজন্য ওসব চরিত্রহীন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সত্বর ব্যবস্হা নিতে হবে। আরো যেসকল জায়গায় শিক্ষক কর্তৃক এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে সকল জায়গায় কঠিন ব্যবস্হা নেওয়া দরকার। যার দরুন অদুর ভবিষ্যতে এজাতীয় আর ঘটনা না ঘটে।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com