রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

মানুষ আত্মশুদ্ধি চায়

মানুষ আত্মশুদ্ধি চায়

মানুষ আত্মশুদ্ধি চায়

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : কয়েক মাস আগের কথা। রাজবাড়ির কালুখালিতে শায়েখে চরমোনাই আসলেন। আমরা গোয়ালন্দ থেকে বিশাল এক বাস নিয়ে গেলাম।গোয়ালন্দ টু কালুখালি প্রায় চল্লিশ কিলোমিটারের কাছাকাছি। রাস্তার অবস্হা ভাল নয়। বিশেষ করে রাজবাড়ি থেকে কালুখালির রাস্তা অত্যান্ত খারাপ।

ভেবে ছিলাম, গোয়ালন্দ থেকে কালুখালি দুরত্ব কম নয়, মনেহয় কোন লোক যাবেনা সেখানে। যে বাস ভাড়া করেছি, খালি থেকে যাবে। কিন্তু আমার ধারণা পাল্টে গেল। গাড়ি ছাড়ার সময়, পুরো গাড়ি ভরে গেল। কোন সিট আর অবশিষ্ট থাকল না।

মাহফিলের স্থান ছিল, কালুখালি আশরাফুল মাদ্রাসায়। জায়গাটা মেইন রোড থেকে অনেক ভিতরে। বাস বা প্রাইভেট কোন কিছু মাদ্রাসা পর্যন্ত যেতে পারে না।

আমরা মাহফিলের স্হান থেকে এক কিলোমিটার দুরে বাস খাড়া করে পায়ে হেঁটে মাহফিলে পৌঁছালাম।

মনে হচ্ছিল, মাহফিলে লোকজন কম হবে। কেননা, আষাঢ় মাস। বৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন। আবার ঐ দিন বিকেলে তুমুল বৃষ্টি। একারণে হয়ত স্রোতারা আসতে পারবে না।

কিন্তু আবারও আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হল। মাহফিলের স্হানে গিয়ে তো অবাক হয়ে গেলাম। সারা ময়দান ভরে গেছে। মাঠের কোথাও খালি নেই। শায়েখে চরমোনাই যখন ষ্টেজে উঠলেন,তখন তো উপচে পড়া ভীড়। পুরো ময়দানে তিল ধরনের ঠায় নেই।

বিগত মার্চ মাসে চরমোনাই এর আমীরুল মুজাহিদীন রাজবাড়ীর বহরপুরে এসে ছিলেন। সেদিন প্রগ্রাম ছিল, বহরপুরের রেলওয়ে ময়দানে। বহরপুরের রেলওয়ে ময়দান এক বিশাল মাঠ। প্যান্ডেল করা হয়েছিল ময়দানে। প্যান্ডেলও ছিল বিশাল। কিন্তু চরমোনাই পীর সাহেব যখন বয়ান শুরু করলেন, প্যান্ডেলে আর জায়গা হল না। প্যান্ডেল ভরে আরেক প্যান্ডেলের লোক যেন বাহিরে। মানে বহরপুরেরর ঐতিহাসিক রেলওয়ের মাঠ ভরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল হাজারো জনতা।

বছর খানেক আগে রাজবাড়ি শহরের শহিদ রেলওয়ে খুশি ময়দানে চরমোনাই এর নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম যখন আসলেন, ঐ একই অবস্থা। মানুষের উপচে পড়া ভীড়। মাঠে জায়গা দেওয়া কষ্ট।

শুধু আমাদের রাজবাড়িতে নয়।সারাদেশের যেখানে চরমোনাই এর শায়েখদ্বয় যাচ্ছেন,সেখানেই জমে যাচ্ছে মাহফিল। মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে শরীক হচ্ছে। পুরো ময়দানে শুধু মানুষ মানুষ। কি শীত, কি গ্রীষ্ম,কি রোদ, কি বৃষ্টি। বছরের সব সময় আছে শায়েখদের মাহফিল। আর প্রত্যেক মাহফিলেই মানুষ পাগলের ন্যায় ছুটছে।

তবে কেন এত ভীড় পীর সাহেবদের মাহফিলে? কেন এত মানুষ ছুঁটে যায় পাগলের ন্যায়? কিসের নেশায় যাচ্ছে মানুষ?

চরমোনাই এর শায়েখগণ কিন্তু কোন কোকিল কন্ঠের অধিকারী নন। বা এমন কোন বিশেষ ভাষায় বয়ান করেন না, যার টানে মানুষ পাগল হবে। তারা তো একদম সাদামাঠা মানুষ। ওয়াজ করেন একদম সাধারণ ভাষায়। তারপরেও মানুষ পাগল হয়ে ছুটে চলে।

আসলে ইখলাস মানুষকে অনেক উপরে নিয়ে যায়। নিষ্ঠার সাথে কোন কাজ করলে তার মুল্যায়ন হবেই। এছাড়া হক- হক্কানিয়্যাতের উপরে অটল- অবিচল থাকলে সে কাজে বরকত আসবেই।

চরমোনাই পীর সাহেবগণ তারা অত্যান্ত মুখলিস মানুষ। যেমনটি ছিলেন, তাদের পিতা সৈয়দ ফজলুল করিম রহ.। এক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তারা কাজ করে যাচ্ছেন। যাদের চলাফেরা সব কিছু একদম সাদামাঠা। বছরের সব সময় দ্বীনি কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। তাদের কোন সিজন নেই। সারাটা বছর তারা ময়দানে।টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া দেশের সব জায়গায় চষে বেড়াচ্ছেন।

একমাত্র মানুষের কল্যাণে সব সময় নিয়োজিত রেখেছেন তারা। মানুষকে কিভাবে সংশোধন করা যায়, এই ফিকির তাদের। আর একারণে মানুষও এগিয়ে আসছে, সংশোধনের জন্য। কেননা মানুষ সংশোধন হতে চায়। মানুষ আত্মশুদ্ধি চায়।পরিশেষে দুআ ও ভালবাসা রইল চরমোনাই এর শায়েখদের প্রতি, আল্লাহ তায়ালা তাদের কবুল করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com