সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

মার মার কাট কাট করে জিহাদ হয় না

মার মার কাট কাট করে জিহাদ হয় না

মার মার কাট কাট করে জিহাদ হয় না

সগীর আহমদ চৌধুরী : ইসলামের ইতিহাসখ্যাত বিজেতারা সকলই মহান মুজাহিদ ছিলেন এবং বীর সাহসী গাজী ছিলেন বটে। একই সঙ্গে তারা বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ছিলেন, প্রাজ্ঞ কূটনীতিবিদ ও দক্ষ শাসক ছিলেন। তাঁদের সেনাবাহিনীতে এমনও অনেক সাধারণ সৈন্য ছিল যারা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ছিলেন, জযবাতি ছিলেন এবং ধর্মীয় জোশে উজ্জীবিত ছিলেন। এসব তাঁদের ভালো গুণই ছিল, তবে তা অনেক সময় বিড়ম্বনার কারণও হয়ে দাঁড়াতো মুসলিম বাহিনীর জন্য। সাধারণ সৈন্যদের অনেকের অপরিণামদর্শী কাণ্ডে পুরো মুসলিম বাহিনীই বিপদের সম্মুখীন হয়ে যেতো।

আজকে যারা জিহাদিস্ট (মুজাহিদ নয়), তাদের তুলনা সেসব সাধারণ সৈন্যদের সঙ্গেই দেওয়া যায়। এরা শুধু মার-মার, কাট-কাট করে। এরা যুদ্ধাংদেহী কথাবার্তা বলে বেড়ায় বটে, কিন্তু রাজনীতিজ্ঞান ও কূটনীতিবোধ এদের মোটেও নেই। এরা যেসব কারণে অন্যদের তাগুত, মুরতাদ ও কাফির বলে গালাগাল করে ঠিক একই কারণে সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী, উসমানি সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা গাজী উসমান পাশা, তাঁর পুত্র গাজী উরহান পাশা, সুলতান মুরাদ, সুলতান সুলাইমান কানুনি এবং সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহকেও তাগুত আখ্যা দেওয়া যেতে পারে।

এরা মুসলিম মুজাহিদ বাহিনীর সিপাহসালার ছিলেন বটে, কিন্তু রাজনীতিক ছিলেন, পাশবর্তী অমুসলিম রাষ্ট্র ও শাসকদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন তাঁরা, সন্ধি-চুক্তিও করতেন, অমুসলিম অনেক শাসকদের সাথে মৈত্রীর সম্পর্কও ছিল, তাদের সাথে বৈবাহিক সম্বন্ধও করেছিলেন তাঁরা। এ যুগে যারা ইসলামি দল বা রাজনীতির সাথে যুক্ত তাঁরা যদি এমন সম্পর্ক-সম্বন্ধ করতেন আল্লাহই জানেন যুদ্ধাংদেহী লোকগুলো তাঁদের কোথায় পাঠাতেন! বস্তুত এসব লোকের জিহাদে নেতৃত্বদানের যোগ্যতাই নেই, এরা বড়জোর কোনো বাহিনীর সাধারণ সিপাহি হিসেবে ভর্তি হতে পারবে হয়তো। তাও বিশ্বাস করা যায় না, অতিজযবার ফলে কবে শৃঙ্খলাভঙের কারণে বহিস্কৃত হয়!

ধর্মরিপেক্ষতা সেক্যুলারিজমের সমার্থক নয়

প্রতিশব্দ হিসেবে ধর্মরিপেক্ষতাকে আমি সেক্যুলারিজমের সমার্থক মনে করি না। বলা হয়, শুধু ইহজাগতিকতাই হচ্ছে সেক্যুলারিজম, আসলে শুধু পরজাগতিকতাও এক ধরনের সেক্যুলারিজম। ধর্মীয় মূল্যবোধ, অনুশাসন ও নির্দেশনা অমান্য করে বা তার থেকে আলাদা হয়ে রাজনীতি-শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থা যেমন সেক্যুলারিমের অন্তর্ভুক্ত, তেমনি রাজনীতি বা বিপ্লবী চেতনা বহির্ভূত ধর্মচিন্তা, আধ্যাত্মিক সাধনা, ইবাদত-বন্দেগি, দাওয়াতে তাবলীগ ও পীর-মুরীদী এসবও এক ধরনের সেক্যুলারিজমের শামিল।

রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করুন বা ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে উভয়টাই সেক্যুলারিজম। অবশ্য আপনার জন্য দলীয় রাজনীতি আবশ্যক নয়, তবে আপনার প্রতিটি দীনী কাজে ও খেদমতে বিপ্লবী চেতনার উপস্থিতি থাকতে হবে। খোশ রহে রেহমান ভী, রাজি রহে শয়তান ভী। আপনার কথিত দীনী খেদমতটা এমন সুবিধাবাধী যেন না হয় এবং এ ধরনের অন্তসারশূণ্য যেন না হয়। এটি প্রতিক্রিয়াশালী হতে হবে, নামায যেমন মানুষকে অশালীনতা ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত করে, আপনার খেদমতও তেমনি প্রতিক্রিয়াশালী হতে হবে।

লেখক : গবেষক ও রাজনীতিক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com