সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

মহানবীর মহাশূন্যে সফর

মহানবীর মহাশূন্যে সফর

শব-ই-মেরাজ

মহানবীর মহাশূন্যে সফর

সিদরাতুল মুনতাহা
ইসলামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও চমকপ্রদ বিষয়গুলোর একটি হলো ‘শব-ই-মেরাজ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সশরীরে জাগ্রত অবস্থায় মহাশূন্যে বা ঊর্ধ্বজগতে সফরের ঐতিহাসিক ঘটনাকে শব-ই-মেরাজ বলা হয়। মহানবী (সাঃ) এর মেরাজে গমন নিঃসন্দেহে তার শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন এবং সব মুজেযার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজেযা। মেরাজের তারিখ সম্বন্ধে একাধিক মতভেদ থাকলেও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মত হলো, তায়েফ থেকে ফেরা ও মদিনা শরিফে হিজরতের মধ্যবর্তী সময়ে অর্থাৎ নবুয়তের দশমবর্ষ তথা ৬২০ খ্রিস্টাব্দের ২৭ রজব তারিখে পবিত্র মেরাজ সংগঠিত হয়েছিল।
সমগ্র মুসলমান জাতির জন্য এই ‘শব-ই-মেরাজ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। মহানবী (সাঃ)-এর জীবনের ঘটে যাওয়া এই অলৌকিক ঘটনা কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২৭ রজব তারিখে রাত্রিকালে আমাদের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার প্রতিপালকের ডাকে সাড়া দিয়ে মহাশূন্যে সফর করেছিলেন। মেরাজের প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা হয়, মেরাজের বছরে মহানবীর (সাঃ) চাচা আবু তালেব ও সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রাঃ) অল্পদিনের ব্যবধানে ইন্তেকাল করেন। মহানবী (সাঃ) এর দুঃখ নিবারণ ও ইসলামের দাওয়াতের কাজে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাকে মেরাজের রাতে কাছে ডেকে সম্মানিত করেন।

মেরাজ সংগঠিত হওয়ার সময় মহানবী (সাঃ) এর বয়স ছিল ৫১ বছর। বুখারী শরিফের বর্ণনানুযায়ী, সেই রাতে তিনি নিজ ঘরে শায়িত ছিলেন। কারো মতে, তিনি উম্মে হানীর ঘরে শায়িত ও নিদ্রায় ছিলেন। এমন সময় জিব্রাইল (আঃ) এসে তাকে জাগিয়ে তুলে ওজু করান এবং সিনা চাক বা বক্ষবিদীর্ণ করে জমজমের পানি দিয়ে তার অন্তর ধুয়ে দেন। এরপর ‘বোরাক’ (বিদ্যুৎ গতির বাহন) নামক বিশেষ বাহনে আহরণের মাধ্যমে মহানবীর মহাশূন্যের সফর শুরু হয়। এ সফরে প্রথম আসমানে তিনি হযরত আদম (আঃ), দ্বিতীয় আসমানে হযরত ঈসা (আঃ), তৃতীয় আসমানে হযরত ইউসুফ (আঃ), চতুর্থ আসমানে হযরত ইদ্রিস (আঃ), পঞ্চম আসমানে হযরত হারুন (আঃ), ষষ্ঠ আসমানে হযরত মুসা (আঃ) এবং সপ্তম আসমানে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সাথে সালাম ও কুশল বিনিময় করেন। এরপর তাকে ‘বায়তুল মামুর’ নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা সালাত আদায় করেন। অতঃপর জিব্রাইল (আঃ) তাকে প্রকান্ড কূল বৃক্ষ ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ র কাছে নিয়ে যান যে বৃক্ষের সীমানার পরে কোনো সৃষ্টি অতিক্রম করতে পারে না। সেখান থেকে আল্লাহ মহানবী (সাঃ) কে ঊর্ধ্বে টেনে নিয়েছিলেন। সেখানে পর্দার আড়াল থেকে মহানবী (সাঃ) আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং এই মেরাজের সময় ই ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় উম্মতের উপর ফরজ করে দেন মহান আল্লাহ। অতঃপর বিচিত্র দৃশ্য অবলোকন করে একজন সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে মহানবী (সাঃ) ফিরে আসেন।

মহানবী (সাঃ) এর মেরাজে গমনের ঘটনাটি মানব ইতিহাসে অতন্ত্য তাৎপর্যমন্ডিত ও শিক্ষামূলক একটি ঘটনা। কেননা এই রাতেই ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের ২য় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ, মুসলমানদের উপর ফরজ করা হয়। এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরীফে বর্ণনা করা রয়েছে। এই মেরাজের রাতের পর থেকেই প্রতিবছর এই রাতে বিশেষভাবে মেরাজের নামাজ আদায় করা হয় এবং পরের দিন শবে মেরাজের রোজা পালন করা হয়। মেরাজের প্রকৃত শিক্ষাকে ধারণ করে আমরা যেন ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবী অর্জন করতে পারি। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com