সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

রাজ্জাকের পদত্যাগ জামায়াতের লন্ডনভিত্তিক তৃতীয় ষড়যন্ত্র : মিছবাহ

রাজ্জাকের পদত্যাগ জামায়াতের লন্ডনভিত্তিক তৃতীয় ষড়যন্ত্র : মিছবাহ

রাজ্জাকের পদত্যাগ জামায়াতের লন্ডনভিত্তিক তৃতীয় ষড়যন্ত্র

একান্ত সাক্ষাৎকারে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী

বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর, দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মিছবাহুর রহমান চৌধুরী দৈনিক আমার বার্তাকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী থেকে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগ হলো নাটক। আমি মনে করি এটি জামায়াতের লন্ডনভিত্তিক তৃতীয় ষড়যন্ত্র। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১/১১ এর কুশীলবদের নিয়ে যে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল তা বিফল হওয়ায় এই পদত্যাগ নাটক সাজানো হয়েছে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমান।
মিছবাহুর রহমান চৌধুরী তার সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে খোলাখুলিভাবে কথা বলেন। তাকে করা প্রশ্নের ভিত্তিতে তার বক্তব্য তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন-জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ থেকে এর অন্যতম শীর্ষ নেতা সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগকে

আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?

উত্তর: এই পদত্যাগ জামায়াতের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ। এই পদত্যাগ হলো নাটক। এটি জামায়াতের লন্ডনভিত্তিক তৃতীয় ষড়যন্ত্র। প্রথম ষড়যন্ত্র অধ্যাপক গোলাম আযমের নেতৃত্বে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়। এই ষড়যন্ত্রের রেশ ধরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দ্বিতীয় ষড়যন্ত্র হয় চৌধুরী মইনুদ্দিন, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে এবং তদানীন্তন এনএসআই প্রধান রেজ্জাকুল হয়দারের পৃষ্ঠপোষকতায়। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয় বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা ও আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে। আমি ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগকে তৃতীয় ষড়যন্ত্র এই জন্যই বলছি যে, তিনি বাংলাদেশে অবস্থানকালীন সময় জামায়াতের শীর্ষতম নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ গংদের প্রধান কৌশলী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেছিলেন। এক/এগারো (ওয়ান ইলেভেন) পূর্ববর্তী সময়ে আমি বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা প্রকাশ করি। ওই তালিকায় ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নাম ছিল। তিনি আমার বিরুদ্ধে একশত কোটি টাকার মামলা করেন। তার মামলা আমরা চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করি। এক পর্যায়ে তদন্তকালীন সময়ে তিনি লন্ডনে পালিয়ে যান। লন্ডন গিয়ে সেই চৌধুরী মইনুদ্দীন ও বিএনপি’র একজন শীর্ষ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখি অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তিনি তার পদত্যাগপত্রে দাবি করেছেন, ’৭১ এর ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। কিন্তু এই পদত্যাগপত্রে তিনি তিনি নিজে ক্ষমা চাননি। ’৭১-এ তার ভূমিকা কি ছিল তিনি তাও উল্লেখ করেননি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১/১১ এর কুশীলবদের নিয়ে যে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল তা বিফল হওয়ায় ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ নাটক সাজানো হয়েছে।

প্রশ্ন-আপনার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার আবদুর রাজাকের মানহানি মামলা কোন পর্যায়ে আছে?

উত্তর: আমার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকে দায়ের করা মানহানি মামলা মাননীয় আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। মাননীয় আদালত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল’ এর তদস্ত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রশ্ন:-সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?

উত্তর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সফলতা প্রধান বিরোধীদলসহ দেশের প্রায় সকল দলের অংশগ্রহণ। প্রতিদ্বন্দিতামূলক নির্বাচন হয়নি। যার অনেক কারণ বিদ্যমান। তবে এটুকু আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, পূণাঙ্গ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হতো। কেননা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা ১০ বছরের শাসন দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে এনে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থানে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষাসহ আর্থ-সামাজিক সকল ক্ষেত্রে বিপুল সাফল্য অর্জন করেছে। এক সময়ের পশ্চাৎপদ বাংলাদেশ আজ বিশ্বে আধুনিক ও মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল সূচকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে এখন ‘রোল মডেল’। বাংলাদেশ এমডিজি (মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল) অর্জন করেছে। এখন এসডিজি (সাসটেনবল ডেভেলপমেন্ট গোল) এর লক্ষ্য পূরণের পথে। মানবিক কারণে দেশে আশ্রয় পাওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার বিশাল বোঝা বহন করেও সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসাসহ সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ এখন দ্রুত এগিয়ে চলছে।

ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন এজেন্ডা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেসব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলছেন। ২০০৮ সালেও বাংলাদেশ ছিল খাদ্য ঘাটতির দেশ। বর্তমানে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, খদ্যে উদ্বৃত্ত দেশ। দেশের কৃষিতে নিরব বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। যোগাযোগ ক্ষেত্রেও বিপুল উন্নতি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও একজন নোবেল লরিয়টের ষড়যন্ত্রের পর বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে তা পৃথিবীর অনেক দেশের কাছেও ছিল অবাস্তব বিষয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় ও দুরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ পদ্মা সেতু প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করে চলছে। পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। আগামী দুই বছরের মধ্যেই রেলওয়েসহ পদ্মা সেতু চালু হবে বলে আশা করি। শিল্প ক্ষেত্রেও দেশ বহুদূর এগিয়েছে। জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ক্রমশ: বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগের ফসল হিসেবে দেশে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছে। যেখানে তৃণমূলের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাচ্ছেন। তথ্য প্রযুক্তিতেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে এগিয়ে। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখন গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে তথ্য প্রযুক্তির সেবা । দেশে ৮৬ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছেন। রফতানি আয়ের ভলিউম প্রতি বছর বেড়েই চলছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফফতানি আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ২০২১ সাল নাগাদ রফতানি আয় ৬০ বিলিয়ন হবে বলে প্রক্কলন করা হয়েছে। এখন বিশ্বে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানী, স্পেন, ইতালি, গ্রীসসহ বহু দেশ অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্যয় বরাদ্দ কমিয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রতি বছর বাজেটের আকার ও ব্যয় বরাদ্দ বাড়ছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির বিরাট সক্ষমতা অর্জন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ওপর। টাকার জন্য বাংলাদেশ এখন আর কারো কাছে ধর্ণা দেয়না। বাংলাদেশ মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী হয়েছে। তিন বাহিনীর অনেক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। আশা করা যায়, চলতি অর্থবছরে জিডিপি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে। আগামী অর্থবছরে জিডিপি ৮ শতাংশে পৌঁছবে। দেশে মানুশের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। দেশ অনেক আগেই এমডিজি অর্জন করেছে। এখন এসডিজি অর্জনের পথে। দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪ শতাংশের বেশি। নারী শিক্ষা বেড়েছে। বাড়ছে নারীর ক্ষমতায়ন। ১২ শতাংশ অতি দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি সম্প্রসারিত হয়েছে। এখন গ্রামীণ অর্থনীতিও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখেছে। শিশু মৃত্যুহার, নারী মৃত্যুহার কমার ক্ষেত্রেও দেশ প্রভুত সাফল্য অর্জন করেছে। এখন দেশে মানুশের গড় আয় ১৭শ’ ডলারের ওপর। গড় আয়ু ৭৩ বছর। সকল দিক দিয়ে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল ও উন্নতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয় থেকে মহাকাশ বিজয় সম্ভব হয়েছে। যা জাতিকে বিশ্বে গৌরব ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। এসব অভূতপূর্ব সাফল্যের কারণে দেশের মানুষ, তরুণ প্রজন্মসহ দেশের ভোটাররা আওয়ামী লীগকে নিঙ্কুশ বিজয়ী করেছে। শেখ হাসিনাকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় এনেছে।

প্রশ্ন-বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট কি মহাজোটে আছে? থাকলে তার ভূমিকা কি?

উত্তর: বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট এখনও মহাজোটে আছে। দীর্ঘ ১৪ বছরে আমরা নি:স্বার্থভাবে মহাজোটকে সমর্থন দিয়ে আসছি। দেশের পিছিয়ে পড়া আলেমদের কর্মসংস্থানে, শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি ইত্যাদি বিষয়ে আমরা দাবি-দাওয়া পেশ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগি এই দাবিগুলো পূরণ করেছে। বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকীকরণ, সব ধরনের শিক্ষায় নৈতিকতার মান বৃদ্ধি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসমর্থন সৃষ্টি, সামাজিক বন্ধন দৃঢ়করণ এবং সর্বনাশী মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের বিরুদ্ধে মহাজোটে থেকে জনমত সৃষ্টিতে প্রচার চালাচ্ছি।

প্রশ্ন-বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট জাতীয় সংসদে নেই। সংসদীয় রাজনীতিতে আপনাদের ভূমিকা কি?

উত্তর: বাংলাদেশ ইসলামী এক্যজোট সংসদে নাথাকলেও প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সংসদ পরিচালনা করছে। আমাদের বিশ্বাস, অতীতের মতো আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।
প্রশ্ন:-দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রযোজনীয়তা অনুভব করেন কিনা?

উত্তর: বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলোর বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা াবশ্যই অনুভব করি । এ ঐক্যের ব্যাপারে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রশ্ন:-বাংলাদেশ ইসলামী এক্যজোটের আশু কর্মসূচি কি?

উত্তর: আমরা অচিরেই সংবাদ সম্মেলন করে এক বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করব। তখন দেশবাসী তা বিস্তারিতভাবে জানতে পারবে।

প্রশ্ন-জাতীয় এক্যফ্রন্টের বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?

উত্তর: জাতীয় এক্যফ্রন্টে যারা এসেছেন তারা সবাই দেশবাসীর কাছে পরিচিত। বিএনপি ছাড়া তারা প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করার পর তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড জনগণ একবারেই গ্রহণ করেনি। সে কারণে বিএনপি-জামায়াতের মিত্র হয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও তাদের মধ্যে একাধিক নেতা বলে বেড়াচ্ছেন, জামায়াত তাদের ফ্রন্টে নেই। কিন্তু ২০ দলে আছে। যে কারণে তাদের কথা মানুষ বিশ্বাস করে না। জনগণ মনে করে, ‘মুখে শেখ ফরিদ, বঘলে ইট।’ এটাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্বরূপ।

প্রশ্ন:- বিএনপি’র নতুন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান দাবি বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

উত্তর: বিএনপি নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। নতুন করে নির্বাচনের দাবি হাস্যকর। তারা নিজেরাও এটা জানেন। চিঠি চালাচালি করে, ধর্ণা দিয়ে পাঁচ বছর কেটে যাবে। আমার পরামর্শ, জামায়াত ও ১/১১ এর কুশীলবদের পরিত্যাগ করে সঠিক রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসুন। অন্যতম বৃহত্তর দল হিসেবে বিএনপি দেশের রাজনীতিতে সঠিক ভ’মিকা পালন করুক তা দেশবাসীও প্রত্যাশা করেন।

প্রশ্ন:- কাশ্মীর ইস্যুতে বর্তমানে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট চরম উত্তেজনা বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

উত্তর: কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় ভারতের ৪৪ জন সেনা নিহত হওয়ায় াামরা মর্মাহত। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা উচিত। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, কাশ্মীরের জনগণকে আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকার না দেওয়া পর্যন্ত এ উত্তেজনার অবসান হবে না। এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতৃবৃন্দকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতজুড়ে নিরীহ কাশ্মীরীদের ওপর যে নির্লজ্জ হামলা শুরু হয়েছে তা নিন্দনীয়। এ ব্যাপারে ভারত সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রশ্ন-বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলো পিছিয়ে কেন?

উত্তর: বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। তারপরও এখানে ইসলামী দলগুলো পিছিয়ে আছে তাদের সীমাবদ্ধতার কারণে। দেশে ধর্মীয় কাজ করার জন্য রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই। যা প্রয়োজন নেই দলগুলো মূলত: তাই করেছে। দেশের মানুষের যুগোপযোগী আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি, যুগোপযোগী বক্তব্য প্রদানে ইসলামী দলগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। সর্বেপরি ইসলামী দলগুলো বিজ্ঞানমুখি, আধুনিকমুখি হতে অনেক দেরি করে ফেলেছে। মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে এখন দেশে বিজ্ঞান মনস্ক আলেম তৈরি হচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তি তাদের করায়ত্ত্ব হচ্ছে। এখন দেশে ৮০ হাজার মসজিদে পবিত্র কুরআন ও গণশিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ৮০ হাজার ইমাম সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা মাস্টার্স পর্যায়ের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। সরকার ১০৩০টি নতুন মাদ্রাসা করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষায়ও বইছে তথ্য-প্রযুক্তির হাওয়া। এতে আশা করা যায়, আগামীতে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যুগোপোযোগী চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আসবে।

প্রশ্ন- বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আপনা আহ্বান কি?

উত্তর: মহান ভাষা আন্দোলনের এ মাসে ভাষা শহীদদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনার পথ ধরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের র নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল শোষন, বঞ্চনামুক্ত বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন এ কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, উন্ন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করে চলছেন। তার টানা ১০ বছরের শাসনামলে দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যাপক উন্নতি হরেও সুশাসন, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ কায়েম হয়নি। দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেমে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। এই নীতির পক্ষে দাঁড়িয়ে তার হাতকে শক্তিশালী করা জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই।

দৈনিক আমার বার্তার সৌজন্যে

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com