শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৪০ অপরাহ্ন

বিলাসবহুল ফাইভ স্টার মানের কারাগার

বিলাসবহুল ফাইভ স্টার মানের কারাগার

ফিচার ডেস্ক • খুন, চুরি বা ডাকাতি যেকোনো খারাপ কাজ মানেই অন্যায়। আর অন্যায় করলে শাস্তি পাবেন। আর শাস্তি হিসেবে আপনাকে জেলে যেতে হতে পারে। তবে জেল মানেই অন্ধকার, স্যাঁতসেতে কুঠুরি। জেল মানেই যন্ত্রণা। জেল মানেই শাস্তি। আর এর জন্যই অনেকে অন্যায় করা থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু এমন জেলও আছে, যেখানে চোর ডাকাতরা খুশি মনে যেতে চান। কারণ সেখানে একদম ফাইভ স্টার হোটেলের মতো এলাহি বন্দোবস্ত। যেখানে কোনো যন্ত্রণা নেই। শুধু আরাম।খুন করুন, চুরি কিংবা ডাকাতি। ব্যস, সোজা শ্রীঘরে। গরাদের পিছনে সুখ আর আরাম।

বিলাসবহুল কোনো পাঁচতারা হোটেলকে হার মানাবে গরাদের ওপার। সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় ফাইভ স্টার হোটেলের সুবিধা পেতে চাইলে, বসে বসে একদম মুফতে খাওয়াদাওয়া। যতদিন খুশি। রিফ্রেশমেন্টের এলাহি বন্দোবস্ত পেতে পারেন। ছোট্ট ছোট্ট সুন্দর সাজানো ঘর। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই চোখে পড়বে সবুজ লন, নানা রঙের ফুল। প্রকৃতির শোভায় সজ্জিত সংশোধনাগার। জেল মানেই শাস্তির জায়গা। জেল মানেই যন্ত্রণার জায়গা। এই জেলের অন্দরমহল দেখলে তেমনটা মনে হওয়া তো দূর, পাঁচতারা হোটেল বলে ভুল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। কয়েদিরা নিজেরাই এখানে ফল-সবজির চাষ করে। রান্নাও করে নিজেরাই। একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, টেলিভিশন দেখা। এই ধরনের কর্মকা-ের মধ্যে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন জেল কর্তৃপক্ষ।

নরওয়ের হ্যাল্ডেন জেল। সেদেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহত জেল। ২০১০ সালে তৈরি হয় এই সংশোধনাগার। ইনমেটসদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে তাদের বিনোদনের বেশ কিছু আয়োজনও রয়েছে। খেলাধুলা, গান-বাজনার সময়ে কয়েদিদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন জেলের কর্মীরাও। ডেনমার্কের এরিক মোলার আর্কিটেক্ট ও ব্রিটিশ এইচএলএম আর্কিটেক্ট এই জেলটি গড়ে তোলে। জেলের বাইরের অংশ কংক্রিকেটের বদলে ইট, গ্যালভানাইজড স্টিল ও লার্চ কাঠে তৈরি। ইট, কাঠ, পাথরের ঘেরাটোপে গাছগাছালির সারি। বার্চ, ব্লুবেরি, পাইন গাছের সবুজে ঘেরা সংশোধনের বন্দোবস্ত। স্টিল, মানে কঠোরতা। মানে আটকের প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত। লার্চ, মানে কোমলতা। মানে, সংশোধন এবং বৃদ্ধির প্রতীক। জেলের দেওয়াল এবং টয়লেটের দরজায় গ্র্যাফিটি পেন্টিং করেছেন নরওয়ের আর্টিস্ট ডক। প্রত্যেকটি কুঠুরি ১১০ স্কোয়্যার ফুট। প্রত্যেকটিতে রয়েছে ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, ডেস্ক, মিনিফ্রিজ, অ্যাটাচড টয়লেট, শাওয়ার। বিশাল বিশাল জানলা। প্রত্যেকটি কুঠুরিতে খেলা করে প্রচুর আলো। প্রত্যেক ১০-১২টি কুঠুরির জন্য রয়েছে একটি ডাইনিং স্পেস, রান্নাঘর ও লিভিং রুম। রান্নাঘরে স্টেনলেস স্টিলের বাসনপত্র, পোর্সেলিনের প্লেট এবং ডাইনিং টেবল। লিভিং রুমে রয়েছে মডিউলার কাউচ ও ভিডিও গেমের আয়োজন। মুদিখানা থেকে জিনিসপত্র কিনে বন্দিরা নিজেরাই রান্না করে খেতে পারে। দিনে ১২ ঘণ্টা কুঠুরির মধ্যে থাকতে হবে বন্দিদের। বাকিটা সময় কুঠুরির বাইরে। তাদের উৎসাহ দেওয়া হয় নানা গঠনমূলক কাজকর্মে।

জগিং থেকে ফুটবল, জিম থেকে রক ক্লাইম্বিং, বন্দোবস্ত রয়েছে সবেরই। লাইব্রেরিতে রয়েছে প্রচুর বই, ম্যাগাজিন, সিডি ও ডিভিডি। মানে, প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগার। নরওয়ের অন্যান্য জেলের তুলনায় হ্যাল্ডেন প্রিজনকে ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি প্রিজন তালিকার মধ্যে ধরা হয়। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষের মতে, আসামি যতই ভয়ঙ্কর হোক, তাকে মানুষ হিসাবে সম্মান দিলে, কিছুটা হলেও তার ব্যবহারে তা প্রতিফলিত হয়।

 

শীলন/৩০৮

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com