সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

বেইলম এবং বেআমল হয়ে ব্যবসা নয়

বেইলম এবং বেআমল হয়ে ব্যবসা নয়

বেইলম এবং বেআমল হয়ে ব্যবসা নয়

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানুবী রহ, এর একটি কিতাবে পড়েছিলাম। একজন বৃদ্ধা মহিলা হযরত থানুবী রহ, এর নিকটে এসে একটা মাসয়ালা জিজ্ঞেস করলেন। তিনি মহিলাকে মাসয়ালার সঠিক উত্তর বুঝিয়ে দিলেন। এরপর মহিলাটি বলল, হুজুর! আমি এই মাসয়ালাটি অমুক মাওলানা সাহেবের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলাম। সে অনুরুপ উত্তর দিয়েছে। কিন্তু আমার মনের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হল। কেননা, উক্ত মাওলানা ‘শুধু দোকানদারী করেন’। কোন মাদ্রাসার সাথে সম্পর্ক নেই। কিতাবাদী চর্চা করেনা। এজন্য আমার মনে প্রশান্তি আসতে ছিল না।

এরপর হযরত থানুবী লিখেছেন, কোন আলেম যদি ইলম চর্চা ছেড়ে দিয়ে শুধু ব্যবসা- বাণিজ্য নিয়ে পড়ে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ তার থেকে আস্থা হারায়ে ফেলে।

কদিনধরে মাশাআল্লাহ, একজন বালকের বক্তব্য নিয়ে যে তোলপাড় হল, তাতে মনে হচ্ছিল, নাজমুছ সাকিব কোন আল্লামা!! তিনি এমন ভুল করবেন?
মানে ফেসবুকের বন্ধুরা অনেক কিছু পারেন। একটা বালক। যে এখনও প্রাপ্ত বয়স্ক নয়।অর্থাৎ ময়দানে কথা বলার বয়স হয়নি। তার মুখ ফসকে একটা কথা বের হল, আর সাথে সাথে আমরা তার বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লাম। যেটা খুবই দুঃখজনক।
এখানে সাকিবের কী দোষ? দোষ যদি হয়, তাহলে সাকিবকে যারা পরিচালনা করছেন,তাদের পাকড়াও করা যেতে পারে। অথবা ওই সাকিবকে যারা দাওয়াত দিয়ে ওখানে বসায়েছে, তাদের ধরা যেতে পারে। কিন্তু তা না করে একদম হুলুদ সাংবাদিকদের মত একটা বালকের উপরে সবাই হামলে পড়ল।

মাওলানা আশরাফ আলী থানুবী এর বক্তব্য দ্বারা বোঝা যায়। শুধু ব্যবসা নিয়ে পড়ে থাকাটা ঠিক হবে না। তাঁর জন্য উচিত কিতাবের সাথে সামান্য সময়ের জন্য সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করা। তাহলে তার ইলম তাজা থাকবে। সে বে-ইলম এবং বে-আমল হবে না।

দেখুন! বহু প্রমাণ আছে, আমাদের দেশে কিছু কিছু আলেম, ( সবাই নয়) ব্যবসা করতে গিয়ে এখন মাথায় টুপি নেই। হারাম- হালালের তমিজ নেই। এমনকি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমত পড়ে না। অথচ তারা কিন্তু অত্যন্ত মেধাবী মুখ ছিল। বেফাক বোর্ডের মেধা তালিকাতে তাদের স্হান হয়েছিল। কিন্তু এমন ব্যবসা তাদের পেয়েছে, এখন কোন ইলম চর্চার সময় তো দুরের কথা, সকালে কোরআন তেলাওয়াতের সময় হয়না। দুনিয়ার মোহে পড়ে সব হারিয়ে গেছে। তাদের চাল- চলন দেখে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

এ জন্য ব্যালেন্স থাকা চাই। ব্যবসা ভাল জিনিস। অবশ্যই করা দরকার আছে। কিন্তু একদম ইলম- কালাম ছেড়ে দিয়ে, বেআমল হয়ে ব্যবসা করা, দোকানদারী করা বড্ড বে-মানান।

আমাদের বজুর্গরা মাদ্রাসায় তালিমের পাশাপাশি ব্যবসা করেছেন। কিন্তু তালিমে বা ইলম চর্চায় ব্যাঘাত হয়নি কখনো। তাই কোনটাকে খাটো করে দেখা যাবেনা। সবই করতে হবে। তবে আলেমাশান যেন আমাদের বাকি থাকে।বেআমল না হয়ে যাই।

মাদ্রাসায় তালিমের পাশাপাশি অবশ্যই কিছু করতে হবে। আমি এবক্তব্যের পক্ষে। এব্যাপারে আমি অনেকবার লিখেছি। শুধু মাদ্রাসার তানখার দিকে চেয়ে থাকা নয়। তবে যিনি যে কাজই করবেন, তার জন্য ইলমের চর্চা অব্যহত রাখতে হবে। আমল ঠিক রাখতে হবে। আল্লাহ আমাদের উপর দয়া করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com