সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

মনোনয়ন ক্যাচাল

মনোনয়ন ক্যাচাল

সগীর আহমদ চৌধুরী : জোট, ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া বিজয় আসছিল না ইসলামপন্থিদের। রাজনীতি করতে করতেই অনেকের চুল-দাড়ি পেকে সাদা হয়ে এসেছিল। এভাবে আর কত? মনে হলো, ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে কিছুসংখ্যক আসনে জিতে সংসদে যেতে পারবেন ওলামায়ে কেরাম।

কথা বলবেন তাঁরা দীনের জন্য, দেশের জন্য, দশের জন্য। দুয়েকটা দিয়ে শুরু হবে, আস্তে আস্তে সেই সংখ্যাটা বাড়বে। একটা সময় এমন হবে যে, শরীক দলসমূহ সংখ্যালগুতে পরিণত হবে এবং ইসলামপন্থিরা সংখ্যাঘরিষ্টতা অর্জন করবে। আর এক পর্যায়ে স্বপ্নের ইসলামি হুকুমত কায়েম করবে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, ব্যাপারটা সেভাবে সংঘটিত হয়নি বা হচ্ছে না। আসনের সংখ্যাটা বাড়েনি, কমেছে। জোটের মধ্যে ইসলামপন্থিরা বিজয়ী হয়নি, বিলীন হচ্ছে। আচ্ছা, যদি এভাবে ইসলামপন্থিরা বিলীনই হতে থাকে তবে সেই স্বপ্নের ইসলামি হুকুমত হবে কি করে? কিভাবে সম্ভব একটি ইসলামি হুকুমতকামী শক্তি হিসেবে আভির্ভূত হওয়া?

১৯৯১ সালে ইসলামী ঐক্যজোট প্রতিষ্ঠার এখন প্রায় ৩০ বছর হতে চলল। স্বপ্ন ছিল ইসলামপন্থিদের নিজস্ব একটি শক্তিবলয় গড়ে ওঠবে। কিন্তু সেই জোট বিএনপির সঙ্গে গিয়ে আত্ম-অস্তিত্ব বিলীন করেছে। যদি তার পরিবর্তে এ ৩০ বছর স্বকীয় স্বতন্ত্র নীত-ধারায় চলতো তাহলে তাদের আসন সংখ্যা কি ধীরে ধীরে বাড়তো না?

দু’জমিয়তকে দুটো, খেলাফতকে একটি। তিনজন ব্যক্তি তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ আসন সুনিশ্চিত করে চুপসে গেছেন। দলীয় অধিকারের প্রশ্নে তাঁদের আর সোচ্চার দেখা যাচ্ছে না বা হয়তো যাবে না। পাছে যদি নিজেরটাও হারাতে হয়। বরং তাঁদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে নিজের আসনের সুনিশ্চয়তার স্বার্থে যেকোনো মূল্যে দলকে জোটে ধরে রাখার।

অর্থাৎ একান্ত ব্যক্তি স্বার্থেই তাঁরা পুরো দলকে বন্ধক রাখবেন বিএনপি জোটের কাছে। ঠিক এভাবেই দুয়েকজন নেতাবিশেষের রাজনীতিক উচ্চবিলাস চরিতার্থ করার স্বার্থেই শরীক দলসমূহের সকলের ঐক্যমতের সিদ্ধান্ত ব্যাতিরেকে বৃহত্তর ইসলামী ঐক্যজোটকে সেই সময় টেনে হিঁচড়ে ভাড়ায় দেওয়া হয়েছিল বিএনপির কাছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com