রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১৯ অপরাহ্ন

মনে পড়ে তোমায়, বঙ্গবন্ধু

মনে পড়ে তোমায়, বঙ্গবন্ধু

মনে পড়ে তোমায়, বঙ্গবন্ধু

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : বঙ্গবন্ধুকে বলা হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী। আবার তিনি শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। এ রকম তুখোড় রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে এই পৃথিবীতে খুব কমই। একজন অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন তিনি। নিজ দেশের প্রতি ছিল তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা-গভীর প্রেম! দেশের জন্যই জান-কোরবান করেছিলেন তিনি। পুরো যিন্দেগীর একটা বড় সময় তাঁর কেটেছে জেলখানায়। নিজের জন্য নয়, নিজের পরিবারের জন্য নয়, শুধু মাত্র মজলুম মানুষের মুক্তির জন্য। গরীব-দুঃখী-শোষিত-নির্যাতিত আপামর জনতার তথা জনমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি লড়েছেন সারাজীবন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবিসংবাদিত এক ব্যক্তিত্ব। বিশ্ব ভুমণ্ডলে মা-মাটি-মানুষ প্রেমী এমন রাজনৈতিক নেতার আভির্ভাব প্রকৃতই বিরল।

একটা পরাধীন দেশ, যারা সব দিক থেকে দুর্বল। সেই দেশের জনমানুষকে সাথে নিয়ে সে সময়ের ক্ষমতাসীন অত্যাচারী ও বেইনসাফীপূর্ণ সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের জন্য জনতাকে ঐক্যবদ্ধ, জাগ্রত ও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এই বাংলা নামক দেশের মানুষকে ’৪৭-এর পর থেকে ধারাবাহিক ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে সংঘবন্ধ করেছিলেন। আর এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালীর পরীক্ষিত নেতা, প্রাণাধিক প্রিয় নেতা। এবং সে কারণেই চূড়ান্ত পর্যায়ে, অর্থাৎ ১৯৭১-এর ৭ই মার্চে তাঁর বজ্রকণ্ঠের ঘোষণার মাধ্যমে সংঘবন্ধ বাঙালী দেশ-মাতৃকার স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লক্ষ-কোটি জনতাকে সাথে নিয়ে জালিম শাসকের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন তিনি।

তিনি দুর্দমনীয়। তাঁর বজ্রশক্তিকে রোধ করতে কেউ পারেনি। তাঁর কণ্ঠকে রোধ করতে চেয়েছিল সে সময়ের জালিম স্বৈরশাসক। বহুবার কারার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু দেশের ও দশের জন্য যিনি সব দিতে প্রস্তুত তাকে কে রোখে ? ফলে, জালিমশাহী ব্যর্থ হয়েছিল।

আমাদের মহান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। সব ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নয় মাস যুদ্ধ করেছিল বাঙালী জাতি। বঙ্গবন্ধুর প্রেরণায় পাকিস্তানী হানাদারের বিরুদ্ধে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। প্রাণ-পণ লড়াইয়ে ত্রিশ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিল। বাংলাদেশের আপামর মজলুম জনতা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করেছিল। এ দেশ হানাদার মুক্ত হয়েছিল ।

আজকের এই সময়ে, এই বিশ্বের মজলুম মানুষের আহাজারী দেখে, বড্ড মনে পড়ে বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু বলতেন, বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত, শোষক আর শোষিত। তিনি বলতেন, আমি শোষিতের পক্ষে।

সত্যি বঙ্গবন্ধু শোষিতের পক্ষে ছিলেন। তিনি মজলুম মানুষের সাথে ছিলেন চিরদিন। মাজলুমের পক্ষে লড়াই করে গেছেন আজীবন। এবং সেই লড়াইয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

আজ দুনিয়ার এ প্রান্তে সমস্যা, ও প্রান্তে সমস্যা। মজলুম মানুষেরা তাদের অধিকার বঞ্চিত। বিভিন্ন দেশে জালিম শাসকগোষ্ঠী হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে মজলুমের উপর। জনমানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ওরা। পাশে দাঁড়াবার মতো কেউ নেই। বহু দেশে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে মানুষ। এভাবে যুগের পর যুগ চলছে তাদের সংগ্রাম। কিন্তু আজো দেখা মেলেনি তাদের স্বাধীনতা।

তাই তো মনে পড়ে, যদি বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা যদি ওরা পেত ! আজ যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তাদেরকে সংঘবদ্ধ কেউ করত এবং চূড়ান্ত সময়ে তাঁর বজ্রকণ্ঠ সেখানে গর্জে উঠত। সেখানকার মানুষ যদি বঙ্গবন্ধুর মতো মানুষের নেতৃত্ব পেত। তাহলে মাজলুম মানুষের আহাজারী বন্ধ হত।

তাই আজ এই ক্রান্তিকালে, বর্তমান মানব জাতির অবক্ষয়ে, মজলুম মানুষের আর্তনাদে মনে পড়ে তোমায়, প্রিয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান!

কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহতা’য়ালার কাছে ফরিয়াদ করি, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। জান্নাতুল ফিরদাউসে সমাসীন করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com