মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে উন্নত হাসপাতাল চাই

বাংলাদেশে উন্নত হাসপাতাল চাই

বাংলাদেশে উন্নত হাসপাতাল চাই

খলিল মাহমুদ : উন্নত বা উন্নততর চিকিৎসার জন্য যে-কারো যে-কোনো জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জীবন ও মর্যাদা সাধারণ যে-কোনো নাগরিকের সাথে তুলনা করা অনুচিত বলে মনে করি। যিনি আজীবন দেশ ও দশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে যাচ্ছেন, তাঁর প্রতি দেশ ও জনগণেরই পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো তাঁর বিপদের সময় তাঁর পাশে দাঁড়ানো। তাঁকে বিদেশে পাঠানো হবে কেন- এসব প্রশ্ন আমার কাছে অবান্তর মনে হয়। যাঁদের বিদেশে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আছে, তাঁরা কি বিদেশে যাচ্ছেন না? অবশ্যই যাচ্ছেন। তাহলে একজন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের দায়িত্বেই বিদেশে পাঠানো উচিত বলে মনে করি।

কিন্তু, আমার এ পোস্টের বক্তব্য সেটা না। গতকাল থেকে মাননীয় সেতু মন্ত্রীর ব্যাপারে ফেইসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় অজস্র পোস্ট ও কমেন্ট শেয়ার হচ্ছে। এর মধ্য থেকে জনৈক ফেইসবুকারের ছোটো একটা স্টেটাস সব আলোচনার সারমর্ম বলে দিল- প্রয়োজনের সময় টাকাও কোনো কাজে লাগবে না। আপনারা জানেন যে, যথাসময়েই সব জায়াগায় যোগাযোগ করা হয়েছে, সিঙ্গাপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও সময়মতো বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে, কিন্তু সমস্যা হলো- মন্ত্রী মহোদয়কে বিমানে নেয়া নিরাপদ না, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি শঙ্কামুক্ত না হোন। আল্লাহর অশেষ রহমত যে ইতিমধ্যে (০৪ মার্চ, বিকাল ৪টার দিকে) তাঁকে বিমান যোগে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছে; কিন্তু অবস্থা প্রতিকূল হলে এখনো আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হতো কতক্ষণে তিনি শঙ্কামুক্ত হবেন। চিন্তা করুন, কয়েক বিলিয়ন ডলারও যদি হাসপাতালের বেডে বিছিয়ে রাখা হতো, তা তাঁকে বিমানে ওঠানোর জন্য কোনো কাজে আসতো না।

এই থেকে আমাদের এক বিরাট শিক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে। আমরা কি সিঙ্গাপুর, ইন্ডিয়া বা ব্যাংককের উন্নত হাসপাতালের মতো বাংলাদেশেও সরকারি পর্যায়ে দু-একটা উন্নত হাসপাতাল তৈরি করতে পারি না? এ ব্যাপারে আমার কোনো মেডিকেল নলেজ নেই, এবং আমি কোনো বিশেষজ্ঞও নই, খুব সাধারণ সেন্স থেকে বলতে পারি, নীচের পন্থাগুলো অনুসরণ করলে আমরাও আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এ দেশেই তৈরি করতে পারি, যা করলে আমাদের কাউকে ক্রিটিকাল টাইমে শঙ্কামুক্ত হওয়ার জন্য অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রহর গুনতে হবে নাঃ

১। প্রথমত আন্তর্জাতিক মেডিকেল স্ট্যান্ডার্ড বা মানদণ্ড নির্ণয় করতে হবে, অর্থাৎ কোন মানের হাসপাতাল চাই, তা নির্ণয় করতে হবে।

২। সেই অনুযায়ী উন্নত সরঞ্জামাদির তালিকা, তা পরিচালনার জন্য টেকনিশিয়ান ও স্পেশালিস্ট ডক্টর নির্বাচন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- এসব হাসপাতালের ডাক্তারদের বাইরে প্র্যাক্টিস নিষিদ্ধ করতে হবে। এটা অবশ্য সকল সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের জন্যই প্রযোজ্য। তাঁদের জন্য আলাদা বেতন স্কেল হোক। অতি উচ্চ স্কেলের বেতন হোক। এটা সরকারীও হতে পারে, আবার সরকারী খরচে ‘প্রাইভেটাইযড’ হাসপাতালও হতে পারে।

৪। শুরুতে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের এখানে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে, অন্তত প্রথম ১৫ বছরের জন্য। তাঁদের তত্ত্বাবধানে দেশীয় ডাক্তারগণ প্রশিক্ষিত ও বিশেষায়িত হবার পর পর্যায়ক্রমে বিদেশী ডাক্তারদের নিয়োগ বাতিল করা যেতে পারে।

৫। এটার প্রশাসন পুরোপুরি সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা যেতে পারে।

আপনারা চাইলে আরো ভালো ভালো পরামর্শ যোগ করতে পারেন।

বলতে গেলে, বঙ্গবন্ধু কন্যার একক উদ্যম ও উদ্যোগেই পদ্মাসেতুর মতো ব্যাপক কর্মযজ্ঞ এ দেশে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। উন্নত মানের দু-একটা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়াও তাঁর পক্ষে কঠিন কিছু হবে না বলে মনে করি।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com