সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

মহিলা মাদরাসা গুলোর সাম্প্রতিক হালাত; একটি সুচিন্তিত পরামর্শ

মহিলা মাদরাসা গুলোর সাম্প্রতিক হালাত; একটি সুচিন্তিত পরামর্শ

মহিলা মাদরাসা গুলোর সাম্প্রতিক হালাত; একটি সুচিন্তিত পরামর্শ

নিজামুদ্দীন মিসবাহ : সুপ্রিয় উলামায়ে কেরাম! হাজার বছরের সাধনায় শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার যে মাকাম ও মঞ্জিল তৈরী করেছেন আমাদের আকাবীর ও আসলাফ; গুটিকতক লম্পট আর আস্তিনের তলায় লুকিয়ে থাকা কয়েকটা জাহান্নামের কীটের কারণে তা ধুলোয় লুটাবে, এটা কী মেনে নেয়া যায়?

সাম্প্রতিক সময়ে কওমী অঙ্গনে ঘটে যাওয়া কয়েকটি বয়াবহ দুর্ঘটনা আমাদের সম্মান মর্যাদাকে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। আমরা স্বীকার করি আর না করি তসলিমা নাসরীন আর তার অনুসারীদের কাছে আমাদের নিয়ে লেখার নতুন রসদ তুলে দিয়েছি আমরা নিজেরাই। বিশ্বাস না হলে তাসলিমার নিজস্ব পেইজ এবং ইত্তিলা রায় ইতুর স্টেটাসগুলো দেখে আসতে পারেন। এমন কিছু প্রশ্ন আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে, আমাদেরকে চুপ থাকা ছাড়া গত্যন্তর রাখেনি।

সুতরাং সময় থাকতে এখনই কিছু পদক্ষেপ নিন। আমাদের উপর অগাধ বিশ্বাস রাখে যে মানুষগুলো, অন্তত তাদের বিশ্বাসের জায়গাটা অক্ষুণ্ণ রাখুন।

এক,
শিক্ষাবোর্ড থেকে মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরী করুন। যেখানে কোন কোন শর্তের ভিত্তিতে কারা, কোথায় এবং কীভাবে প্রতিষ্ঠান তৈরী করতে পারবে এর বিশদ বর্ণনা ও নির্দেশনা থাকবে।

দুই,
মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ আপাতত চুড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক।

তিন,
এসব নীতিমালা ফলো করা হচ্ছে কি না তা মনিটরিং করার জন্য মহিলা ভিজিটর নিয়োগ করা হোক।

চার,
সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় শিক্ষা অফিসকে মহিলা মাদরাসা পরিদর্শনে সম্পৃক্ত করা হোক। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সরকারে উচ্চ মহলে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

পাচ,
উইমেন চাপ্টার নিয়ে যারা কাজ করে তাদেরকে দিয়ে তদারকির ব্যাবস্থা করা হোক।

ছয়,
প্রতিটি মহিলা মাদরাসার জন্য অভিভাবকদের নিয়ে নিপীড়নবিরোধী একটা কমিটি গঠন করা হোক।

সাত,
প্রতিটি মাদরাসায় একটি অভিযোগ বাক্স সংরক্ষণ করা হবে, যেখানে ছাত্রীরা নির্ভয়ে নিজেদের অভিযোগ দিতে পারে।

আট,
প্রত্যেকটি গার্ডিয়ান তাদের মেয়েদেরকে নিপীড়ন বিষয়ক সাধারণ ধারণা এবং এসব ক্ষেত্রে ছাত্রীরা তাৎক্ষণিক কী করবে তা পারিবারিকভাবে শিখিয়ে দিতে হবে।

নয়,
যেসব মুহতামিম বা শিক্ষকরা এসব অপরাধের সাথে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। লজ্জা হবে, ঐতিহ্য নষ্ট হবে এসব বস্তাপচা চিন্তা পরিত্যাগ করতে হবে।

দশ:
প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষিকার নিবন্ধন নিশ্চিত করুন। যাতে দোষীরা পার পেয়ে না যায়, বা অন্যত্র গিয়ে শিক্ষকতা না করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষাবোর্ড কতৃক উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো নিলে আসা করা যায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

এসব কেউ শুনবে?

নাকি বেয়াক্কলদের উপদেশ দেয়ার চেয়ে পেট ভরিয়ে খাইয়িয়ে দুইটা থাপ্পড় দিয়ে বিদায় করে দেয়াটা উত্তম?

লেখক : শিক্ষক ও বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com