বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

মেনন সাহেবের বক্তৃতা দুঃখজনক

মেনন সাহেবের বক্তৃতা দুঃখজনক

মেনন সাহেবের বক্তৃতা দুঃখজনক

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : নব্বই ভাগ মুসলমান এদেশে। হাজার হাজার আলেম।লক্ষ লক্ষ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।  যে দেশে লক্ষ লক্ষ মসজিদে আজান হয়। যেখানে হাজার হাজার কওমী মাদ্রাসায় কুরআন হাদীসের দরস হয় নিয়মিত।
সেই দেশে রাশেদ খান মেনন সাহেব, কওমী মাদ্রাসা নিয়ে বিষোদগার করছেন।হক্কানী আলেম উলামাদের শানে বেয়াদবী করে যাচ্ছেন। কাদিয়ানী গোষ্ঠীর পক্ষাবলম্বন করে রাসুল ( সাঃ) এর শানে বেয়াদবী করতে দ্বিধাবোধ করছেন না। সেটা বড় পরিতাপের বিষয়।

মেনন সাহেবের বোঝা উচিত, আলেমদের মাঝে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে মতানৈক্য থাকতে পারে। কিন্তু কওমী মাদ্রাসার শেকড় সব একই জায়গায়। কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে সকল আলেম সমাজ একই প্লাট ফরমে।

মেনন সাহেবদের মনে রাখতে হবে,আলেম সমাজের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেললে এদেশের কোন আলেম সেটা কশ্চিন কালেও বরদাশত করবেনা। কওমী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কথা বললে কোন আলেম তা সহ্য করবেনা। কাদিয়ানীদের প্রশ্রয় দিলে, এদেশের কোন নবী প্রেমিক মেনে নেবে না।

ইতিপুর্বে যত ইসলাম বিরোধী শক্তি আবিস্কার হয়েছে, সব অপশক্তির মোকাবেলা করেছেন উলামায়ে কেরাম। আলেমগণ ঐক্যবদ্ধ ফ্লাট ফরমে সে সব ইসলাম বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। শেষমেষ কিন্তু সে সব ইসলাম বিরোধী চক্র লেজ গোটাতে বাধ্য হয়েছে।

আপনার মনে আছে, তসলীমা নাসরীন নব্বই দশকে ইসলাম বিরোধী লিখনী এবং আলেম উলামাদের শানে বেয়াদবী মুলক আচরণের কারণে, এদেশের আলেম সমাজ এক যোগে ফুঁসে উঠে ছিল। সারাদেশে কঠিন আন্দোলন গড়ে উঠে ছিল। যার ফলে তৎকালিন সরকার এদেশ থেকে তাসলীমাকে বহিস্কার করতে বাধ্য হয়ে ছিল। আজ পর্যন্ত সেই তাসলীমা দেশে আসতে সাহস পায়নি।

এদেশে হাইকোর্ট থেকে ফতোয়া বিরোধী রায় ঘোষনা হয়ে ছিল। যে রায়ের বিরুদ্ধে এদেশের আলেম সমাজ প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই রায়কে কেন্দ্র করে বিবাড়ীয়াতে ঈমানদার জনতা প্রাণ দিয়ে ছিলেন। তবুও আলেম সমাজ আন্দোলন থেকে বিন্দু মাত্র পিছপা হয়ে ছিল না।

কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে এদেশের আলেম সমাজ এবং তাওহিদী জনতা কিন্তু এক কাতারে। এর আগে এদেশের আলেম সমাজ কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে দেশ ব্যাপি আন্দোলন গড়ে তুলে ছিল। সে সময় ব্যাপক সাড়া পড়েছিল দেশের সর্বত্র।

এমনি ভাবে এদেশে যখন কেউ মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলেছে, ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলেছে,আলেমদের শানে বেয়াদবী করেছে এবং কাদিয়ানীদের পক্ষাবলম্বন করে নবীর শানে বেয়াবদী করেছে। সে সব ব্যক্তিবর্গ আলেম এবং তাওহিদী জনতার আন্দোলনের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে।

সুতরাং আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, এ বক্তব্য এদেশের আলেম সমাজের হৃদয়ে আঘাত করেছে। তাই আপনার বক্তব্য থেকে ফিরে আসা উচিত। নচেৎ এদেশের আলেম সমাজ ও দ্বীনদার মুসলমানগণের আন্দোলনে আপনার অবস্হান কোথায় যাবে আল্লাহ ভাল জানেন।

আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত করুন। আমিন।
লেখক : সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com