মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

লেখকদের কলমে আল্লাহ প্রজ্ঞা ঢেলে দেন : এম আর মনজু

লেখকদের কলমে আল্লাহ প্রজ্ঞা ঢেলে দেন : এম আর মনজু

লেখকদের কলমে আল্লাহ প্রজ্ঞা ঢেলে দেন : এম আর মনজু

শীলন বাংলা রিপোর্ট :

‘নিজেকে গড়ি’ স্লোগান নিয়ে সৃজনশীল লেখালেখির সংগঠন শীলন বাংলাদেশের ১০৯তম সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় মাদরাসা উসমান মিলনায়তনে শুক্রবার (২৬শে জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হয় এ সাহিত্যসভা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সভাপতি কবি ও ছড়াকার এম আর মনজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাসিক আল কারীম পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইন সাকী ও তরুণ বক্তা মাওলানা মাঈনুদ্দীন খান তানভীর ।

পঠিত লেখার উপর উপভোগ্য আলোচনা করেন কবি শামস আরেফিন এবং ছড়াশিল্পী-গীতিকার সায়ীদ উসমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গল্পকার কাজী সিকান্দার । অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কবি আদিল মাহমুদ।

শীলন বাংলাদেশের সাহিত্যসভায় লেখা পাঠ করেন, মাসউদুল কাদির, সায়ীদ উসমান, কাজী সিকান্দার, আদিল মাহমুদ, আবুদ্দারদা আব্দুল্লাহ্, আহমদ কাশফী, আহসান হাবীব রাফি, তোফায়েল আহমদ শিহাব প্রমুখ।

এছাড়াও উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে সাহিত্য আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন, রাশেদ হাসান, আখলাকুল আম্বিয়া, ইবরাহীম হাসান,আব্দুল্লাহ আল-মামুন প্রমুখ।

পঠিতলেখার উপর বিশেষ বিচারে তিন জনকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রদান করেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সভাপতি কবি ও ছড়াকার এইচ এম মনজু বলেন, সাহিত্যচর্চা, লেখালেখি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে। এ পথে এসে আমাদেরকে বিপথগামী হয়ে গেলে চলবে না। আমাদের কলম দ্বারাই সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ন্যায়ের পক্ষে লিখতে হবে এবং সমাজের সমস্ত ভণ্ডামির মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

লেখকদের কলমে আল্লাহ্ তা’আলা প্রজ্ঞা ঢেলে দেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সভাপতি বলেন, যারা বিসমিল্লাহ্ বলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য লিখে তাদের কলমে আল্লাহ্ তা’আলা প্রজ্ঞা ঢেলে দেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বেশী লেখাপড়া করেননি কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ন্যায়ের কথা লিখতেন, মানবতার জন্য লিখতেন। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর কলমে প্রজ্ঞা ঢেলে দিয়েছিলেন। তাই তিনি কালজয়ী হতে পেরেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাভাষার পাশাপাশি ইংরেজি,আরবী, ফার্সী ও উর্দু ভাষার বিপুল সাহিত্য ভাণ্ডার মন্থন করে আমাদেরকে জ্ঞানভাণ্ডার আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অনুবাদও করতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক, মাসিক আল কারীম পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইন সাকী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার আগ্রাসনে আমাদের সাহিত্য সভাগুলো প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের সভাগুলো থেকে অতীতে অনেক সৃজনশীল লেখক তৈরী হয়েছেন। আজ মিডিয়ায় সবাই আত্মপ্রচারে ব্যস্ত। দু’চার লাইন লিখেই সেলিব্রেটি হতে চাই। ফলে, লেখক অনেক তৈরী হচ্ছে কিন্তু, সৃজনশীল লেখক পাওয়া যাচ্ছে না।

শীলন বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, এই প্রতিকূলতার মধ্যেও শীলন বাংলাদেশ তাদের যাত্রা ধরে রেখেছে। যা প্রশংসা যোগ্য। আমি আশাকরি ইনশাআল্লাহ, অচিরেই এখান থেকে সৃজনশীল ভালো মানের লেখক বেরিয়ে আসবে।

সাহিত্য সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তরুণ বক্তা মাওলানা মাঈনুদ্দীন খান তানভীর বলেন, কওমী অঙ্গনে লেখালেখি ও সাহিত্যের খেদমত খুব-ই কম হচ্ছে। এই অঙ্গনের কারো লেখা বাংলায় একটি গ্রহণযোগ্য সৃজনশীল সীরাত গ্রন্থও আজও পাওয়া যায় না। অথচ, ইসলামবিদ্বেষী মার্ক্সবাদ,লেলিনবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাহিত্যের উঁচু উঁচু স্তর দখল করে আছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কওমী অঙ্গনের এই সমস্ত সাহিত্য সভাগুলো থেকেই আগামীতে ভালোমানের সৃজনশীল লেখক বেরিয়ে আসবে।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে মাওলানা কাজী সিকান্দার, শাসম আরেফিন, সায়ীদ উসমান প্রমুখ অনেক তথ্যবহুল আলোচনা করেন।

শীলন বাংলাদেশের সভাপতি মাসউদুল কাদির বলেন, আল্লাহর শুকরিয়া। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে শুক্রবার (২৬শে জুলাই) সকালে শীলন বাংলাদেশ-এর ১০৯তম সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূরে এবং কাছের অনেক মেহমান লেখিয়ে এসেছিলেন। এসেছিলেন অনেক গুণীজনও। এ ছাড়াও একঝাঁক তরুণ তুর্কী হাজির হয়েছিলেন শীলনের সাহিত্য আড্ডায়। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা আগের মতোই শীলনকে ভালোবাসেন এবং বাসছেন এরচেয়ে আনন্দের কিছু নেই।

মাসউদুল কাদির বলেন, নতুন উদ্যমে শুরু হওয়া এই শীলন বাংলাদেশের সাহিত্য আড্ডার মূল টার্গেট আমাদের মেধাবী তৃণমূল। আমরা তাদের নিয়ে পথ চলতে চাই।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com