মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার তাজউদ্দীন আহমদের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী

মঙ্গলবার তাজউদ্দীন আহমদের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী

 মঙ্গলবার তাজউদ্দীন আহমদের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী শীলনবাংলা ডটকম : তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সাফল্যের সাথে পালন করেন। একজন সৎ ও মেধাবী রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল।

তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন যা মুজিবনগর সরকার নামে অধিক পরিচিত। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসাবে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হবার পর আরও তিনজন জাতীয় নেতাসহ তাঁকে বন্দী করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর বন্দী অবস্থায় ঘাতকের বুলেটে তিনি নিহত হন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছায়াসঙ্গী এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গতাজ’ তাজউদ্দীন আহমদের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী আজ (২৩ জুলাই)।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা ও আদর্শবাদের এক অনন্য প্রতীকের নাম তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯২৫ সালের এই দিনে ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন জাতির কাণ্ডারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের পর একতরফা হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, তখন জেলবন্দি বঙ্গবন্ধুর পূর্বঘোষণা অনুসারে শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বে মূল দায়িত্ব অর্পিত হয় তাজউদ্দীন আহমদে ওপর।

তিনি ১৯৭১ সালের চরম সংকটময় মুহূর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে সফল ভূমিকা পালন। এরপর মাত্র ৯ মাসের মধ্যে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার পরপরই প্রিয় নেতার মুক্তির জন্য বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত তোলপাড় করে ফেলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতালোভী ঘাতকচক্র সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে। এর পরেই তাজউদ্দীন আহমদকে গৃহবন্দী করা হয়। পরে তিনি সহ জাতীয় ৪ নেতাকে জেলখানায় বন্দি করে রাখা হয়।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর, বন্দি থাকা অবস্থায় তাকে এবং অপর ৩ জাতীয় নেতাকে জেলখানার অভ্যন্তরেই নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে ঘাতকচক্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে রবে জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের নাম।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com