বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন

মায়ের তুলনা মা অন্য কেউ না

মায়ের তুলনা মা অন্য কেউ না

মায়ের তুলনা মা অন্য কেউ না

উমর ফারুক শাবুল : মায়ের স্মৃতি স্মরণ হলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। আমার সুখের জন্য মায়ের কত দিন- কত রাত, অনাহার আর নিদ্রাহীনতায় কাটিয়েছে তাঁর কোন হিসেব নেই। আমার চোখে দেখা মায়ের কষ্টের কথা বর্ণনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হৃদয় পেটে কান্না বেরিয়ে আসছে। আর লিখতে পারছি না। মায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিবস নেই। প্রতিটি দিবসই মা দিবস। প্রতিটি দিনই মায়ের জন্য। জীবনের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে শুধু মা আর মা। মায়ের তুলনা শুধু মা’ই। মায়ের তুলনা অন্য কেউ হতে পারে না। সুখে দুঃখে মা আমার আশ্রয়স্থল। ছাত্র জীবন শেষ করে শিক্ষকতা জীবনে পদার্পণ করেছি। এতে যত অবদান সবটুকু মায়ের অবদান। আমার শরীরের চামড়া দিয়ে মায়ের জুতা বানালেও, মায়ের ঋন শোধ হবে না। ইসলামেও মায়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।

এ ব্যপারে জলিলুল কদর সাহাবী হজরত তালহা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হয়ে এক ব্যক্তি জিহাদে অংশগ্রহণের আবেদন জানাল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা বেঁচে আছেন কি? লোকটি বলল, হ্যাঁ বেঁচে আছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যথার্থভাবে তার সেবা করো, বেহেশত তার পদতলে। (বোখারি শরীফ)।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহপাক বলেন, ‘তোমরা কেবলমাত্র তারই ইবাদত করবে এবং পিতা মাতার সাথে সদ্বব্যবহার করবে। যদি তাদের মধ্যে একজন কিংবা দুজনই তোমার নিকটে বৃদ্ধ বয়সে উপনিত হয়ে যান তখন তাদেরকে ‘উফ’ শব্দও বলবে না এবং তাদেরকে ধমককও দিবে না। আর তাদের জন্য দয়ার মধ্য থেকে নম্রতার বাহু ঝুঁকিয়ে দাও। আর তাদের জন্য দোয়াস্বরপ একথা বলবে, রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানী ছগীরা’। (হে আমার পালনকর্তা! তাদের দুজনের ওপর এরকম দয়া কর যেরকম তারা আমাকে ছোট বেলায় লালন পালন করেছিলেন) (-সুরা বনি ইসরাইল:২৩-২৪)

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক সাহাবি রাসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি সর্বাগ্রে কার সঙ্গে সদাচরণ করব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তয়ে বললেন, তোমার মা। সাহাবি আবার বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সাহাবি আবার জিজ্ঞেস করল তারপর কে? উত্তরে তিনি বললেন, তোমার মা। সাহাবি আবার জিজ্ঞেস করল অতঃপর কে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার বাবা। (বোখারী শরিফ)

এতে প্রতিয়মান হয় যে, মায়ের খেদমত প্রতিটি সন্তানের জন্য অপরিহার্য্য। কোনো সন্তান যদি তাঁর মাকে কষ্ট তাহলে কোন আমলই আল্লাহর দরবারে কবুল হবেন। আসুন, আমরা আমাদের মায়ের খেদমতে জীবনে বিলিয়ে দেই।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com