মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

মা-বাবার পর আমার বই শ্রেষ্ঠ নেয়ামত : তকিব তৌফিক

মা-বাবার পর আমার বই শ্রেষ্ঠ নেয়ামত : তকিব তৌফিক

বাঙলা সাহিত্যে উপন্যাসের প্রভাব অসামান্য। সফল ঔপন্যাসিকরা তাদের লেখায় সমাজকে তুলে ধরেছেন বিভিন্ন চিত্র-চরিত্রে।তাই বর্তমানে সাহিত্যের অন্যান্য ধারাগুলোর মধ্য থেকে উপন্যাস সবচেয়ে জনপ্রিয়। এদিকে অমর একুশে বইমেলায় প্রবীণদের মতো নবীন ঔপন্যাসিকদের বইও পাঠক মহলে বেশ জনপ্রিয় সেসব বই ও বইয়ের লেখকদের স্বপ্ন ও আকাঙ্খা-অনুভুতির কথা নিয়েই অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘শীলন বাংলার’ বইমেলার পুরো মাসব্যাপী আয়োজন। উপন্যাস হিসেবে প্রথম বই প্রকাশিত হলেও গল্পে যিনি পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত। তিনি তকিব তৌফিক।এবারের বইমেলায় তার প্রথম উপন্যাস ” এপিলেপটিক হায়দার” ক্রেতাদের আগ্রহের শীর্ষে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল শীলনবাংলার প্রতিবেদক কাউসার মাহমুদের মুখোমুখি হয়েছেন সময়ের জনপ্রিয় লেখক তকিব তৌফিক।

শীলনবাংলা :এপিলেপটিক হায়দার আপনার প্রথম উপন্যাস! অনুভূতি কেমন?

তকিব তৌফিক: প্রথম প্রকাশের অনুভূতি আসলেই কি বলে প্রকাশ করা যায়? তবুও যদি অনুভূতি প্রকাশের কথা ব্যাখ্যা করবার চেষ্টা করি তবে এক বাক্যে বলব, ‘এটা সৃষ্টিকর্তা থেকে পাওয়া আমার মা-বাবা ও পরিবারের পরে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত’।

শীলনবাংলা: একজন সফল গল্পকার হিসেবেই আমরা আপনাকে জানি।গল্পের পর উপন্যাসে হাত দিয়েছেন এবার। এটা কি নিজের ভাবনা থেকেই নাকি অন্যকিছু?

তকিব তৌফিক: আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেক মানুষ একটি বিশৃঙ্খল উপন্যাসসমগ্র। যার মাঝে পায়চারী করে হাজার রকমের ভাবনা। যার রূপ দিলে হয়ে উঠে শৃঙ্খল গল্প কিংবা উপন্যাস। আমিও তার ব্যতিক্রম নই।


আমার সার্থকতা বিচার করবে পাঠক। চাইলেই লেখা আরও বাড়ানো যেত, তার প্রয়োজন ছিল না।

শীলনবাংলা :উপন্যাস তো সমাজের উপাখ্যান।আপনার উপন্যাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল করে কোন বিষয়টি লেখা হয়েছে,বা আপনি লিখতে চেয়েছেন?

তকিব তৌফিক: আপনি দারুণ একটি প্রশ্ন করেছেন। এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে ভালো লাগছে। আমার উপন্যাসটির পৃষ্ঠা সংখ্যা অল্প। মাত্র ৫ ফর্মার একটি বই। এতে দুটো বিষয় নিয়ে আমি আলোচনা করেছি।
১. মৃগীরোগ নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার।
২. ধর্মীয় আত্মশুদ্ধি।
এই দুই বিষয়কে আমি গুছিয়ে অল্প লেখায় পাঠকের কাছে দুটো ম্যাসেজ দিতে চেয়েছি। আমার সার্থকতা বিচার করবে পাঠক। চাইলেই লেখা আরও বাড়ানো যেত, তার প্রয়োজন ছিল না।

শীলনবাংলা : বাঙলা সাহিত্যে ঔপন্যাসিক হিসেবে নিজেকে কোথায় দাঁড় করানোর স্বপ্ন দেখেন!

তকিব তৌফিক : এবার আমায় ভাবালেন। আমি সাহিত্যে এসেছি লিখে যাবো বলে। আমার লেখা আমাকে কোথায় নিয়ে পৌঁছায় সেটা নির্ভর করবে আমার লেখনীর উপর। নিশ্চিত কিছুই বলতে পারছিনা।

শীলনবাংলা:আপনার ট্র্যাক কি? লেখার কোনও নির্দিষ্ট বিষয় কি নির্ধারণ করেছেন? যে এটা নিয়ে লিখবেন প্রচুর!

তকিব তৌফিক: সত্যি বলতে লেখার আগে এতবেশি পরিকল্পনা আমি করতে পারি না। তাই একটা বিষয় যদি নির্বাচন করি সেটাকে নিয়েই কাজ করি, আর লিখতে থাকি। আগে বিষয় নির্বাচন, তারপর লেখনী।

মেলায় প্রিয়জনকে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন লেখক

শীলনবাংলা: মেলায় আপনার ‘ এপিলেপটিক হায়দার’-এর তুমুল জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। আপনি নিজে মেলাকে উপভোগ করছেন কেমন?

তকিব তৌফিক: আমি এখনো কেন জানি নিজেকে লেখক ভাবতে পারছি না। ভাবতে পারলে প্যাভিলিয়ন ছেড়ে হুটহাট স্টলে স্টলে ঘুরে বেড়াতে পারতাম না। তাই আমি নিজেকে পাঠক ভাবছি। এবার আপনিই বলুন পাঠক হিসেবে বইমেলার আনন্দটা কী! তবে ‘এপিলেপটিক হায়দার’ আমাকে সম্মানের জায়গায় পৌঁছে দিচ্ছে। তার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছেই তো নত হতে হয়।

‘এপিলেপটিক হায়দার’ আমাকে সম্মানের জায়গায় পৌঁছে দিচ্ছে। তার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছেই তো নত হতে হয়

শীলনবাংলা:আপনার হাসিটা বেশ সুন্দর। শোনা যায়, এ নিয়ে ভক্তদের সামনে বেশ বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয় আপনাকে!

তকিব তৌফিক: এটা মজা করবার মত একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন! এই প্রশ্ন আমাকে হাসালো। আপনি হাসাতে পারেন। মজার ছলেই বলি, আমি হাসি না;হাসিটা মুখ জুড়ে থাকে। কেন জানিনা।

শীলনবাংলা :আজ এ পর্যন্তই।ধন্যবাদ আপনাকে।আপনার হায়দারের সর্বোচ্য সফলতা কামনা করছি আমরা।

তকিব তৌফিক: ধন্যবাদ নিউজ পোর্টাল ‘শীলনবাংলা’কে এবং আপনাকেও। এতো সুন্দর একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য।আমি কৃতজ্ঞ।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com