সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

রিং পরানোর যত কথা

রিং পরানোর যত কথা

রিং পরানোর যত কথা

শহিদুল ইসলাম কবির :

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ ১৮ সেপ্টেম্বর কোনরকম পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় আমার হার্টে একটি ব্লক থাকা স্থানে রিং পরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়া হয়।

একটু বিস্তারিত বলতে গেলে বলতে হয়-
১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হসপিটালে কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ মীর জামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে এনজিওগ্রাম করার পর সংবাদিক ফজলুল বারী ভাই এর মাধ্যমে ম্যাসেঞ্জার এর মাধ্যমে জানতে পারি আমার হার্টে একটি ব্লক রয়েছে।

পরবর্তীতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হসপিটালে রিং পরানোর কথা চিন্তায় রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক বিভাগের সাবেক চিকিৎসক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ শরফুদ্দিন সাহেব এর পরামর্শে ১৪ সেপ্টেম্বর ১ সপ্তাহের জন্য হসপিটাল ত্যাগ করি।

এরই মধ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা ২ টায় সিদ্ধান্ত হয় রিং পরানো হবে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ।

সে অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হসপিটালে গিয়ে এনজিওগ্রাম এর সিডি ও রিপোর্ট নিয়ে সকাল ৯ টার মধ্যে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর নির্ধারিত চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাত করতে হবে।

কিন্তু জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হসপিটালে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আমার সঙ্গী মামাতো ভাই ফয়সাল খান কে সাথে নিয়ে গিয়ে জানা গেল আজ এনজিওগ্রাম এর রিপোর্ট ও সিডি পাওয়া যাবে না। আগামীকাল আসতে হবে।

আমি সেখান থেকে খালি হাতে ফিরে পূর্বের রিপোর্ট নিয়ে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর নির্ধারিত চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি জানান সিডি ব্যাতিত আমরা আপনাকে হসপিটালে ভর্তি করতে পারছি না। তাই আগামীকাল সিডি নিয়ে আসুন।

সে অনুযায়ী ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে পুরানা পল্টনে থেকে ফজরের নামাজের পর সংক্ষিপ্ত জিকির করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরীসহ অফিস থেকে বের হয়ে তাঁর সৌজন্যে সচিবালয়ের সামনের হোটেলে নাস্তা করে সকাল ৭ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গাড়িতে করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হসপিটালে উপস্থিত হলাম সিডির জন্য।

পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আমার মামাতো ভাই ফয়সাল খান ও হাজির হসপিটালে। সকাল ১০ টা পর্যন্ত সিডি না পাওয়ায় ফয়সাল খান নিজ কর্মস্থলে চলে গেল। আমি সিডির অপেক্ষায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হসপিটালের সংশ্লিষ্ট রুমের সামনে অপেক্ষমান রইলাম। সিডি প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিকে দুইবার ফোন করে এনে দুপুর সাড়ে এগারোটায় পেলাম কাঙ্ক্ষিত সেই সিডিও ও রিপোর্ট।

সাথে সাথে রওয়ানা দিলাম ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ। সড়কের জ্যাম অতিক্রম করে বেলা ১ টার দিকে পৌঁছলাম গন্তব্যে।

সংশ্লিষ্ট ডাঃ কে চেম্বারে পেয়ে গেলাম আলহামদুলিল্লাহ। ডাঃ সব দেখে একটি লেটারের কথা বললেন। এ হসপিটালে ভর্তি হতে আমার জন্য এ লেটার খুবই জরুরী। সকালের নাস্তার পরে এক কাপ চা খেয়ে থাকা আমি এবার UBER নিয়ে ছুটে চললাম লেটারের জন্য। সেখান থেকে লেটার রিসিভ করে আবার UBER নিয়ে এসে ডাঃ সাহেবকে কল করায় তিনি বললেন আমি অপারেশন থিয়েটারে আছি আসতে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট লাগবে। তাই তিনি বিকল্প একজনের সাথে যোগাযোগ করে ভর্তিসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বললেন।

সে অনুযায়ী ঐ দায়িত্বশীল ডাঃ সাহেব আমাকে ভর্তি করানোর জন্য একজনকে দায়িত্ব দিলেন। অপরদিকে আজকেই রিং পড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডকে প্রসেসিং করতে বললেন।

আমি যখন ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি ঠিক তখনই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিস্টার এসে আমাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে হসপিটালের পোশাক পরিধান করতে বললেন। এরপর কয়েকটি টেষ্টসহ ইকো করার ব্যবস্থা করলেন। এর ভেতরে হসপিটালের ইনফরমেশন থেকে আমার মোবাইলে কল করে কাউন্টারে যেতে বললেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি আমাকে হসপিটালের রোগীর পোশাক পরিধান করা দেখে তো হতবাক। এ কিভাবে হলো? ভর্তি না হয়েই রোগীর পোশাক?

যাইহোক ভর্তি হলাম কিন্তু সকালের পরে তখন পর্যন্ত ভর্তির টেনশনে আমার দুপুরে খাবার খাওয়া হয়ে ওঠেনি।

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর সিস্টারকে বিষয়টি জানালে তারা শুভেচ্ছা খাবার হিসেবে তখনকার মেনু স্যুপ, বিস্কিট ও লাল চা দিলেন।

এরপর আমার সঙ্গী খুঁজতে শুরু করে দিলেন। আমাকে না জানিয়ে ইতিমধ্যে আমার মেজ ভাই শামিম হাওলাদার ঢাকায় এসেছে একথা ফয়সাল জানিয়েছিল।

তখন আছরের নামাজের সময় শামিম কে ফোন করলাম সে আমার খালাতো ভাই আলহাজ্ব হেলালকে নিয়ে মাগরিবের কিছুক্ষন পূর্বে আমার কাছে পৌঁছে। এর আগে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের অফিস সহকারী ইমাম হোসেনকে এনে অপেক্ষায় রেখেছিলাম।

মাগরিবের কিছুক্ষন পূর্বে শামিম আসার সাথে সাথে তাকে একটি ফর্ম পূরণ করতে বলা হলো। ফর্ম পূরন শেষ হতেই আমার হাতে স্যালাইন লাগিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়ে শামিম ও হেলালকেসহ নেয়া হলো রিং পরানোর জন্য।

আমাকে অপারেশন রুমে নিয়ে প্রস্তুত করে আমার ভাইকে ডেকে দেখানো হলো ব্লক কোন যায়গায়।

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডাঃ এম মাকসুমুল হক হার্টে সফলভাবে রিং পরিয়ে আমাকে বের করে নির্ধারিত ওয়ার্ডে অন্যদের সাথে স্থানান্তর করা হলো।

মেজ ভাই শামিম আমার সাথে সাক্ষাৎ করলো, কথা বললো। তাদেরকে বাসায় গিয়ে রেষ্ট নিতে বললাম। তারা রিং এর বক্স আমাকে দেখালো।

পরদিন সকালে দেখলাম আমাকে রিং পরানোর সিডি আমার সামনে টেবিলে।

সকালে সংশ্লিষ্ট ডাঃ আমাকে দেখে ঐদিন ছুটি দিতে বললেন কিন্তু আমি বললাম একদিন আমি ডাঃ এর কেয়ারে থাকতে চাই, তাই হলো।

কিন্তু সমস্যা হলো ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল থেকে আমার পূর্বের ফাইলটি মিসিং হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভালো জানেন পাওয়া যাবে কিনা।

আলহামদুলিল্লাহ এনজিওগ্রাম করার পরে এখন আমি ভালো আছি। দুই হাতে ব্যথা রয়েছে। আশাকরি ভালো হবে। তবে যেভাবে রিং পরানো হয়েছে তা বলে ভাষায় ব্যক্ত করা যাবে না। তাদের সেবার মান ও যথেষ্ট উন্নত। আমরা সকল রোগীর মানুষিকতা উন্নত হলেই শান্তি বিরাজ করবে বলে আশাবাদী।

তবে এখন থেকে অনেক নিয়ম মেনে আমাকে চলতে হবে। এটাই আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জীবন হতে হবে নিয়ন্ত্রিত।

লেখক : রাজনীতিক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com