বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

যাঁর পরশে ধন্য আমি

যাঁর পরশে ধন্য আমি

ইমদাদুল হক নোমানী : আমার জীবনের প্রথম লেখা গ্রন্থ “আল-কুরআনের পরিচয়”। দেড়যুগ আগে জামেয়া দরগাহ’র ততকালীন ছাত্র মাওলানা আবুল হুসাইন শরীফের মাধ্যমে কয়েকটি বই ছাত্রাবাসে বিক্রি হয়। বইটি কিভাবে যেনো মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া রাহ. এর হাতে চলে যায়। অধমের কচি হাতের লেখা বইটি পাঠ করে আমার পরিচয় ও অবস্থান জানতে চান।

ক্লাসে সেদিন তিনি আমার ভুয়সী প্রশংসা করেন। আমাকে দেখার আগ্রহও প্রকাশ করলেন। ছাত্ররা আমাকে জানালে আমি দেখা করি। হযরত আমাকে সেদিন অনেক উৎসাহ দিলেন, পরামর্শ দিলেন। দিল থেকে দুয়াও করলেন। আলহামদুলিল্লাহ।

২০১৬ সালে আঞ্জুমানের দস্তারবন্দী সম্মেলনের দাওয়াত নিয়ে আমরা এক কাফেলা হুজুরের দফতরে হাজির হই। অত্যন্ত আন্তরিকভাবে প্রোগ্রাম এবং আব্বা রাহ. এর খোঁজখবর নেন। আঞ্জুমানের সাথে জড়িয়ে থাকা অনেক স্মৃতিকথা আমাদেরকে শোনালেন। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করলেন। আব্বার ইন্তেকালের পর হঠাৎ একদিন বাদ ফজর কমপ্লেক্সে চলে আসেন যিয়ারতে। মাহফিল এবং প্রথম রমজানে গোটাটিকরে সবক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হুজুর আবেগজনিত কন্ঠে প্রকাশ করেন আঞ্জুমান আর আব্বা রাহ. এর অনেক স্মৃতি ও ইতিহাস।

২০১৭ সালে পবিত্র হজ্ব সফরে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত “আহলে হাদীস শীর্ষক” মজলিসে ইলমী সেমিনারে তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি। ঘোষক হুজুরের সামনেই আমি অধমকে বিশেষ অতিথির আলোচনার আহবান করলেন। ভয়ে ভয়ে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করলাম। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গাছবাড়ী হুজুর, হাজীসাব রাহ.সহ জেদ্দার শীর্ষ উলামায়ে কেরাম। প্রোগ্রামশেষে একসাথে রাতের খাবার। একদম কাছে বসিয়ে আমাকে খাবারের ফাঁকে ফাঁকে বেশকিছু পরামর্শ দিলেন। হুজুর খুশি হয়ে সবার সামনে এমন কিছু কথা বললেন, যার উপযুক্ত আমি নয়। লজ্জা এবং আনন্দে মনটা ভরে গেলো সেদিন। দেশে গিয়ে দেখা করতে বলেছিলেন। দু’একবার দেখা হয়েছে; দুর্ভাগ্য চাহিদামতো হুজুরের সোহবত নিতে পারলাম না।

জামেয়া দরগাহর মুহতামিম, বিদগ্ধ আলোচক, আঞ্জুমানে তা’লীমুল কুরআন বাংলাদেশের উপদেষ্টা মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া রাহ. আমার সরাসরি উস্তাদ না হলেও আমি উনার কাছ থেকে শিখেছি অনেক কিছু। পরামর্শ ও ভালোবাসা পেয়েছি অফুরান। তিনি আজ চলে গেলেন আমাদেরে ছেড়ে। ক’দিন আগে চলে গেলেন আমাদের আরেক অভিভাবক প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রাহমান রাহ.।

সিলেটে আমরা যেভাবে মুরব্বিহারা হচ্ছি, আশ্রয়স্থল সেভাবে পাচ্ছি বা পাবো কি? তাঁদের বিয়োগ আমাদের জন্য অপূরণীয়। মাওলা! আমাদেরকে এভাবে ছায়াহীন করো না। আমরা এমনিতেই কঠিন সংকটে, মুরব্বীহারা। আমাদের পিতৃতুল্য ছরেতাজ মুরব্বিদেরকে তোমার রহমতের চাদরে আচ্ছাদিত কর। তাঁদের দারজাতকে বুলন্দ করো। আমাদেরকে তাদের ফয়েজে ফয়জিয়াফত করো। আমীন।

লেখক : সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com