রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪২ অপরাহ্ন

বাবুনগরীর ইন্তেকালে বাকরুদ্ধ আলেম সমাজ

বাবুনগরীর ইন্তেকালে বাকরুদ্ধ আলেম সমাজ

বাবুনগরীর ইন্তেকালে বাকরুদ্ধ আলেম সমাজ

আ মি নু ল  ই স লা ম  কা সে মী

আল্লামা জুনাইদ আহমদ বাবুনগরীর ইন্তেকালে বাকরুদ্ধ আলেম সমাজ। স্তমিত হয়ে পড়েছে। অত্যন্ত ব্যাথা- বেদনার সাগরে যেন হাবুডুবু খাচ্ছে সবাই। একজন প্রথিতযশা আলেম ছিলেন আল্লামা বাবুনগরী। যিনি একজন অতুলনীয় মনিষা। ইসলামী অঙ্গনে যার নির্ভিকতা, দৃঢ়তা,সাহসিকতা ছিল প্রশংসনীয়। সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর দ্বীনের জন্য কোরবানি- ত্যাগ। বহু ত্যাগ- তিতীক্ষা এবং বেদনার সাগর পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। এরপরেও তিনি অত্যন্ত নির্ভিক ভাবে সামনে চলেছেন। একজন মর্দে মুজাহিদের ভূমিকায় ছিলেন প্রতিটি কর্মে। সেই মহান ব্যক্তিত্বের ইন্তেকালে আলেম সমাজ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ল।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ১৯৫৩ সনে ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ৫ বছর বয়সে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর ভর্তি হন। সেখানে কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা মক্তব এবং হেফজ পড়া শেষ করেন। এরপর ভর্তি হন হাটহাজারীতে। ১৯৭৬ সনে দাওরায়ে হাদীস শেষ করেন। এরপর পাকিস্তানের করাচি উলুমুল ইসলামিয়াতে তাখাচ্ছুছ ফিল ফিকাহ এবং অন্যান্য সাবজেক্ট নিয়ে পড়া শুনা করেন।

কর্মজীবন শুরু হয় বাবুনগর মাদ্রাসাতে। সেখানে অল্প দিনে তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এরপর হাটহাজারীতে আসেন। মৃত্যু পর্যন্ত হাটহাজারী কাটিয়ে দিয়ে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেলেন।

আল্লামা বাবুনগরী সাহেব হাইলাইট হয়েছেন হেফাজতের আন্দোলন থেকে। তিনি কারাবরণ করেন। সেই থেকে গণমানুষের মধ্যে তাঁর বাপক পরিচিতি। হেফাজতের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বিগত বছর আল্লামা আহমাদ শফি সাহেব ইন্তেকালের পরে তিনি আমীর নির্বাচিত হন। সারাদেশের আলেম- উলামা এবং ত্বলাবাদের মাঝে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

আজ তাঁর তিরোধান হল। একজন খ্যাতিমান আলেম এবং বলিষ্ঠ নেতার বিদায় ঘন্টা বেজে গেল। এভাবে একের পর এক মুরুব্বী বিদায় নিচ্ছেন। দিনে দিনে আমরা মুরুব্বী শূণ্য হয়ে যাচ্ছি। মুরুব্বীদের যাওয়ার সিরিয়াল যেন লেগেই আছে। দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে নিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের আলেমগণ একেরপর এক দুনিয়া ছেড়ে মহান রবের সান্নিধ্যে চলে যাচ্ছেন।

মাত্র এক/দেড় বছরের ব্যবধানে বহু ছারে তাজ মুরুব্বী বিদায় নিলেন। মাওলানা আশরাফ আলী কুমিল্লা, আল্লামা আহমাদ শফি, আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী, মুফতী ওয়াক্কাস রহিমাহুমুল্লাহ সহ দেশ সেরা আলেমগণ বিদায় চলে গেলেন।

একটা সঙ্গীন মুহূর্ত যাচ্ছে কওমী অঙ্গনের। একেরপর এক মুরুব্বী শূন্যতা। এটা তো পুরণ হওয়ার মত নয়। আল্লামা আহমাদ শফি এর ইন্তেকালের পরে আলেমগণ আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমীকে বটবৃক্ষ মনে করত। কিন্তু তিনি বিদায় নিলেন। এরপর মুফতী ওয়াক্কাসকে মুরুব্বী মেনে আলেমগণ যেন একটা আশ্রয়স্থল খুঁজে পেয়েছিল। তিনিও চলে গেছেন। সর্বশেষ আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীকে আলেমগণ ছারেতাজ মুরুব্বী মনে করতেন। আজ তিনিও নেই। আহ, একদম মুরুব্বী সংকট এখন কওমী অঙ্গনে।

একে একে সকলেই চলে যাচ্ছেন। আমরা যেন এতিম হয়ে যাচ্ছি। যারা আমাদের রাহবারী করতেন এতদিন।তাঁরাই এখন নেই। এ অভাব দুর হবে কীভাবে?

দেওবন্দী মাদ্রাসাগুলোর ছাত্র এবং উস্তাদগণ মুরুব্বীদের অনুসরণ করেন। দেশের সব থেকে বয়োেজ্যেষ্ঠ আলেমকে মেনে চলে সবাই। যে যেখানে থাকেন, তবে মুরুব্বীকে মানেন সবাই। মুরুব্বী ছাড়া কেউ যেন সামনে বাড়েন না। এতদিন এসকল মহারথিগণ জীবিত ছিলেন। তাঁদেরকে সবাই অনুসরণ করত। এখন যেন অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল। বেদনায় ভরেগেল। কওমী অঙ্গনে যেন অমানিশার অন্ধকার জমা হয়েছে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের ইন্তেকালে আলেম সমাজ যেন এখন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নাড়া দিয়েছে সকলের হৃদয়ে। পুরো আলেম সমাজ ব্যথিত।

মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দুআ করি, তিনি যেন হুজুরকে ক্ষমা করে জান্নাতে সুউচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন ছুম্মা আমিন।

লেখক : কওমী মাদরাসার শিক্ষক

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com