মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

বালিয়া মাদরাসায় একদিন

বালিয়া মাদরাসায় একদিন

বালিয়া মাদরাসায় একদিন

মুহাম্মাদ আবূ মূসা কাসেমী

২০ ডিসেম্বর ২১ ইং সোমবার। এই তারিখে মোমেনশাহীর মহিষপুর, মধুপুর, তারাকান্দার নূরে মদীনা মাদরাসার মাহফিলের প্রোগ্রাম ছিলো। সফরে অনেক কিছু জানা যায়, বুঝা যায়। বিভিন্ন দেশ বা এলাকার স্বভাব বা অবস্থা জানা যায়। সফর দ্বারা ঈমান মজবুত হয়, নিজের ইসলাহ হয়। তবে সফরটি হতে হবে একমাত্র আল্লাহকে রাজী খুশি করার জন্যে। সফর হতে হবে নিঃসারথ, নির্লোভ। সফর দ্বারা সবর আসে, সবর দ্বারা শুকর আসে আর শুকর দ্বারা জান্নাত। সফরসংগী যথাক্রমে প্রিয় ছাত্র মুফতি জাকারিয়া মাহমুদ, মুফতি আবদুল্লাহ নোমান, মুফতি এনামুল হাসান এবং হাফেজ মাহদি হাসান।

আল্লাহ তাআ’লা কাওমী উলামা ও কাওমী মাদরাসার প্রতি বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ করেছেন আলহামদুলিল্লাহ। আমরা মোমেনশাহীর ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া মিফতাহুল উলূম মাসকান্দা, দারুল উলূম জামিয়া ইসলামিয়া সেহড়া, হয়ে প্রথমে নূরুননিসা মহিলা মাদরাসায় বাদ আসর খাবারের পর্ব শেষ করি।

সেখান থেকে আননাহদা মহিলা মাদরাসার পাশের মসজিদে মাগরিব এর নামাজ আদায়ের পর অপেক্ষারত মুসল্লীসহ বিশেষ দোয়া হয়। সেখান থেকে মোমেনশাহীর তারাকানদার সর্ব প্রথম ও সর্ব বৃহৎ মহিলা মাদরাসা ‘আন নাহদা আদর্শ মহিলা মাদরাসা’ সর্ব জনাব মাওলানা আবদুস সবুর সাহেবের উসীলায় মাদরাসার অফিসরূমে উলামায়ে কিরামের এক মিলনমেলা হয়।

উক্ত মহিলা মাদরাসায় আল্লাহর ওপর ভরসা করে পাচশ’ এর অধিক ছাত্রীর মাধ্যমে এলাকাবাসীর খেদমত করা হয়। আর এই খেদমতে সরকারের কোনো অনুদান নেই, শুধুই আল্লাহর রহমত ও জনগনের দোয়াই পাথেয়। সেখান থেকে মাওলানা আবদুস সবুর মহোদয়সহ বাংলার ঐতিহ্যবাহী একশ’ তিন বছরের আদর্শ ইলমী কানন জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়া মাদরাসা! ফুলপুর এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। পথিমধ্যে আরেক মাদরাসা! বানিহাটা কাসিমুল উলূম বড়বাড়ি মাদরাসা, তারাকানদা এর পাশ অতিক্রম করি।

যার বয়স মাত্র দুই বছর। ছাত্র শংখ্যা চারশ’Ñএর অধিক। অল্প সময়ের মধ্যেই মাদরাসাটি সকলের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। মজার কথা হচ্ছে, মাদরাসা এলাকাবাসীর খেদমত করে যাচ্ছে, আর এলাকাবাসীও বিভিন্নভাবে মাদরাসায় সহযোগিতা করে যাছে। বিশেষ করে জায়গীরের মাধ্যমে ছাত্রদের অসামান্য খেদমত করে যাছে। এখানেও সরকারের কোনো খরচা নেই। মাগরিব কিছু পরেই বালিয়া মাদরাসায় পৌঁছে যাই। অফিসরূমে মাদরাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা ওয়াইজ উদ্দিন সাহেবের সাথে সালাম মুসাফাহার মাধ্যমে সাখখাতে মিলিত হই। বড়োরা কিভাবে বড়ো হোন প্রথম সাক্ষাতেই তার প্রমাণ পেয়ে যাই। আমার মতো নগণ্যকে হযরত মুহতামিম সাহেব দিলখুলে বরণ করেন, মন খুলে দোয়া করেন। মাদরাসার আজীবন দাতাদের কাতারে শামিল করেন। অধম দ্বারা নতুন ভবনের দোয়া করান। মাদানী দস্তরখানার মাধ্যমে আপ্যায়নে ধন্য করেন। সবিশেষ দোয়া ও হাদিয়ার মাধ্যমে বিদায় জানান।

এ সব হযরত মুহতামিম সাহেবের উদারতার প্রতীক হিসেবে চির ভাস্কর হয়ে থাকবে। আল্লাহ তাআ’লা হযরতের স্বপনকে বাস্তবায়নের নেক তাওফিক দান করুন। বালিয়া মাদরাসা ১৯২৮ইং সালে ফুলপুর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের বালিয়া নামক গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহর এক মকবুল ও মাহবুব মাদরাসা। জনমানুষের নয়নের মাদরাসা। মাদরাসাওয়ালারা এলাকাবাসীকে ভালো বাসেন। এলাকার লোকজনও মাদরাসাকে মন দিয়ে ভালোবাসেন। বালিয়া মাদরাসার মাহফিল মানেই এলাকায় ঈদের আমেজ। নির্ধারিত সময়ের পূর্ব থেকেই মাঠ টুইটুমবুর। দিবারাত চব্বিশ ঘণ্টাই মাঠে সকলের অবস্থান।

উল্লেখ্য, সারা দেশেই এই ধরনের মাদরাসার অভাব নেই, যারা নিঃসার্থ ভাবেই মানুষের খেদমত করে যাছেন। আল্লাহ তাআ’লা কেয়ামত পর্যন্ত এই দীনী মারকাজগুলোকে কবুলিয়তের শানে ভূষিত করুন। আল্লাহর ওলীগণ বাংলার আনাচে কানাচে অসংখ্য দীনী মারকাজ/ খানকাহ/ মসজিদ চালু করে মানুষদের নাজাতের ব্যবসথা করে গেছেন। নূরানী মাদরাসা করে শিশুদের কুরআন হাদিস ও দীন শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। দাওয়াত ও তাবলীগ এর দারা যুবাদের দীন শিক্ষারব্যবস্থা করেন। খানকা চালু করে বুড়োদের দীন শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। মহিলা মাদরাসা চালু করে মহিলাদের দীন শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। দীনের এমন কোনো শোবা বাকী নেই যেখানে তাদের অবদান নেই!

তারপরও চামচিকার চোখ অন্ধই দেখে বৈ কী? কাওমী মাদরাসার অবদান মুসলমানদের সন্তান কে মানুষ বানাবার অবদান। জনমানুষের সম্পদ রখখার অবদান। মানুষকে জান্নাতমুখী করার অবদান। দুনিয়ামুখি মানুষকে আখিরাতমুখী করার অবদান। আল্লাহ তাআ’লা আমাদের সবাইকে হিফাজত করেন। আমীন।
লেখক : শাইখুল হাদিস, জামিয়া আফতাবনগর, ঢাকা

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com