বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

লোকসানি রহিমা ফুডের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি

লোকসানি রহিমা ফুডের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক • মুনাফার দেখা তো নেই উল্টো বড় অঙ্কের লোকসানে থাকার পরও অস্বাভাবিকভাবে শেয়ার দাম বাড়ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রহিমা ফুডের। এক বছরের বেশি সময় ধরে অনেকটা টানা বাড়ছে এই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দাম। আর শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রহিমা ফুডের শেয়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির প্রবণতা বেড়ে গেছে। কোম্পানিটির শেয়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কারণে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে বিনিয়োগকারীদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। এর পরও রহিমা ফুডের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা থামছে না।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার আরও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে ডিএসই। ডিএসই জানিয়েছে, কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনের কারণ জানতে চেয়ে ৪ অক্টোবর নোটিশ পাঠানো হয়। এর জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে তার জন্য তাদের কাছে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাস থেকেই রহিমা ফুডের শেয়ারের দাম টানা বেড়েছে। ২০১৬ সালের ৫ মে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৩৬ টাকা ৯০ পয়সা। যা টানা বেড়ে ৪ সেপ্টেম্বরের লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ১৭৮ টাকা ৬০ পয়সা। শেয়ারের দাম এমন অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও এ সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের কোনো সুবিধা দিতে পারেনি এই কোম্পানিটি।

ব্যবসা পরিচালনা করে মুনাফা করতে পারছে না রহিমা ফুড। বরং সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে) ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকা লোকসান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এ লোকসানের পাল্লা দিন দিন বেড়েই চলছে।

গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর প্রান্তিকে রহিমা ফুডের লোকসান হয় ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার আগের প্রান্তিকে (২০১৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) লোকসান হয় ৩০ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ২০১৬ সাল শেষে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে সেই লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে হয়েছে ৭৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, রহিমা ফুডের মোট শেয়ারের মাত্র ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচলকদের হাতে। বাকি শেয়ারের ৫৭ দশমিক ১৬ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার।

শীলন/৩০৮

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com