বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

শায়খে বিশ্বনাথী : জাতির এক দরদী অভিভাবকের নাম

শায়খে বিশ্বনাথী : জাতির এক দরদী অভিভাবকের নাম

শায়খে বিশ্বনাথী : জাতির এক দরদী অভিভাবকের নাম

শাহিদ হাতিমী :: ইসলামী রাজনীতির জন্য জীবন যৌবন বিলিয়ে দেয়ার তালিকাটা বিশ্বমানচিত্রে খুবই সংক্ষিপ্ত। এটা কতো যে কঠিন কাজ তা ভাষায় প্রকাশ করা সহজ নয়। কিছু মহৎপ্রাণ মানুষ দ্বীনের কল্যাণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন বলেই আমরা আজও ইসলামের দোহাই দেই এবং ইসলামী রাজনীতির কথা বলি, সিয়াসত করি, রাজপথে নামতে পারি। নতুবা সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এতোদিনে আমাদেরকে গ্রাস করে নিতো। ঘর্মঝরা আয়েস যাঁদের জীবন তরীর মাঝে! পাঠ করো, পাথেয় রয়েছে তাঁদের জীবনের সাজে। শায়খে বিশ্বনাথী ছিলেন তেমনই এক মনীষা। তিনি গড়ে গেছেন জামিয়া মাদানিয়া বিশ্বনাথ। যেখানে প্রতিনিয়ত পাঠ হয় ক্বালা ক্বালা হাদ্দাসানা আনিন নাবিয়্যী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!

মাওলানা আশরাফ আলী শায়খে বিশ্বনাথী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। একজন সংগ্রামী রাজনীতিক। দরদী একজন জাতীয় অভিভাবক ছিলেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। আকাবিরের সংগঠন জমিয়তের জন্য জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো ব্যয় করেছেন। বাংলাদেশ স্বাধীনের আগে এই পূর্বপাকিস্তানে জমিয়তের কার্যক্রম সুচনায় সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় (পশ্চিম পাকিস্তানের) নেতৃবৃন্দকে তিনি এদেশে এনে জাতীয়ভাবে সাংগঠনিক কাঠামো দাড় করানোর তৎপরতার জন্য তাঁকে “বাবায়ে জমিয়ত” বলা হতো! ২০০৫ সালের আজকের এই দিনে (২০মে) তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। মাওলায়ে কারীমের ডাকে সাড়া দেন। ইন্নালিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

১৯২৮ সালের এক প্রভাতে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলায় এই মনীষীর জন্ম। এইযে করোনা পরিস্থিতি, এমন দূর্যোগময় সময়ে তিনি রাতে চোখের পানিতে জায়নামাজ ভেজাতেন আর দিনের আলোতে বেরিয়ে পড়তেন এক জেলা থেকে আরেক জেলায়। রাজধানী থেকে অজপাড়া মফস্বলের কোনো নিভৃত পল্লীতে। তাঁর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকতেন ফখরে মিল্লাত, মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ও জামিয়া আরজাবাদের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা শামসুদ্দীন কাসিমী রাহিমাহুমুল্লাহ। তাঁরা তিনজন ছিলেন অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধু! আজকের এই কঠিন সময়ে একজন আশরাফ আলী বিশ্বনাথী, একজন শামসুদ্দীন কাসিমী অথবা একজন মুহিউদ্দীন খানের বড্ড প্রয়োজন ছিল।

মহান আল্লাহ শায়খে বিশ্বনাথীকে জান্নাতের সর্বোচ্চ আসনে আসীন করুন, আমিন। শায়খে বিশ্বনাথী শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রাহ. এর কাছে বায়আত হলেও তিনি ইজাজতপ্রাপ্ত ছিলেন ইমামে মাদানী আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়ার। শায়খে কৌড়িয়া রহ. ইন্তেকালের পর পুরোদেশের উলামা মাশায়েখের সর্বসম্মতিক্রমে তাঁরই খলীফা শায়খে বিশ্বনাথীকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্থপতি সংগঠন “জমিয়তের” সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। জমিয়তের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর সবসময়ই তিনি জাতির দূর্দিনে দরদী একজন জাতীয় অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতেন। সাকাল্লাহু সারাহু ও জাআলাল জান্তা মাসওয়াহু।

লেখক : তরুণ আলেম

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com