রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

বহুরঙের ছাতা ও একটি স্মৃতি

বহুরঙের ছাতা ও একটি স্মৃতি

বহুরঙের ছাতা ও একটি স্মৃতি

আবদুল্লাহ আশরাফ : আজকাল স্মৃতিকথা লেখা হয় না। মূলত লেখালেখি থেকে দূরে থাকার ফল এটা। কেমন একটা বেদনা কাজ করে।সময়ের আগেই নিজের অক্ষমতা প্রকাশ লজ্জাকর; কিন্তু প্রতিনিয়ত এমনটাই করে যাচ্ছি।

শৈশবে আব্বু অনেক কিছু খেয়াল রাখতেন আমার।বিশেষ করে নিজের শৈশবে না পাওয়া জিনিসগুলো থেকে যেন আমি বঞ্চিত না হয়।

সে শৈশব আজও মনের উঠোনে হইচই করে; কিন্তু যখন শৈশবের বন্ধুদের কথা মনে পড়ে- কষ্ট হয়। সেই বন্ধুদের কাছে পাই না। বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও দেখা-সাক্ষাৎ হয় না।কোথায় আছে, কেমন আছে খোঁজ নেই। পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন বলা যায়।

আমার শৈশবটা কেটেছে নানুবাড়িতে। সেখানকার পথঘাট আমাকে টানে;কিন্তু নির্জন বাড়ি। কেউ আর নিয়মিত থাকে না। আপন মামা নেই। বাড়ি-ঘর আছে।মানুষ নেই।মাঝেমধ্যে যাই।বাড়ি থেকে খুব দূরে নয়। পাশের গ্রামে।ক্ষণিক সময়ের চলাচলে চোখে পড়ে না বন্ধুদের।

বহুরঙের একটা ছাতা কিনেছি কিছুদিন আগে।বাড়ির জন্য।প্রায় মা বলেন একটা ছাতার কথা। মনে থাকে না। সে দিন একজনকে কিনে দিতে গিয়ে নিজেও কিনে ফেলি।ছাতাটা হাতে নেয়ার পর একটা স্মৃতি বারবার স্মরণ হচ্ছিল। তখন কতো বোকা ছিলাম! মনে হলেই হাসি পায়।

শৈশবে আব্বু শখ করে আমার জন্য ছাতা কিনে দেয়। ছোট ছাতা। বহুরঙের।সে ছাতাটা নিয়ে রোজ রোজ স্কুলে যেতাম।বন্ধুদের সঙ্গে ছাতার বাহানায় গল্প জমে উঠত।শৈশবটা তো এরকমই।বন্ধু বাড়ানো বা নিজের প্রতি অন্যকে আকৃষ্ট করার একটাই সুযোগ। এখন এসব নেই। আগে একটা কিছু দেখলেই কিনে ফেলার প্রবনতা ছিল না। ফলে নতুন নতুন কৌতূহল সৃষ্টি হতো।হতো পরস্পরে বন্ধুত্ব।

নানু বাড়িটা একটু আলাদা। সাথে আরেকটা বাড়ি মাত্র। অন্যান্য বাড়ি অনেকটা দূরে। ছোটদের মাঝে দুতিনজন ছিলাম। আমি ও খালাতো ভাই। সারাদিন নানা কল্পনায় সময় কাটতো।

খেলার জন্য নানান কিছু আবিষ্কার করা হতো। টিভি বানাতাম। পত্রিকার ছবিগুলো কেটে একটার সঙ্গে অন্যটা জুড়া দিয়ে ফিতার মতো বানিয়ে সামনে দিয়ে প্যাচিয়ে ঘুরাতাম। দূরের বন্ধুদের ডেকে এনে বলতাম দেখ আমি টিভি বানিয়ে ফেলেছি। তখন তো দশ গ্রাম ঘুরে একটা টিভি পাওয়া যেতো না। পাওয়া গেলেও সহজে কাউকে টিভির ঘরে ঢুকতে দিতো না। কৌতূহলটা কী রকম ছিল!! বলার অপেক্ষা রাখে না।

নতুন কিছুর আবিষ্কার করতে গিয়ে আমার নতুন ছাতাটার পর্দা কেটে আলাদা করতে হলো।সারাদিন কাদাপানিতে সেটা নিয়ে দুজন ইচ্ছে মতো খেলা করলাম। পরের দিন স্কুলে যাওয়ার সময় ছাতা পাওয়া চাচ্ছে না।

অনেক অনুসন্ধান করে পিসফল গাছের নিচ থেকে ছাতার ডাশা উদ্ধার করেন আম্মু। দুপুরে আবার সেটা নিয়ে কাদাপানিতে গেঁথে রাখি। রোজ সকালে একবার করে দেখতাম। মজা পেতাম। এখান থেকে নিশ্চয় কোনো কিছু সৃষ্টি হবে। আজব সে কল্পনাকে ছোট করে দেখলেও আমি বলি সে সব কল্পনা কজন দেখতে পারে?

কখনো খেলার জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যেতাম।সহজে সন্ধান করা কষ্টকর হয়ে যেতো। আম্মু অপেক্ষা করতে করতে কেঁদে চোখ ফুলাতেন। সেদিনগুলো নেই। নেই সে পরিবেশ।

আব্বু বাড়ি থাকেন না। কে করবে বিচার? আম্মুকে ভীষণ ভয় পেতাম।উঠোন পেরিয়ে বাইরে আসলে ধরার কেউ ছিল না। নানা বাচ্চাদের মারধর করতেন না। বিশেষ করে দুষ্টুমির জন্য।

১৩/০৮/২০১৯

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved 2018 shilonbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com