শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০২:২৬ অপরাহ্ন

মাওলানা নাজমুলকে আল্লামা কাসেমীর যোগ্যউত্তরসুরী বলা যায়

মাওলানা নাজমুলকে আল্লামা কাসেমীর যোগ্যউত্তরসুরী বলা যায়

মাওলানা নাজমুলকে আল্লামা কাসেমীর যোগ্যউত্তরসুরী বলা যায়

আ মি নু ল ই স লা ম কা সে মী

ঢাকা বারিধারা মাদ্রাসার বিদায়ী মোহতামিম মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমী দামাতবারাতাতুহুমকে আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী রহ, এর যোগ্য উত্তরসূরী বলা যায়। মনে হয়েছে হুবহু কাসেমী সাহেবের ফটোকপি। এত্ত বড় হোঁচট খেলেন নাজমুল হোসাইন কাসেমী সাহেব , তারপরেও তিনি কারো ব্যাপারে কোন প্রকার মুখ খোলেন নি। দীর্ঘদিন তিনি বারিধারাতে মরহুম কাসেমী সাহেবের সহযোগী হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কোনদিন কোন প্রকার অভিযোগ তাঁর প্রতি কারো ছিল না। বরং তিনি অনেক আস্হাভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবেই তাঁর স্হান সৃদৃঢ় করে রেখেছিলেন। প্রায় দুই যুগেরও বেশী সময় তিনি বারিধারাতে। এই দীর্ঘ সময়টা তিনি কর্মবীর এবং খ্যাতিমান অধ্যাপক হিসেবেই ছিলেন।

ঢাকা বারিধারা মাদ্রাসা সাধারণ কোন প্রতিষ্ঠান নয়। এদেশের শীর্ষস্হানীয় এক ইদারা। সেই আশির দশক থেকে অনেক দাপটের সাথে চলে আসছে। আবার হালজামানায় গোটা বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টি ছিল বারিধারার দিকে। বিশেষ করে কাসেমী সাহেবের শেষ জীবনের কয়েকটি বছর তো বারিধারা মাদ্রাসা দেশব্যাপি এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলেছে। সেই খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাওলানা নাজমুল সাহেব।

কিন্তু মাওলানা নাজমুল হোসাইন সাহেব যেন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। এক আদর্শ রেখে দিলেন জাতির জন্য। কওমী অঙ্গনের তথা ওলামায়ে দেওবন্দের আইডল এখন তিনি। তাঁর আদর্শ, তাঁর আচরণ থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

আজ কোন জায়গাতে ঠেলাঠেলি নেই? পুরো দেশ এমনকি এই উপমহাদেশ জুড়ে ঠেলাঠেলি রয়েছে। কিন্তু কেউ বাদ পড়ে গেলে বা কাউকে বাদ দেওয়া হলে সে তো মিডিয়ার সামনে চুপ করে বসে থাকেন না। এমনকি দোস্ত- আহবাবের সাথেও মনের ব্যাথাগুলো শেয়ার করেন। আর সেই থেকে ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপি। আলেম- উলামাদের দোষত্রুটি মানুষেরা অবলীলায় বর্ননা করতে থাকে। পুরো দেশে আলেমদের ঠেলাঠেলির বিষয়গুলো আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগে হাটহাজারী, লালবাগ, রাহমানিয়া এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নানান কথা কিন্তু লোক মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল। মানুষ ওলামাদের শানে নানান অশ্লীল মন্তব্য করেছিল। কেননা, ঐসকল প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বেরিয়ে ছিলেন, কেউ কিন্তু মুখে তালা মেরে রাখেন নি। বরং জনতার সামনে সব কিছু স্পষ্ট করে দিয়ে ছিলেন।

মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমীকে দেখছি এক আদর্শবান ব্যক্তিত্ব। পুরোপুরি দেওবন্দী আকাবিরদের শিষ্টাচার- আদব- আখলাক তিনি বক্ষে ধারণ করে আছেন। কাজে -কর্মে আকাবিরের অনুসারী তিনি। বিশেষ করে আল্লামা নুর হোসেন কাসেমীর যোগ্যউত্তসুরী বলা যায় তাঁকে। কেননা, মরহুম আল্লামা কাসেমী সাহেবের মধ্যে যে আদর্শ ছিল, সেই মেযাযে যেন তিনি নিজেকে সাজিয়েছেন। কাসেমী সাহেব যেমন কোনদিন কাউকে দোষারোপ করেন নি কোন বিষয়ে, ঠিক মাওলানা নাজমুল সাহেব সেই কাসেমী আখলাক পুরোপুরি ধরে রেখেছেন।

আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী রহঃ তাঁর জীবদ্দশায় বহু হোঁচট তিনি খেয়ে ছিলেন। এই বারিধারাতে তিনি কয়েকবার হোঁচট খেয়েছিলেন। কিন্তু কোনদিন কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নি নুর হোসেন সাহেব। বরং সবর করেছেন। দ্বীনি মারকাজ আরো গড়ে তুলেছেন। কারো নামে মামলা- জিডি, শালিসী বৈঠক করার জন্য তিনি কোনদিন রাজী ছিলেন না। একদম নববী আখলাকের মুর্তপ্রতিক ছিলেন তিনি।
ঠিক আল্লামা কাসেমীর যোগ্য শাগরেদ বলা যায় তাঁকে। নাজমুল সাহেব প্রিয় উস্তাদের আখলাক গ্রহণ করেছেন। তিনি আলেমদের ভিতরকার অবস্থা নাঙা করেন নি। নিঃসন্দেহে তাঁর এটা প্রসংসনীয় আখলাক। তাঁর এই আখলাক থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
মাওলানা নাজমুল সাহেব অত্যন্ত ভদ্র একজন ব্যক্তিত্ব। সেটা আমি স্বচক্ষে দেখেছি অনেকবার। বারিধারাতে আল্লামা কাসেমী জীবদ্দশায় বহুবার যাওয়া পড়েছে।তখন থেকে মাওলানা নাজমুল সাহেবের সাথে পরিচয়। বহুকথা হয়েছে তাঁর সাথে। আসলেই তিনি উঁচু তবকার ব্যক্তিত্ব। তাঁর চিন্তা- চেতনা, তাঁর অধ্যাপনা সবকিছুতে তিনি কাসেমী সাহেবকে ফলো করে চলতেন।

মাওলানা নাজমুল সাহেবকে আরো ভাল করে জানি, একবার ওমরার সফরে মদীনা মুনাওয়ারাতে এক হোটেলের একই রুমে তাঁর সাথে ছিলাম। মদীনার রওজার পাশে প্রসিদ্ধ হোটেল ” সানাবেলে মদীনা” একই রুমে আমরা কয়েকজন। আমার কাছে অনেক ভদ্র এবং মার্জিত আখলাকের মনে হয়েছে। সেই থেকে তাঁকে আমি অনেক ভালবাসি।
এই তো কিছুদিন আগে আল্লামা কাসেমী এর ইন্তেকালের পরে, কাসেমী সাহেব এর “জীবন ও কর্ম ” শীর্ষক আলোচনা শুনলাম বারিধারাতে। অনেক প্রশস্ত মন নিয়ে তিনি বক্তৃতা করছিলেন। সকলের কাছে সেটা হৃদয়গ্রাহী হয়েছিল।
যাইহোক, প্রতিটি মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে। উথ্থান আছে পতন আছে।সব মিলিয়ে জীবন। উথ্থান- পতন ছাড়া কেউ কিন্তু বড় হতে পারেনা।

শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ, তিনি লালবাগে চিরদিন থাকতে পারেন নি। তাঁর লালবাগ ছেড়ে রাহমানিয়া গড়তে হয়েছে।
কাজী মু’ তাসীম বিল্লাহ সাহেব রহ, যাত্রাবাড়ী থাকতে পারেন নি। তিনি মালিবাগ মাদ্রাসা গড়েছেন। আমার আরেক উস্তাদ মুফতী শফিকুল ইসলাম দামাতবারাকাতুহুম তিনি মালিবাগ থেকে গিয়ে জামেয়াতু ইব্রাহিম( আঃ) সাইনবোর্ড, যাত্রাবাড়ী, বিশাল জামেয়া তিনি গড়েছেন।
খোদ আল্লামা কাসেমী সাহেবও কিন্তু মালিবাগ – ফরীদাবাদ পড়ায়ে তারপরে বারিধারা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তবে যারা বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে কোন কারণবশতঃ যে চলে এসেছেন,এঁরা কিন্তু দেশ থেকে দেশান্তরে দ্যুতি ছড়িয়েছেন।বরং তাদের খেদমতের পরিধি আরো বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমী সাহেব যে বারিধারা ছেড়েছেন, দেখবেন, নাজমুল সাহেব এবার আলো ছড়াবেন দেশ ব্যাপি। আগে তো শুধু বারিধারা কেন্দ্রীক ছিল। এখন তাঁর খেদমতের পরিসীমা আরো বেড়ে যাবে বহুগুন। তিনি একজন খ্যাতিমান আলেম হিসেবে প্রকাশিত হবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সহজ করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com